০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

কমলগঞ্জে ক্ষোভ: চার বছরেও মিলল না বিধবা ভাতা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষত বিধবা ভাতা নিয়ে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও কেউ সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উপজেলার বহু অসহায় নারী চার বছর আগে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করলে আজও সরকারি এই ভাতা তাদের কাছে পৌঁছায়নি। বারবার সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলেও তারা ‘বরাদ্দ নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রকৃত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত এবং আর্থিকভাবে দুর্বল এসব নারী সরকারি সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী নারী বলছেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। চার বছর আগে ভাতার কার্ডের জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু প্রতিবার গেলে অফিস থেকে বলা হয় বরাদ্দ আসেনি। আমাদের মতো গরিবের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই।”

আরেক ভুক্তভোগী জানান, বয়স্কভাতার জন্য তিনি ২০২৫ সালে আবেদন করেছিলেন, তবু এখনো কোনো খবর নেই। অনেকেই জানিয়েছেন, বরাদ্দ সংকটের কথা বলে অফিসের কাগজে-কলমে না থাকার কারণে বারবার ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সুশীল সমাজ ও ভুক্তভোগীরা এই অনিয়ম ও গাফিলতির বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তাদের অনুরোধ, যোগ্য ও প্রকৃত অসহায়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত ভাতার আওতায় আনা হোক।

কমলগঞ্জ সমাজসেবার দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইউসুফ মিয়া জানিয়েছেন, বরাদ্দ না থাকার কারণে বর্তমানে ভাতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় তদন্ত করে যদি গাফিলতি পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে যথাযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জানা গেছে, সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভুক্তভোগীদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হবে — তাই স্থানীয়রা দ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত করে ভাতাভোগীদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে জোরদারভাবে অনুরোধ করেছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

কমলগঞ্জে ক্ষোভ: চার বছরেও মিলল না বিধবা ভাতা

প্রকাশিতঃ ১১:৩৭:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষত বিধবা ভাতা নিয়ে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও কেউ সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উপজেলার বহু অসহায় নারী চার বছর আগে বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করলে আজও সরকারি এই ভাতা তাদের কাছে পৌঁছায়নি। বারবার সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলেও তারা ‘বরাদ্দ নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রকৃত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত এবং আর্থিকভাবে দুর্বল এসব নারী সরকারি সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী নারী বলছেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর অনেক কষ্টে সংসার চালাচ্ছি। চার বছর আগে ভাতার কার্ডের জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু প্রতিবার গেলে অফিস থেকে বলা হয় বরাদ্দ আসেনি। আমাদের মতো গরিবের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই।”

আরেক ভুক্তভোগী জানান, বয়স্কভাতার জন্য তিনি ২০২৫ সালে আবেদন করেছিলেন, তবু এখনো কোনো খবর নেই। অনেকেই জানিয়েছেন, বরাদ্দ সংকটের কথা বলে অফিসের কাগজে-কলমে না থাকার কারণে বারবার ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সুশীল সমাজ ও ভুক্তভোগীরা এই অনিয়ম ও গাফিলতির বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানিয়েছেন। তাদের অনুরোধ, যোগ্য ও প্রকৃত অসহায়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত ভাতার আওতায় আনা হোক।

কমলগঞ্জ সমাজসেবার দায়িত্বরত কর্মকর্তা ইউসুফ মিয়া জানিয়েছেন, বরাদ্দ না থাকার কারণে বর্তমানে ভাতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় তদন্ত করে যদি গাফিলতি পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে যথাযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জানা গেছে, সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে ভুক্তভোগীদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হবে — তাই স্থানীয়রা দ্রুত বরাদ্দ নিশ্চিত করে ভাতাভোগীদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে জোরদারভাবে অনুরোধ করেছেন।