০৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

তামাক কর কাঠামো সংস্কারের জোরদার অনুরোধ—টেকসই, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতির দাবি

তামাক খাতে করনীতি হওয়া উচিত সহজ, স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই—এমনটাই বক্তব্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এমন একটি বাস্তবসম্মত কর কাঠামো দরকার যা রাজস্ব নিশ্চিত রাখার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকেও সহায়তা করবে।

বুধবার ০১ মার্চ রাজধানীর বনানীর পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে ‘তামাক কর: স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব বনাম দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এই সব বিষয় তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠান উপলক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের প্রতিনিধि। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পিআরআইর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার এবং আলোচনা সঞ্চালনা করেন পিআরআইর মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান।

প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তামাক খাতে কর ও মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও রাজস্বের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত নয়। ২০২৪ সালের জুন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যে কর ও মূল্য বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে, তার ফলে বাজারে সিগারেটের বিক্রি কমে যায় এবং ফলস্বরূপ রাজস্ব বৃদ্ধিও সীমিত থাকে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ আছে, দেশে তামাকের ওপর মোট করের হার প্রায় ৮৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে—বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি অন্যতম উচ্চ স্তর। এই অবস্থায় শুধুমাত্র কর বাড়িয়ে আরও রাজস্ব অর্জনের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ঘনঘন ও আকস্মিক কর-মূল্য পরিবর্তন বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে, ভোক্তাদের নীচু মূল্যের পণ্যে নামায় এবং অবৈধ বাণিজ্যের সুযোগ বাড়ায়। বর্তমান বহুস্তর কর কাঠামো জটিল হওয়ায় রাজস্ব পূর্বাভাসও দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাই ধাপে ধাপে মূল্যভিত্তিক (ad valorem) কর পদ্ধতি থেকে সুনির্দিষ্ট (specific) কর পদ্ধতিতে রূপান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়—যা বাস্তবায়নে সহজ এবং রাজস্ব সংগ্রহেও সহায়ক হতে পারে।

অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, বর্তমান কাঠামোর কারণে বৈধ উৎপাদকদের মুনাফা কমে যাওয়ায় অবৈধ বাণিজ্য তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে।

অবশেষে অংশগ্রহণকারীরা সমন্বিত ও দৃষ্টিভঙ্গিপূর্ণ নীতির প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন—টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ সহায়তা এবং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখন সময়ের দাবি একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য তামাক কর কাঠামো গঠন করা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

তামাক কর কাঠামো সংস্কারের জোরদার অনুরোধ—টেকসই, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতির দাবি

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

তামাক খাতে করনীতি হওয়া উচিত সহজ, স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই—এমনটাই বক্তব্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এমন একটি বাস্তবসম্মত কর কাঠামো দরকার যা রাজস্ব নিশ্চিত রাখার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকেও সহায়তা করবে।

বুধবার ০১ মার্চ রাজধানীর বনানীর পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে ‘তামাক কর: স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব বনাম দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এই সব বিষয় তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠান উপলক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের প্রতিনিধि। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পিআরআইর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার এবং আলোচনা সঞ্চালনা করেন পিআরআইর মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান।

প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তামাক খাতে কর ও মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও রাজস্বের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত নয়। ২০২৪ সালের জুন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যে কর ও মূল্য বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে, তার ফলে বাজারে সিগারেটের বিক্রি কমে যায় এবং ফলস্বরূপ রাজস্ব বৃদ্ধিও সীমিত থাকে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ আছে, দেশে তামাকের ওপর মোট করের হার প্রায় ৮৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে—বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি অন্যতম উচ্চ স্তর। এই অবস্থায় শুধুমাত্র কর বাড়িয়ে আরও রাজস্ব অর্জনের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ঘনঘন ও আকস্মিক কর-মূল্য পরিবর্তন বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে, ভোক্তাদের নীচু মূল্যের পণ্যে নামায় এবং অবৈধ বাণিজ্যের সুযোগ বাড়ায়। বর্তমান বহুস্তর কর কাঠামো জটিল হওয়ায় রাজস্ব পূর্বাভাসও দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাই ধাপে ধাপে মূল্যভিত্তিক (ad valorem) কর পদ্ধতি থেকে সুনির্দিষ্ট (specific) কর পদ্ধতিতে রূপান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়—যা বাস্তবায়নে সহজ এবং রাজস্ব সংগ্রহেও সহায়ক হতে পারে।

অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, বর্তমান কাঠামোর কারণে বৈধ উৎপাদকদের মুনাফা কমে যাওয়ায় অবৈধ বাণিজ্য তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে।

অবশেষে অংশগ্রহণকারীরা সমন্বিত ও দৃষ্টিভঙ্গিপূর্ণ নীতির প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন—টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ সহায়তা এবং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখন সময়ের দাবি একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য তামাক কর কাঠামো গঠন করা।