০৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবद्धভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঋণের জট খুলছে: ১.৩ বিলিয়ন ডলারের কিস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা শিক্ষার ক্ষতিপূরণে ১০টি শনিবার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার নির্দেশ জুলাই দায়মুক্তি অধ্যাদেশে সবাই একমত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তোরণ-পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ দেড় যুগ পর ফিরে আসছে স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহ্যবাহী সামরিক কুচকাওয়াজ ডেপুটি স্পিকারের স্বেচ্ছাসেবীদের মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান ঈদের সফরে কুমিল্লার কোটবাড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় রূপগঞ্জের ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈদ ছুটির পর মঙ্গলবার থেকে অফিস, আদালত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা

ট্রাম্প: আমি ও আয়াতুল্লাহ মিলে হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব রেখেছেন—তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যৌথভাবে এই কৌশলগত নৌপথটি নিয়ন্ত্রণ করবে। গত সোমবার সিএনএন-কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মাসব্যাপী বন্ধ থাকা হরমুজ খুব শিগগিরই খুলে দেওয়া হতে পারে এবং এ বিষয়ে ইরানের সঙ্গে গোপন আলোচনা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।

ট্রাম্প জানান, আলোচনা যদি ঠিকঠাক এগোয় তাহলে হরমুজ ‘খুব শিগগিরই’ চালু হবে। তিনি আরও দাবি করেন, এই জলপথ ভবিষ্যতে যৌথভাবে পরিচালিত হবে এবং নিজস্ব আক্রমণভঙ্গিতে বললেন, ‘আমি আর আয়াতুল্লাহ মিলে এটি নিয়ন্ত্রণ করব—সে বর্তমান আয়াতুল্লাহ হোন কিংবা পরবর্তী কেউ।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন যে, আলোচনার টেবিলে ইতিমধ্যেই ইরানের এক ‘শীর্ষ’ ব্যক্তির সঙ্গেও কথা হয়েছে, কিন্তু সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে নয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দেয়া বিমান হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ ব্যবহার করা হয়—এজন্য এর দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধের শুরুতে চালানো হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় কিছু নেতৃত্ব নিহত হওয়ায় দেশটিতে নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আসছে এবং তা ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবেই’ ঘটবে। তিনি বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ থেকে একদল যুক্তিবাদী ও দৃঢ়চেতা লোকের সঙ্গে কথাও চলছে, যারা সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে।

ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প আরও এক রহস্যময় মন্তব্য করেছেন—তিনি বলেছেন, কি-না ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি ইরানের ‘একজন শীর্ষ ব্যক্তির’ সঙ্গে কথা বলেছেন, তবে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে নয়; এমনকি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জীবিত আছেন কি না সেই বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের গোয়েন্দা ও কূটনীতি মহলে নতুন শোরগোল তুলেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলেন, যদি বাস্তবে হরমুজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যৌথ নিয়ন্ত্রণ বসে, তা হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে চার দশক ধরে চলা বৈরিতার একটি যুগান্তকারী মোড়। তবে এই প্রস্তাবের অন্তরালে কারা—কীভাবে ও কী শর্তে আছেন, এবং ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোথায় মোড় নেবে—এসব এখনই পরিষ্কার নয়। বিশিষ্ট পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিশ্ব এখন হরমুজ পুনরায় খোলার চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রয়েছে, কারণ তা বিশ্ববাজারে জ্বালানির স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবद्धভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ট্রাম্প: আমি ও আয়াতুল্লাহ মিলে হরমুজ নিয়ন্ত্রণ করব

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব রেখেছেন—তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যৌথভাবে এই কৌশলগত নৌপথটি নিয়ন্ত্রণ করবে। গত সোমবার সিএনএন-কে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মাসব্যাপী বন্ধ থাকা হরমুজ খুব শিগগিরই খুলে দেওয়া হতে পারে এবং এ বিষয়ে ইরানের সঙ্গে গোপন আলোচনা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।

ট্রাম্প জানান, আলোচনা যদি ঠিকঠাক এগোয় তাহলে হরমুজ ‘খুব শিগগিরই’ চালু হবে। তিনি আরও দাবি করেন, এই জলপথ ভবিষ্যতে যৌথভাবে পরিচালিত হবে এবং নিজস্ব আক্রমণভঙ্গিতে বললেন, ‘আমি আর আয়াতুল্লাহ মিলে এটি নিয়ন্ত্রণ করব—সে বর্তমান আয়াতুল্লাহ হোন কিংবা পরবর্তী কেউ।’ সেইসঙ্গে তিনি বলেন যে, আলোচনার টেবিলে ইতিমধ্যেই ইরানের এক ‘শীর্ষ’ ব্যক্তির সঙ্গেও কথা হয়েছে, কিন্তু সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে নয়।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দেয়া বিমান হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ ব্যবহার করা হয়—এজন্য এর দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধের শুরুতে চালানো হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় কিছু নেতৃত্ব নিহত হওয়ায় দেশটিতে নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আসছে এবং তা ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবেই’ ঘটবে। তিনি বলেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ থেকে একদল যুক্তিবাদী ও দৃঢ়চেতা লোকের সঙ্গে কথাও চলছে, যারা সংঘাত নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে।

ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প আরও এক রহস্যময় মন্তব্য করেছেন—তিনি বলেছেন, কি-না ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি ইরানের ‘একজন শীর্ষ ব্যক্তির’ সঙ্গে কথা বলেছেন, তবে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে নয়; এমনকি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জীবিত আছেন কি না সেই বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের গোয়েন্দা ও কূটনীতি মহলে নতুন শোরগোল তুলেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলেন, যদি বাস্তবে হরমুজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যৌথ নিয়ন্ত্রণ বসে, তা হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে চার দশক ধরে চলা বৈরিতার একটি যুগান্তকারী মোড়। তবে এই প্রস্তাবের অন্তরালে কারা—কীভাবে ও কী শর্তে আছেন, এবং ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোথায় মোড় নেবে—এসব এখনই পরিষ্কার নয়। বিশিষ্ট পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিশ্ব এখন হরমুজ পুনরায় খোলার চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রয়েছে, কারণ তা বিশ্ববাজারে জ্বালানির স্থিতিশীলতা ফেরানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।