০১:১৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

একুশে পদকপ্রাপ্ত নজরুলসংগীত শিল্পী ডালিয়া নওশীন আর নেই

বাংলাদেশের বরেণ্য নজরুলসংগীত শিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ডালিয়া নওশীন আর নেই। বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তাঁর প্রয়াণের সংবাদে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। গত ২৭ মার্চ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি জীবনেরWarefare পর্যায়ে পৌঁছে গেলেন। সব চিকিৎসা সেবা ও প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি আর বাড়তে পারলেন না।

ডালিয়া নওশীনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর খালাতোবোন ও প্রথিতযশা নজরুলসংগীত শিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক। পারিবারিক সূত্র জানায়, আজ বাদ মাগরিব গুলশান সোসাইটি মসজিদে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদায় বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন; তাঁদের মধ্যে একজন বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং অন্যজন স্পেনে বসবাস করছেন। তিনি দেশের প্রখ্যাত স্থপতি হাজী মঞ্জুরুল ইসলামের কন্যা—প্রসিদ্ধ স্থপতি মাজহারুল ইসলামের সুযোগ্য কন্যা হিসেবে পরিবারেও পরিচিত ছিলেন।

সংগীত ও স্বাধীনতার ইতিহাসে ডালিয়া নওশীনের ভূমিকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সক্রিয় কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে তাঁর গান মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে এবং জনগণের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নজরুলসংগীতের শুদ্ধচর্চা ও প্রসারে দীর্ঘদিন তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

সরকার ২০২০ সালে সংগীতে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করে। তাঁর প্রয়াণে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন থেকে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

এক প্রতিভাবান শিল্পী, দেশপ্রেমিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রদূতকে হারিয়ে বাংলাদেশ এক মূল্যবান মানুষকে হারাল। ডালিয়া নওশীনের সুর, সাহসিকতা ও উজ্জ্বল স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

একুশে পদকপ্রাপ্ত নজরুলসংগীত শিল্পী ডালিয়া নওশীন আর নেই

প্রকাশিতঃ ০২:২১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশের বরেণ্য নজরুলসংগীত শিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ডালিয়া নওশীন আর নেই। বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তাঁর প্রয়াণের সংবাদে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই তিনি মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। গত ২৭ মার্চ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি জীবনেরWarefare পর্যায়ে পৌঁছে গেলেন। সব চিকিৎসা সেবা ও প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি আর বাড়তে পারলেন না।

ডালিয়া নওশীনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর খালাতোবোন ও প্রথিতযশা নজরুলসংগীত শিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক। পারিবারিক সূত্র জানায়, আজ বাদ মাগরিব গুলশান সোসাইটি মসজিদে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদায় বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন; তাঁদের মধ্যে একজন বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং অন্যজন স্পেনে বসবাস করছেন। তিনি দেশের প্রখ্যাত স্থপতি হাজী মঞ্জুরুল ইসলামের কন্যা—প্রসিদ্ধ স্থপতি মাজহারুল ইসলামের সুযোগ্য কন্যা হিসেবে পরিবারেও পরিচিত ছিলেন।

সংগীত ও স্বাধীনতার ইতিহাসে ডালিয়া নওশীনের ভূমিকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সক্রিয় কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে তাঁর গান মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে এবং জনগণের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নজরুলসংগীতের শুদ্ধচর্চা ও প্রসারে দীর্ঘদিন তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

সরকার ২০২০ সালে সংগীতে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করে। তাঁর প্রয়াণে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন থেকে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

এক প্রতিভাবান শিল্পী, দেশপ্রেমিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রদূতকে হারিয়ে বাংলাদেশ এক মূল্যবান মানুষকে হারাল। ডালিয়া নওশীনের সুর, সাহসিকতা ও উজ্জ্বল স্মৃতি মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে।