০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সরবরাহ সংকটে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে

বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট তীব্র হচ্ছে; এক পর্যায়ে খুচরা দোকানগুলোতে বোতলজাত তেল প্রায় অদৃশ্য। আগে যেখানে থরে থরে সাজানো থাকত বোতলজাত সয়াবিন তেল, এখন সেখানে হাতে গোনা কয়েকটি বোতল দেখা যাচ্ছে। অনেক খুচরা বিপণন ও ভোক্তা অভিযোগ করেন, ডিলাররা অন্য পণ্য কেনার শর্তে তেল সরবরাহ করছেন এবং খোলা তেল বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে ক্রেতাদের অতিরিক্ত টাকা গুণতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক বাড়ানে তেলের খুচরা মূল্য লিটারপ্রতি ১৯৫ থেকে ১৯৯ টাকা করা হয়েছে, অর্থাৎ লিটারে ৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ভোজ্যতেলের মূল্য সমন্বয় করেছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের নতুন মূল্য লিটারপ্রতি ১৭৯ টাকা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার পরিস্থিতি নজরদারি করছে। নতুন এই মূল্য গত বুধবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।

সরকারি মূল্যনির্ধারণ সত্ত্বেও রিটেইল পর্যায়ে ভিন্ন দাম ও সরবরাহের অনিয়ম চালু থাকায় ভোক্তারা আক্ষেপ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ায় আমদানিকরীরা সরকারকে দাম সমন্বয়ের জন্য বারবার অনুরোধ করেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সয়াবিন তেলের আমদানির পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমে এসেছে। গত বছরের ওই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন, যেখানে এ বছর তা নামিয়ে এসেছে ২ লাখ ৬১ হাজার টনে—প্রায় অর্ধেকে নামার মতো অবনতি। অন্যদিকে পাম অয়েলের আমদানি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে; গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পাম অয়েল আমদানি ছিল ৪ লাখ ৫৯ হাজার টন, যা এ বছরে ৪ লাখ ৫৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। ফলে সয়াবিন তেলের ঘাটতি পাম অয়েল দিয়ে পূরণ হচ্ছে না বলেই বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৪ লক্ষ টন, যার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির উপর নির্ভরশীল। এই ভুগত নির্বাহিত পরিস্থিতিতে আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি শেনেহতে হচ্ছে অভ্যন্তরীণ বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারেও সয়াবিন তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়ে গেছে—বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১,১৫৪ ডলার, যা ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে ১,২৮২ ডলার এবং মার্চে ১,৪৮২ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে আমদানিকারকদের খরচও বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষক ও ব্যাবসায়ীরা বলছেন, আগামী মাসে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভোজ্যতেলের চাহিদা আরো বাড়বে। তাই এখনই সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, নতুবা মূল্যবৃদ্ধি এবং তেলপণ্য সংকট ভোক্তাদের জন্য আরও সমস্যা বাড়াবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় ও আমদানিতে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি কেবল ঝামেলা বাড়াবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

সরবরাহ সংকটে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে

প্রকাশিতঃ ০৭:২৯:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট তীব্র হচ্ছে; এক পর্যায়ে খুচরা দোকানগুলোতে বোতলজাত তেল প্রায় অদৃশ্য। আগে যেখানে থরে থরে সাজানো থাকত বোতলজাত সয়াবিন তেল, এখন সেখানে হাতে গোনা কয়েকটি বোতল দেখা যাচ্ছে। অনেক খুচরা বিপণন ও ভোক্তা অভিযোগ করেন, ডিলাররা অন্য পণ্য কেনার শর্তে তেল সরবরাহ করছেন এবং খোলা তেল বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে ক্রেতাদের অতিরিক্ত টাকা গুণতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক বাড়ানে তেলের খুচরা মূল্য লিটারপ্রতি ১৯৫ থেকে ১৯৯ টাকা করা হয়েছে, অর্থাৎ লিটারে ৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ভোজ্যতেলের মূল্য সমন্বয় করেছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাঁচ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের নতুন মূল্য লিটারপ্রতি ১৭৯ টাকা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার পরিস্থিতি নজরদারি করছে। নতুন এই মূল্য গত বুধবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।

সরকারি মূল্যনির্ধারণ সত্ত্বেও রিটেইল পর্যায়ে ভিন্ন দাম ও সরবরাহের অনিয়ম চালু থাকায় ভোক্তারা আক্ষেপ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ায় আমদানিকরীরা সরকারকে দাম সমন্বয়ের জন্য বারবার অনুরোধ করেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সয়াবিন তেলের আমদানির পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমে এসেছে। গত বছরের ওই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন, যেখানে এ বছর তা নামিয়ে এসেছে ২ লাখ ৬১ হাজার টনে—প্রায় অর্ধেকে নামার মতো অবনতি। অন্যদিকে পাম অয়েলের আমদানি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে; গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পাম অয়েল আমদানি ছিল ৪ লাখ ৫৯ হাজার টন, যা এ বছরে ৪ লাখ ৫৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। ফলে সয়াবিন তেলের ঘাটতি পাম অয়েল দিয়ে পূরণ হচ্ছে না বলেই বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৪ লক্ষ টন, যার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানির উপর নির্ভরশীল। এই ভুগত নির্বাহিত পরিস্থিতিতে আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি শেনেহতে হচ্ছে অভ্যন্তরীণ বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারেও সয়াবিন তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়ে গেছে—বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১,১৫৪ ডলার, যা ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে ১,২৮২ ডলার এবং মার্চে ১,৪৮২ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে আমদানিকারকদের খরচও বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষক ও ব্যাবসায়ীরা বলছেন, আগামী মাসে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ভোজ্যতেলের চাহিদা আরো বাড়বে। তাই এখনই সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, নতুবা মূল্যবৃদ্ধি এবং তেলপণ্য সংকট ভোক্তাদের জন্য আরও সমস্যা বাড়াবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় ও আমদানিতে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি কেবল ঝামেলা বাড়াবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।