০২:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

শ্যানসির লিউশেনিউ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ — নিহত ৯০, ৯ নিখোঁজ

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশের লিউশেনিউ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, এতে কমপক্ষে ৯০ জন নিহত হয়েছেন এবং ৯ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণটি স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে ঘটেছিল। বিস্ফোরণের সময় খনিতে মোট ২৪৭ জন শ্রমিক ছিলেন। চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই দুর্ঘটনাকে গত ১৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় খনি দুর্ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিস্ফোরণের কিছু সময়ের মধ্যেই উদ্ধারকর্মীরা কাজ শুরু করেন। উদ্ধার তৎপরতায় মোট ৩৫৪ জন উদ্ধারকর্মী নিয়োজিত ছিলেন। শনিবার (২৩ মে) ভোর থেকে খনিটি থেকে শ্রমিকদের একে একে উদ্ধার করা শুরু হলে ৯০ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়; বাকি ৯ জনের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা এখনও কাজ করছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে খনির ভেতরে ব্যাপক পরিমাণে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ শুরু হয়, যা মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ার একটি প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ঘটনার কারণে গভীর শোকে অবতীর্ণ হয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের জন্য সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শ্যানসি প্রদেশকে দেশের কয়লার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়; একই সঙ্গে এটিই দেশের দারিদ্র্যসঙ্কুচিত অংশগুলোর মধ্যে একটি। সাম্প্রতিক দশকে খনিশ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত হলেও দুর্ঘটনাযুক্ত ঘটনা এখনও বিরলে পরিণত হয়নি এবং মাঝে মাঝে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে থাকে। সূত্রUIScreen দ্বারা উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালে হেইলংজিয়াং প্রদেশের একটি খনিতে ১০৮ জন নিহত হয়েছিল—যেটি চীনে ইতিহাসের অন্যতম বড় খনি দুর্ঘটনার তালিকায় রয়েছে।

বিজ্ঞান, নিরাপত্তা ও উদ্ধারকার্যের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন; উদ্ধারকর্মীরা এখনও নিখোঁজদের সন্ধান ও আহতদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

শ্যানসির লিউশেনিউ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ — নিহত ৯০, ৯ নিখোঁজ

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশের লিউশেনিউ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, এতে কমপক্ষে ৯০ জন নিহত হয়েছেন এবং ৯ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণটি স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে ঘটেছিল। বিস্ফোরণের সময় খনিতে মোট ২৪৭ জন শ্রমিক ছিলেন। চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই দুর্ঘটনাকে গত ১৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় খনি দুর্ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিস্ফোরণের কিছু সময়ের মধ্যেই উদ্ধারকর্মীরা কাজ শুরু করেন। উদ্ধার তৎপরতায় মোট ৩৫৪ জন উদ্ধারকর্মী নিয়োজিত ছিলেন। শনিবার (২৩ মে) ভোর থেকে খনিটি থেকে শ্রমিকদের একে একে উদ্ধার করা শুরু হলে ৯০ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়; বাকি ৯ জনের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা এখনও কাজ করছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে খনির ভেতরে ব্যাপক পরিমাণে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ শুরু হয়, যা মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ার একটি প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ঘটনার কারণে গভীর শোকে অবতীর্ণ হয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের জন্য সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শ্যানসি প্রদেশকে দেশের কয়লার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়; একই সঙ্গে এটিই দেশের দারিদ্র্যসঙ্কুচিত অংশগুলোর মধ্যে একটি। সাম্প্রতিক দশকে খনিশ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত হলেও দুর্ঘটনাযুক্ত ঘটনা এখনও বিরলে পরিণত হয়নি এবং মাঝে মাঝে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে থাকে। সূত্রUIScreen দ্বারা উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালে হেইলংজিয়াং প্রদেশের একটি খনিতে ১০৮ জন নিহত হয়েছিল—যেটি চীনে ইতিহাসের অন্যতম বড় খনি দুর্ঘটনার তালিকায় রয়েছে।

বিজ্ঞান, নিরাপত্তা ও উদ্ধারকার্যের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন; উদ্ধারকর্মীরা এখনও নিখোঁজদের সন্ধান ও আহতদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।