১০:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি: জ্বালানি, মূল্যস্ফীতি ও ডলারের চাপ জ্বালানি সঙ্কটে অফিস সময় বদল — সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা জ্বালানি সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে দোকান-শপিংমল বন্ধের ঘোষণা হরমুজ এড়িয়ে ইয়ানবু থেকে বিকল্প পথে ১ লক্ষ টন তেল চট্টগ্রামে আসছে সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী নিযুক্ত দেশে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র, মোট ক্ষমতা ২৮,৯১৯ মেগাওয়াট: বিদ্যুৎমন্ত্রী এলপি গ্যাসের দাম একলাফে বাড়ল, ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ১,৭২৮ টাকা বিজন কান্তি সরকার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিযুক্ত আগামী ঈদে সড়ক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হবে: সেতু ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ত্রয়োদশ সংসদের সংসদ কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত

তামাক কর কাঠামো সংস্কারের জোরদার অনুরোধ—টেকসই, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতির দাবি

তামাক খাতে করনীতি হওয়া উচিত সহজ, স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই—এমনটাই বক্তব্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এমন একটি বাস্তবসম্মত কর কাঠামো দরকার যা রাজস্ব নিশ্চিত রাখার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকেও সহায়তা করবে।

বুধবার ০১ মার্চ রাজধানীর বনানীর পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে ‘তামাক কর: স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব বনাম দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এই সব বিষয় তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠান উপলক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের প্রতিনিধि। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পিআরআইর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার এবং আলোচনা সঞ্চালনা করেন পিআরআইর মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান।

প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তামাক খাতে কর ও মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও রাজস্বের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত নয়। ২০২৪ সালের জুন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যে কর ও মূল্য বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে, তার ফলে বাজারে সিগারেটের বিক্রি কমে যায় এবং ফলস্বরূপ রাজস্ব বৃদ্ধিও সীমিত থাকে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ আছে, দেশে তামাকের ওপর মোট করের হার প্রায় ৮৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে—বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি অন্যতম উচ্চ স্তর। এই অবস্থায় শুধুমাত্র কর বাড়িয়ে আরও রাজস্ব অর্জনের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ঘনঘন ও আকস্মিক কর-মূল্য পরিবর্তন বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে, ভোক্তাদের নীচু মূল্যের পণ্যে নামায় এবং অবৈধ বাণিজ্যের সুযোগ বাড়ায়। বর্তমান বহুস্তর কর কাঠামো জটিল হওয়ায় রাজস্ব পূর্বাভাসও দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাই ধাপে ধাপে মূল্যভিত্তিক (ad valorem) কর পদ্ধতি থেকে সুনির্দিষ্ট (specific) কর পদ্ধতিতে রূপান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়—যা বাস্তবায়নে সহজ এবং রাজস্ব সংগ্রহেও সহায়ক হতে পারে।

অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, বর্তমান কাঠামোর কারণে বৈধ উৎপাদকদের মুনাফা কমে যাওয়ায় অবৈধ বাণিজ্য তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে।

অবশেষে অংশগ্রহণকারীরা সমন্বিত ও দৃষ্টিভঙ্গিপূর্ণ নীতির প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন—টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ সহায়তা এবং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখন সময়ের দাবি একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য তামাক কর কাঠামো গঠন করা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জ্বালানি সঙ্কটে অফিস সময় বদল — সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা

তামাক কর কাঠামো সংস্কারের জোরদার অনুরোধ—টেকসই, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতির দাবি

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

তামাক খাতে করনীতি হওয়া উচিত সহজ, স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই—এমনটাই বক্তব্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এমন একটি বাস্তবসম্মত কর কাঠামো দরকার যা রাজস্ব নিশ্চিত রাখার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকেও সহায়তা করবে।

বুধবার ০১ মার্চ রাজধানীর বনানীর পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে ‘তামাক কর: স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব বনাম দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এই সব বিষয় তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠান উপলক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের প্রতিনিধि। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পিআরআইর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার এবং আলোচনা সঞ্চালনা করেন পিআরআইর মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান।

প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তামাক খাতে কর ও মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও রাজস্বের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত নয়। ২০২৪ সালের জুন এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যে কর ও মূল্য বৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে, তার ফলে বাজারে সিগারেটের বিক্রি কমে যায় এবং ফলস্বরূপ রাজস্ব বৃদ্ধিও সীমিত থাকে। রিপোর্টে আরও উল্লেখ আছে, দেশে তামাকের ওপর মোট করের হার প্রায় ৮৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে—বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি অন্যতম উচ্চ স্তর। এই অবস্থায় শুধুমাত্র কর বাড়িয়ে আরও রাজস্ব অর্জনের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ঘনঘন ও আকস্মিক কর-মূল্য পরিবর্তন বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে, ভোক্তাদের নীচু মূল্যের পণ্যে নামায় এবং অবৈধ বাণিজ্যের সুযোগ বাড়ায়। বর্তমান বহুস্তর কর কাঠামো জটিল হওয়ায় রাজস্ব পূর্বাভাসও দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাই ধাপে ধাপে মূল্যভিত্তিক (ad valorem) কর পদ্ধতি থেকে সুনির্দিষ্ট (specific) কর পদ্ধতিতে রূপান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়—যা বাস্তবায়নে সহজ এবং রাজস্ব সংগ্রহেও সহায়ক হতে পারে।

অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, বর্তমান কাঠামোর কারণে বৈধ উৎপাদকদের মুনাফা কমে যাওয়ায় অবৈধ বাণিজ্য তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে।

অবশেষে অংশগ্রহণকারীরা সমন্বিত ও দৃষ্টিভঙ্গিপূর্ণ নীতির প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেন—টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ সহায়তা এবং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখন সময়ের দাবি একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য তামাক কর কাঠামো গঠন করা।