০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তামাক কর কাঠামো সংস্কারে জোর, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতির দাবি

তামাক খাতে করনীতি সহজ, স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করা জরুরি—এ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট দক্ষ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মত, এমন একটি বাস্তবসম্মত কর কাঠামো দরকার যা রাজস্ব আদায় বজায় রাখার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতা ও সামগ্রিক অর্থনীতিকেও সহায়তা করবে।

বুধবার (০১ মার্চ) রাজধানীর বনানীর পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে ‘তামাক কর: স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব বনাম দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের একজন প্রতিনিধি। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পিআরআই’র গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার এবং আলোচনা সঞ্চালনা করেন পিআরআই’র মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান।

প্রধান প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তামাক খাতে কর ও মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে হলেও রাজস্ব বৃদ্ধির রেট প্রত্যাশিত নয়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুন ও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে করা কর‑ও মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাজারে সিগারেট বিক্রি কমে যায়, যার প্রভাবেই রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত থাকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে তামাকের ওপর করের হার প্রায় ৮৩ শতাংশে পৌঁছে গেছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অন্যতম উচ্চ। এই অবস্থায় শুধুমাত্র কর বাড়িয়ে আরও বেশি রাজস্ব আহরণ করার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। এছাড়া আকস্মিক কর ও মূল্য সমন্বয় বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং অবৈধ বাণিজ্য বৃদ্ধির পথ খুলে দিচ্ছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, রাজস্ব আহরণ এবং বাজার স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে একটি কাঠামোগত ও পূর্বানুমানযোগ্য করনীতি জরুরি। ঘন ঘন কর ও মূল্য পরিবর্তন ভোক্তাদের কম মুল্যের পণ্যের দিকে ঠেলে দেয় এবং বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ায়। বিদ্যমান বহুস্তর কর কাঠামো জটিল হওয়ায় রাজস্ব পূর্বাভাসও দুর্বল হচ্ছে—এই কারণেই তারা ধীরে ধীরে মূল্যভিত্তিক কর পদ্ধতি থেকে সুনির্দিষ্ট (specific) কর পদ্ধতিতে রূপান্তরের সুপারিশ করেন, যা বাস্তবায়নে সহজ এবং রাজস্ব আদায়েও সহায়ক হবে।

অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা বাড়ানো, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, বর্তমান কাঠামোর কারণে বৈধ উৎপাদকদের লাভ কমে যাওয়ায় অবৈধ বাণিজ্য তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক হয়ে উঠছে।

সংক্ষেপে, তারা মনে করেন—টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে, বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে এবং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এখনই একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও দূরদর্শী তামাক কর কাঠামো সাজানো প্রয়োজন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

তামাক কর কাঠামো সংস্কারে জোর, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতির দাবি

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

তামাক খাতে করনীতি সহজ, স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করা জরুরি—এ দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট দক্ষ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মত, এমন একটি বাস্তবসম্মত কর কাঠামো দরকার যা রাজস্ব আদায় বজায় রাখার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতা ও সামগ্রিক অর্থনীতিকেও সহায়তা করবে।

বুধবার (০১ মার্চ) রাজধানীর বনানীর পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে ‘তামাক কর: স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব বনাম দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের একজন প্রতিনিধি। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পিআরআই’র গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার এবং আলোচনা সঞ্চালনা করেন পিআরআই’র মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান।

প্রধান প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তামাক খাতে কর ও মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে হলেও রাজস্ব বৃদ্ধির রেট প্রত্যাশিত নয়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুন ও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে করা কর‑ও মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাজারে সিগারেট বিক্রি কমে যায়, যার প্রভাবেই রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত থাকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে তামাকের ওপর করের হার প্রায় ৮৩ শতাংশে পৌঁছে গেছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অন্যতম উচ্চ। এই অবস্থায় শুধুমাত্র কর বাড়িয়ে আরও বেশি রাজস্ব আহরণ করার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। এছাড়া আকস্মিক কর ও মূল্য সমন্বয় বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং অবৈধ বাণিজ্য বৃদ্ধির পথ খুলে দিচ্ছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, রাজস্ব আহরণ এবং বাজার স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে একটি কাঠামোগত ও পূর্বানুমানযোগ্য করনীতি জরুরি। ঘন ঘন কর ও মূল্য পরিবর্তন ভোক্তাদের কম মুল্যের পণ্যের দিকে ঠেলে দেয় এবং বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ায়। বিদ্যমান বহুস্তর কর কাঠামো জটিল হওয়ায় রাজস্ব পূর্বাভাসও দুর্বল হচ্ছে—এই কারণেই তারা ধীরে ধীরে মূল্যভিত্তিক কর পদ্ধতি থেকে সুনির্দিষ্ট (specific) কর পদ্ধতিতে রূপান্তরের সুপারিশ করেন, যা বাস্তবায়নে সহজ এবং রাজস্ব আদায়েও সহায়ক হবে।

অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা বাড়ানো, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, বর্তমান কাঠামোর কারণে বৈধ উৎপাদকদের লাভ কমে যাওয়ায় অবৈধ বাণিজ্য তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক হয়ে উঠছে।

সংক্ষেপে, তারা মনে করেন—টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে, বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে এবং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এখনই একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও দূরদর্শী তামাক কর কাঠামো সাজানো প্রয়োজন।