০৮:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চিফ হুইপ: সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে ঈদুল আজহা: সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে রামিসা হত্যার বিচার শেষ হতে পারে জাতীয় সংসদ ভবনে অন-গ্রিড সৌর রুফটপ প্রকল্পের উদ্বোধন রোহিঙ্গা সংকট জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদ ভবনে নবায়নযোগ্য অন-গ্রিড রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ উদ্বোধন রেলসচিব: ঈদযাত্রায় বড় শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই রামিসা হত্যাকাণ্ডে সারা জাতি শোকাহত ও ক্ষুব্ধ: তথ্যমন্ত্রী হাম মোকাবিলায় চিকিৎসকদের ঈদে ছুটি বাতিল ঘোষণা—স্বাস্থ্যমন্ত্রী নজরুলের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীতে ময়মনসিংহে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শ্যানসির লিউশেনিউ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ — নিহত ৯০, ৯ নিখোঁজ

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশের লিউশেনিউ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, এতে কমপক্ষে ৯০ জন নিহত হয়েছেন এবং ৯ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণটি স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে ঘটেছিল। বিস্ফোরণের সময় খনিতে মোট ২৪৭ জন শ্রমিক ছিলেন। চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই দুর্ঘটনাকে গত ১৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় খনি দুর্ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিস্ফোরণের কিছু সময়ের মধ্যেই উদ্ধারকর্মীরা কাজ শুরু করেন। উদ্ধার তৎপরতায় মোট ৩৫৪ জন উদ্ধারকর্মী নিয়োজিত ছিলেন। শনিবার (২৩ মে) ভোর থেকে খনিটি থেকে শ্রমিকদের একে একে উদ্ধার করা শুরু হলে ৯০ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়; বাকি ৯ জনের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা এখনও কাজ করছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে খনির ভেতরে ব্যাপক পরিমাণে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ শুরু হয়, যা মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ার একটি প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ঘটনার কারণে গভীর শোকে অবতীর্ণ হয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের জন্য সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শ্যানসি প্রদেশকে দেশের কয়লার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়; একই সঙ্গে এটিই দেশের দারিদ্র্যসঙ্কুচিত অংশগুলোর মধ্যে একটি। সাম্প্রতিক দশকে খনিশ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত হলেও দুর্ঘটনাযুক্ত ঘটনা এখনও বিরলে পরিণত হয়নি এবং মাঝে মাঝে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে থাকে। সূত্রUIScreen দ্বারা উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালে হেইলংজিয়াং প্রদেশের একটি খনিতে ১০৮ জন নিহত হয়েছিল—যেটি চীনে ইতিহাসের অন্যতম বড় খনি দুর্ঘটনার তালিকায় রয়েছে।

বিজ্ঞান, নিরাপত্তা ও উদ্ধারকার্যের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন; উদ্ধারকর্মীরা এখনও নিখোঁজদের সন্ধান ও আহতদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদুল আজহা: সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু

শ্যানসির লিউশেনিউ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ — নিহত ৯০, ৯ নিখোঁজ

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশের লিউশেনিউ কয়লা খনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, এতে কমপক্ষে ৯০ জন নিহত হয়েছেন এবং ৯ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণটি স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে ঘটেছিল। বিস্ফোরণের সময় খনিতে মোট ২৪৭ জন শ্রমিক ছিলেন। চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই দুর্ঘটনাকে গত ১৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় খনি দুর্ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বিস্ফোরণের কিছু সময়ের মধ্যেই উদ্ধারকর্মীরা কাজ শুরু করেন। উদ্ধার তৎপরতায় মোট ৩৫৪ জন উদ্ধারকর্মী নিয়োজিত ছিলেন। শনিবার (২৩ মে) ভোর থেকে খনিটি থেকে শ্রমিকদের একে একে উদ্ধার করা শুরু হলে ৯০ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়; বাকি ৯ জনের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা এখনও কাজ করছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে খনির ভেতরে ব্যাপক পরিমাণে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস নিঃসরণ শুরু হয়, যা মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ার একটি প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ঘটনার কারণে গভীর শোকে অবতীর্ণ হয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের জন্য সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। ঘটনার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শ্যানসি প্রদেশকে দেশের কয়লার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে দেখা হয়; একই সঙ্গে এটিই দেশের দারিদ্র্যসঙ্কুচিত অংশগুলোর মধ্যে একটি। সাম্প্রতিক দশকে খনিশ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত হলেও দুর্ঘটনাযুক্ত ঘটনা এখনও বিরলে পরিণত হয়নি এবং মাঝে মাঝে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে থাকে। সূত্রUIScreen দ্বারা উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালে হেইলংজিয়াং প্রদেশের একটি খনিতে ১০৮ জন নিহত হয়েছিল—যেটি চীনে ইতিহাসের অন্যতম বড় খনি দুর্ঘটনার তালিকায় রয়েছে।

বিজ্ঞান, নিরাপত্তা ও উদ্ধারকার্যের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন; উদ্ধারকর্মীরা এখনও নিখোঁজদের সন্ধান ও আহতদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।