দীর্ঘ আইনগত লড়াই ও সেন্সর সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে দক্ষিণ ভারতীয় সুপারস্টার থালাপথি বিজয়ের বহুল আলোচিত ছবি ‘জন নায়গন’ মুক্তির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। রাজনৈতিক অ্যাকশন-ড্রামা žশিল্পটি আগামী ৮ মে বিশ্বজুড়ে একই সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহে দেখা যাবে — এবং এটি হবে বিজয়ের অভিনয় ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক বিদায় নির্দেশ করে এমন একটি চলচ্চিত্র, কারণ তিনি সম্প্রতি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। এই খবর ভক্ত ও সাধারণ দর্শকের মধ্যে উদ্দীপনা ও প্রত্যাশা আরও বাড়িয়েছে।
এইচ বিনোথ পরিচালিত বড় প্রজেক্টে বিজয়কে দেখা যাবে একজন প্রাক্তন পুলিশ অফিসারের শক্তিশালী চরিত্রে। প্রধান খলনায়ক হিসেবে উপস্থিত আছেন বলিউড তারকা ববি দেওল, আর কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে। পাশাপাশি মামিথা বাইজু, গৌতম বাসুদেব মেনন, প্রকাশ রাজ এবং প্রিয়ামণি সহ একের পর এক অভিজ্ঞ অভিনেতা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নিয়েছেন, যা সিনেমার আকর্ষণ আরও বাড়িয়েছে।
কেভিএন প্রোডাকশনের এই ছবিটি মূলত ২০২৬ সালের পঙ্গল উৎসবের জন্য মুক্তির কথা ছিল এবং মুক্তির পূর্বেই বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অগ্রিম টিকিট বিক্রির রেকর্ডও করেছিল। তবে সেন্সর বোর্ড ও কিছু আইনি বাধা ছবির মুক্তি পিছিয়ে দিয়েছিল। কয়েক মাসের অনিশ্চয়তার পর নির্মাণ ও পোস্টপ্রোডাকশন সম্পন্ন করে এখন ছবিটি মুক্তির জন্য পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, ‘জন নায়গন’ তামিলনাড়ু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ঠিক পরপরই মুক্তি পাচ্ছে—এটি রাজনীতিতে সক্রিয় বিজয় ও তাঁর দলের পারফরম্যান্সকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের ফলাফল ছবির বক্স অফিস যাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে কিছু দৃশ্য অনলাইনে ফাঁস হওয়ার ঘটনায় আগাম আয়ের ওপর আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবু চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করাচ্ছেন যে বিজয়ের প্রচণ্ড জনপ্রিয়তা ও স্টার পাওয়ার এসব বাধা কেটে যাবে।
দর্শকরা ‘জন নায়গন’-কে কেবল একটি অ্যাকশন ছবি হিসেবে দেখছেন না; অনেকের কাছে এটি বিজয়ের তিন দশকের সিনেমাজীবনের এক আবেগঘন সমাপ্তি। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিপুল ভক্তসমাজ শেষবারের মতো বড় পর্দায় প্রিয় তারকাকে দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। বক্স অফিসে ছবিটি কি নতুন কোনো রেকর্ড গড়তে পারবে এবং বিজয়ের বিদায়ী যাত্রা কতটা তৎপর ও রোমাঞ্চকর হবে—এটাই এখন দেখার বিষয়।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























