০১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ট্রাম্প: আমি ও আয়াতুল্লাহ মিলে হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব রেখেছেন—তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যৌথভাবে এই কৌশলগত নৌপথটি নিয়ন্ত্রণ করবে। গত সোমবার সিএনএন-কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মাসব্যাপী বন্ধ থাকা হরমুজ খুব শিগগিরই খুলে দেওয়া হতে পারে এবং এ বিষয়ে ইরানের সঙ্গে গোপন আলোচনা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।

ট্রাম্প জানান, আলোচনা যদি ঠিকঠাক এগোয় তাহলে হরমুজ ‘খুব শিগগিরই’ চালু হবে। তিনি আরও দাবি করেন, এই জলপথ ভবিষ্যতে যৌথভাবে পরিচালিত হবে এবং নিজস্ব আক্রমণভঙ্গিতে বললেন, ‘আমি আর আয়াতুল্লাহ মিলে এটি নিয়ন্ত্রণ করব—সে বর্তমান আয়াতুল্লাহ হোন কিংবা পরবর্তী কেউ।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন যে, আলোচনার টেবিলে ইতিমধ্যেই ইরানের এক ‘শীর্ষ’ ব্যক্তির সঙ্গেও কথা হয়েছে, কিন্তু সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে নয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দেয়া বিমান হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ ব্যবহার করা হয়—এজন্য এর দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধের শুরুতে চালানো হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় কিছু নেতৃত্ব নিহত হওয়ায় দেশটিতে নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আসছে এবং তা ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবেই’ ঘটবে। তিনি বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ থেকে একদল যুক্তিবাদী ও দৃঢ়চেতা লোকের সঙ্গে কথাও চলছে, যারা সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে।

ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প আরও এক রহস্যময় মন্তব্য করেছেন—তিনি বলেছেন, কি-না ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি ইরানের ‘একজন শীর্ষ ব্যক্তির’ সঙ্গে কথা বলেছেন, তবে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে নয়; এমনকি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জীবিত আছেন কি না সেই বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের গোয়েন্দা ও কূটনীতি মহলে নতুন শোরগোল তুলেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলেন, যদি বাস্তবে হরমুজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যৌথ নিয়ন্ত্রণ বসে, তা হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে চার দশক ধরে চলা বৈরিতার একটি যুগান্তকারী মোড়। তবে এই প্রস্তাবের অন্তরালে কারা—কীভাবে ও কী শর্তে আছেন, এবং ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোথায় মোড় নেবে—এসব এখনই পরিষ্কার নয়। বিশিষ্ট পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিশ্ব এখন হরমুজ পুনরায় খোলার চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রয়েছে, কারণ তা বিশ্ববাজারে জ্বালানির স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ট্রাম্প: আমি ও আয়াতুল্লাহ মিলে হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করব

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব রেখেছেন—তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যৌথভাবে এই কৌশলগত নৌপথটি নিয়ন্ত্রণ করবে। গত সোমবার সিএনএন-কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মাসব্যাপী বন্ধ থাকা হরমুজ খুব শিগগিরই খুলে দেওয়া হতে পারে এবং এ বিষয়ে ইরানের সঙ্গে গোপন আলোচনা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।

ট্রাম্প জানান, আলোচনা যদি ঠিকঠাক এগোয় তাহলে হরমুজ ‘খুব শিগগিরই’ চালু হবে। তিনি আরও দাবি করেন, এই জলপথ ভবিষ্যতে যৌথভাবে পরিচালিত হবে এবং নিজস্ব আক্রমণভঙ্গিতে বললেন, ‘আমি আর আয়াতুল্লাহ মিলে এটি নিয়ন্ত্রণ করব—সে বর্তমান আয়াতুল্লাহ হোন কিংবা পরবর্তী কেউ।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন যে, আলোচনার টেবিলে ইতিমধ্যেই ইরানের এক ‘শীর্ষ’ ব্যক্তির সঙ্গেও কথা হয়েছে, কিন্তু সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে নয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দেয়া বিমান হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ ব্যবহার করা হয়—এজন্য এর দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধের শুরুতে চালানো হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় কিছু নেতৃত্ব নিহত হওয়ায় দেশটিতে নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আসছে এবং তা ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবেই’ ঘটবে। তিনি বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ থেকে একদল যুক্তিবাদী ও দৃঢ়চেতা লোকের সঙ্গে কথাও চলছে, যারা সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে।

ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প আরও এক রহস্যময় মন্তব্য করেছেন—তিনি বলেছেন, কি-না ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি ইরানের ‘একজন শীর্ষ ব্যক্তির’ সঙ্গে কথা বলেছেন, তবে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে নয়; এমনকি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জীবিত আছেন কি না সেই বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের গোয়েন্দা ও কূটনীতি মহলে নতুন শোরগোল তুলেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলেন, যদি বাস্তবে হরমুজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যৌথ নিয়ন্ত্রণ বসে, তা হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে চার দশক ধরে চলা বৈরিতার একটি যুগান্তকারী মোড়। তবে এই প্রস্তাবের অন্তরালে কারা—কীভাবে ও কী শর্তে আছেন, এবং ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোথায় মোড় নেবে—এসব এখনই পরিষ্কার নয়। বিশিষ্ট পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিশ্ব এখন হরমুজ পুনরায় খোলার চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রয়েছে, কারণ তা বিশ্ববাজারে জ্বালানির স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।