০৬:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

রাতের ঝড় অর্ধশত পরিবারের ঈদ আনন্দ ছিনিয়ে নিল

ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত প্রায় দুইটার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র ঝড়ে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ দিক থেকে ধেয়ে আসা ঝড় Dhalchar ও প্রতিবেশী কয়েকটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে যায়; ফলে টিনের চালা উড়ে যাওয়া, কাঁচা বাড়ি ধ্বস হওয়া ও গাছপালা উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটে এবং আক্রান্ত পরিবারগুলো চরম দুর্দশায় পড়েছে।

ঘটনার সময় ঢালচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ রাতে পরিবারের সঙ্গে খাবার খেয়ে ঘুমিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “সেহেরির দুই ঘণ্টা আগে হঠাৎ সামনে থেকে তীব্র বাতাস এসে আমাদের ঘরের চালা উড়িয়ে দিল। ঈদের মাত্র তিন দিন বাকি—ঈদের আগেই আমরা মাথাগোজার ঠাঁই হারিয়ে ফেলেছি। আমার মতো আরও বহু পরিবার রাস্তায় পড়েছে, আমাদের ঈদ-খুশি কেটে গেল।”

ঢালচরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মো. হাসান, মো. ইব্রাহিম, মো. জসিম, আক্তার, মো. রিয়াজ, শাহিন হাওলাদার, মো. আনোয়ার ও মো. গিয়াস উদ্দিন প্রমুখের বাসা-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এতক্ষণে হালকা বাতাসের মতো শুরু হওয়া ঝড় কয় মিনিটের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের আকার নেয়; সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি শিলা বর্ষণও হয়। ফলে কাঁচা ঘরগুলো মুহূর্তেই ধ্বংস হয়েছে, অনেকের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি জিনিসপত্রও নষ্ট হয়েছে। রাতে অন্ধকারে ক্ষতিগ্রস্তরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে যে ঢালচর, কুকরি মুকরি, চর পাতিলা, চর নিজাম, চর ফারুকি, চর মানিকা ও নজরুল নগরসহ কয়েকটি এলাকায় মোট অর্ধশত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চর মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্চপিয়া গ্রামের সেলিম জানান, “আমি ব্যবসায়ী। বাতাসের চাপে বাজারের ঘরের চালা উড়ে গেছে, দোকানের ক্ষতিও হয়েছে।”

ঢালচর ইউনিয়নের প্রশাসক ও বন কর্মকর্তা মুইনুল তাৎক্ষণিকভাবে জানান, ঢালচরে প্রায় ত্রিশটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। চর মানিকা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগম জানিয়েছেন, ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় বিশটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয়রা এখন জরুরি ত্রাণ, স্থায়ী বা অস্থায়ী আশ্রয় ও পোশাক ও খাবারের সহায়তা চান।

স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছে দ্রুত সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তৎপর সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আকান্ত প্রয়োজন রয়েছে, বিশেষত সামনাসামনি আসা ঈদকে মাথায় রেখে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

রাতের ঝড় অর্ধশত পরিবারের ঈদ আনন্দ ছিনিয়ে নিল

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত প্রায় দুইটার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া তীব্র ঝড়ে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। দক্ষিণ দিক থেকে ধেয়ে আসা ঝড় Dhalchar ও প্রতিবেশী কয়েকটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে যায়; ফলে টিনের চালা উড়ে যাওয়া, কাঁচা বাড়ি ধ্বস হওয়া ও গাছপালা উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটে এবং আক্রান্ত পরিবারগুলো চরম দুর্দশায় পড়েছে।

ঘটনার সময় ঢালচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ রাতে পরিবারের সঙ্গে খাবার খেয়ে ঘুমিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “সেহেরির দুই ঘণ্টা আগে হঠাৎ সামনে থেকে তীব্র বাতাস এসে আমাদের ঘরের চালা উড়িয়ে দিল। ঈদের মাত্র তিন দিন বাকি—ঈদের আগেই আমরা মাথাগোজার ঠাঁই হারিয়ে ফেলেছি। আমার মতো আরও বহু পরিবার রাস্তায় পড়েছে, আমাদের ঈদ-খুশি কেটে গেল।”

ঢালচরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে মো. হাসান, মো. ইব্রাহিম, মো. জসিম, আক্তার, মো. রিয়াজ, শাহিন হাওলাদার, মো. আনোয়ার ও মো. গিয়াস উদ্দিন প্রমুখের বাসা-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এতক্ষণে হালকা বাতাসের মতো শুরু হওয়া ঝড় কয় মিনিটের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ের আকার নেয়; সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি শিলা বর্ষণও হয়। ফলে কাঁচা ঘরগুলো মুহূর্তেই ধ্বংস হয়েছে, অনেকের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি জিনিসপত্রও নষ্ট হয়েছে। রাতে অন্ধকারে ক্ষতিগ্রস্তরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় জানিয়েছে যে ঢালচর, কুকরি মুকরি, চর পাতিলা, চর নিজাম, চর ফারুকি, চর মানিকা ও নজরুল নগরসহ কয়েকটি এলাকায় মোট অর্ধশত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চর মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্চপিয়া গ্রামের সেলিম জানান, “আমি ব্যবসায়ী। বাতাসের চাপে বাজারের ঘরের চালা উড়ে গেছে, দোকানের ক্ষতিও হয়েছে।”

ঢালচর ইউনিয়নের প্রশাসক ও বন কর্মকর্তা মুইনুল তাৎক্ষণিকভাবে জানান, ঢালচরে প্রায় ত্রিশটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। চর মানিকা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগম জানিয়েছেন, ওই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় বিশটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয়রা এখন জরুরি ত্রাণ, স্থায়ী বা অস্থায়ী আশ্রয় ও পোশাক ও খাবারের সহায়তা চান।

স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কাছে দ্রুত সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তৎপর সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আকান্ত প্রয়োজন রয়েছে, বিশেষত সামনাসামনি আসা ঈদকে মাথায় রেখে।