০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

তিস্তা চর বাগডহড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চর বাগডহড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, কয়েক মাস ধরে প্রতিদিন ট্রাক্টর ভর্তি বালু লোড করে পাশের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে; তবু এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

স্থানীয়দের মতে, তিস্তায় পানি কমে যাওয়ার পরে চরাঞ্চল জেগে ওঠায় সেখানে বালু উত্তোলনের কাজ বেড়ে গেছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শ্রমিক ও ট্রাক্টর দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে এবং বিভিন্ন রুটে সরবরাহ করা হচ্ছে।

চর বাগডহড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘প্রায় চার মাস ধরে এখানে বালু উত্তোলন চলছে। ভোর থেকেই কয়েকটি ট্রাক্টর এসে বালু ভরে একের পর এক ট্রিপ করে নিয়ে যায়। প্রতিদিন আমাদের চোখের সামনে এই কার্যক্রম চলে।’’

অন্য একজন স্থানীয় বাবু বলেন, ‘‘এ জায়গাটি গঙ্গাচড়া উপজেলার হলেও বাইরের লোক এসে এখানে বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফারুক ও বেলাল নামে দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে কয়েকজন শ্রমিক নিয়মিতভাবে এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তবে অভিযোগ পাওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কৃষক মনজুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘‘প্রতিদিন ট্রাক্টরের চলাচল এবং বালু উত্তোলনের ফলে চর এলাকার পরিবেশ ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নদীর চর ও আশপাশের জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’’

অন্য স্থানীয় মোশরেকুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানালেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দরকার আছে।’’

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘‘উল্লিখিত অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। যদি কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’

এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তিস্তা নদীর চর বাগডহড়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তারা নদীর তীর ও কৃষিজমি রক্ষা এবং স্থানীয় জানমাল-পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রশাসনের তৎপরতা চান।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

তিস্তা চর বাগডহড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ

প্রকাশিতঃ ০৩:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চর বাগডহড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, কয়েক মাস ধরে প্রতিদিন ট্রাক্টর ভর্তি বালু লোড করে পাশের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে; তবু এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

স্থানীয়দের মতে, তিস্তায় পানি কমে যাওয়ার পরে চরাঞ্চল জেগে ওঠায় সেখানে বালু উত্তোলনের কাজ বেড়ে গেছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শ্রমিক ও ট্রাক্টর দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে এবং বিভিন্ন রুটে সরবরাহ করা হচ্ছে।

চর বাগডহড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘প্রায় চার মাস ধরে এখানে বালু উত্তোলন চলছে। ভোর থেকেই কয়েকটি ট্রাক্টর এসে বালু ভরে একের পর এক ট্রিপ করে নিয়ে যায়। প্রতিদিন আমাদের চোখের সামনে এই কার্যক্রম চলে।’’

অন্য একজন স্থানীয় বাবু বলেন, ‘‘এ জায়গাটি গঙ্গাচড়া উপজেলার হলেও বাইরের লোক এসে এখানে বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন।’’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফারুক ও বেলাল নামে দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে কয়েকজন শ্রমিক নিয়মিতভাবে এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তবে অভিযোগ পাওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কৃষক মনজুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘‘প্রতিদিন ট্রাক্টরের চলাচল এবং বালু উত্তোলনের ফলে চর এলাকার পরিবেশ ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নদীর চর ও আশপাশের জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’’

অন্য স্থানীয় মোশরেকুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানালেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দরকার আছে।’’

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘‘উল্লিখিত অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। যদি কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’’

এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে তিস্তা নদীর চর বাগডহড়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তারা নদীর তীর ও কৃষিজমি রক্ষা এবং স্থানীয় জানমাল-পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রশাসনের তৎপরতা চান।