নিউ চণ্ডীগড়ে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে হেরে আইপিএলের অস্বস্তিকর এক রেকর্ডে নাম লেখাল পাঞ্জাব কিংস। ২০২৬ সালের এই ম্যাচে ২২২ রানের বড় সংগ্রহ করেও ফেরেনি জয় — ফলে ২০০ বা তার বেশি স্কোর করে সর্বোচ্চ আটবার হারের অনুচিত্রা রেকর্ড দেখল শ্রেয়াস আইয়ারের দল। রাজস্থান চার বল বাকি রেখে ছয় উইকেটে ম্যাচ জিতল।
পাঞ্জাব প্রথমে ব্যাট করে শুরু থেকেই আক্রমণে। ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য ১১ বলে ঝড়ো ২৯ করে ফিরলেও অপর ওপেন প্রভসিমরন সিং এক স্থির ৫৯ রানের ইনিংসে দলের ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখেন। ইনিংসের শেষ তিলে-তিলে সব ধরণের আঘাত করেন মার্কাস স্টয়নিস — ২২ বলে ৪ চার ও ৬ ছক্কার সুবাদে ৬২ রান করে তিনি পাঞ্জাবকে ২২২ রানের মজবুত টার্গেট এনে দেন। স্টয়নিস শেষ তিন ওভারেই ৫৫ রান তুলে রাজস্থান বোলিংকে সরলভাবে হতবাক করে দেন। রাজস্থানের পক্ষে যশরাজ পুঞ্জ সর্বোচ্চ দুই উইকেট নেন।
টার্গেট তাড়া করতে নেমে রাজস্থানও শুরুটা দারুণ করলো। ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল ও বৈভব সূর্যবংশী কিছুক্ষণেই জোরালো ভিত্তি তৈরি করেন; বৈভব মাত্র ১৬ বলেও ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এবং টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় নিজের অবস্থান দৃঢ় করলেন। জয়সওয়াল ২৭ বলে ৫১ করে জয় নিশ্চিত করার পথে দলের উপর চাপ কমিয়ে দেন। মধ্যমাঠে পাঞ্জাবের অভিজ্ঞ স্পিনার যুজভেন্দ্র চাহাল তিনটি উইকেট তুলে কিছুক্ষণ প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলেও রাজস্থানের বাকি ব্যাটিং লাইন পাঞ্জাব বোলারদের আটকে দিতে পারেনি।
ম্যাচের শেষ খন্ডে ডোনোভান পেরেইরা ও শুভম দুবের ঝড়ো প্রদর্শন রাজস্থানের জয় ত্বরান্বিত করে। পেরেইরা ২৬ বলে অপরাজিত ৫২ রান করে দলকে পথ দেখান এবং দুবে ১২ বলে ৩১ রানের দ্রুত ক্যামিও দিয়ে পরিস্থিতি স্থির করে দেন। ফলে রাজস্থান ৪ বল বাকি রেখে ছয় উইকেটে জিতে বাড়ি ফেরে।
এই ফলের পর রাজস্থান রয়্যালস ৯ ম্যাচ শেষে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। অন্যদিকে পাঞ্জাব কিংসের জন্য এটি চলতি মরশুমে আট ম্যাচে প্রথম হার হিসেবে নথিভুক্ত হলো; তবুও ১৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখনও শীর্ষে রয়েছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে।
আইপিএলের এ রকম রেকর্ড-ভরা এবং রোমাঞ্চকর লড়াই দর্শকদের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে—একদিকে ব্যাটিংয়ে বিশাল স্কোর, অন্যদিকে তা রক্ষায় ব্যর্থতা; এটিই ক্রিকেটের অনিশ্চিত আর দম বন্ধ করা নাটক।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 
























