উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ১-১ গোল করে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল ও অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। মাদ্রিদের ওয়ান্ডা মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে বুধবার রাতে খেলাটি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ ও ঘনিয়ে ওঠা—উভয় পক্ষই পেনাল্টি থেকে গোল পায় এবং ফাইনালের সিদ্ধান্ত এখন পুরোপুরি দ্বিতীয় লেগে নির্ভর করছে। আর্সেনাল ২০০৬ এবং অ্যাতলেটিকো ২০১৬ সালের পর আবার ফাইনালে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখছে, আর এই ড্র সেই আশা দুপক্ষের কাছেই জীবিত রেখেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ চলে। ১৪ মিনিটে অ্যাতলেটিকোর আক্রমণে হুলিয়ান আলভারেজের শট আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া বাধা দেন। আর্সেনালের মার্টিন ওডেগার্ড ও ননি মাদুয়ে ম্যাচে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও প্রথমার্ধে গোল করতে ব্যর্থ হন। তবে ৪৪ মিনিটে ভিক্টর গিওকেরেস বক্সে ফাউলের শিকার হলে রেফারি স্পট কিক নির্দেশ করেন এবং সফল পেনাল্টি থেকে গানাররা বিরতির ঠিক আগে ১-০ এগিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য তৎপর হয় দিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা। ৫৬ মিনিটে আর্সেনাল ডিফেন্ডার বেন হোয়াইটের হাতে বল লাগার পরে ভিএআর পরীক্ষার মাধ্যমে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত আসে। স্পট কিক থেকে হুলিয়ান আলভারেজ গোল করে দলকে দ্রুতই ১-১ সেবায় ফিরিয়ে আনেন—এটি চলতি মৌসুমে তার দশম গোল। সমতায় ফেরার পর অ্যাতলেটিকো আরও চাপ বাড়ায় এবং আক্রমণে ঝোঁকে রক্ষণকে বারবার ঝুঁকির মধ্যে ফেলে।
ম্যাচের বাকী সময়ে অ্যাতলেটিকো several সুবিধা পায়, ব্যাকলাইন ভাঙার চেষ্টা করে বেশ কয়েকবারই। আঁতোয়ান গ্রিজম্যানের একটা দারুণ শট ক্রসবারে লেগে ফিরলে লিড নেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে তারা। ৭৪ মিনিটে আদেমোলা লুকমান একেবারেই একা অবস্থায় আর্সেনাল গোলরক্ষককে ম্যালব্যবহার করতে পারেননি। পরে এবেরেচি এজে গোলরক্ষীর সঙ্গে একঘণ্টার সংঘর্ষে ফাউলের শিকার হন এবং রেফারি পুনরায় পেনাল্টি নির্দেশ করেন। কিন্তু ভিএআর দেখা হলে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয় এবং স্কোর ১-১-এর কাছে থেকে ধরা পড়ে।
পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে অ্যাতলেটিকো সামান্য এগিয়ে ছিল—তাদের বল দখল ছিল প্রায় ৫২ শতাংশ এবং তারা মোট ১৮টি শট নিয়েছিল যার মধ্যে ৪টি ছিল লক্ষ্যভেদী। বিপরীতে আর্সেনাল দুইবারই লক্ষ্যভেদী শট তুলেছিল। ম্যাচে রণনৈপুণ্য, রক্ষণ ও আক্রমণে সমন্বয় সব মিলিয়ে দুই দলকেই পরের লেগে জেতার আশা রাখার সুযোগ দিয়েছে।
এখন উভয় দলই লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে আগামী মঙ্গলবার হওয়া ফিরতি লেগে সব সিদ্ধান্ত ঠিক করতে চায়। নিজেদের মাঠে জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে টিকিয়েও রাখা ফাইনাল בקাশা কাটানোই হবে উভয়ের প্রধান লক্ষ্য।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 
























