০৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনায় কক্সবাজারে লোডশেডিংয়ে স্বস্তি

কক্সবাজারে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ট্রান্সফরমার চালু হওয়ার ফলে দীর্ঘ দিনের বিদ্যুৎগত সমস্যা অনেকাংশে কাটতে শুরু করেছে। ২৮ মে—ঈদুল আজহার দিন শহরের প্রধান উপকেন্দ্রের ১০/১৩ এমভিএ ক্ষমতার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় টানা আট দিন তীব্র লোডশেডিং চলে। সেই সংকট মোকাবিলায় একই উপকেন্দ্রে ১৬/২০ এমভিএ ক্ষমতার একটি শক্তিশালী ট্রান্সফরমার স্থাপন ও সংযুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে বর্তমান বিদ্যুৎ ঘাটতি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে পর্যটনমুখী ব্যবসায়ী, স্থানীয় গ্রাহক ও ছুটিতে আসা পর্যটকদের মধ্যে ধীরে ধীরে স্বস্তি ফিরে আসছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, কলাতলী বাইপাস সড়কের ওই উপকেন্দ্রে ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিঘ্ন হচ্ছিল। নতুন ইউনিট চালুর ফলে এখন লোডশেডিং আনুমানিক ৭০ শতাংশ কমে দিনে এক থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের আশঙ্কা অনুযায়ী, আগের সংকটকালে অন্তত ৩৫ হাজারের কাছাকাছি পর্যটক ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং অনেকে পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ত্যাগ করেছেন। নতুন ট্রান্সফরমার চালু হওয়ায় এসব সমস্যার অনেকটাই শিথিল হয়েছে।

ট্রান্সফরমারটি আগমনের ও স্থাপনের প্রক্রিয়াও ছিল জটিল। পর্যটনশহরের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে ২৯ মে গাজীপুরের টঙ্গি থেকে প্রায় ৪০ মেট্রিক টন ওজনের এই বড় ট্রান্সফরমার আনা হয়। সড়ক বিভাগের সহযোগিতায় ডিভাইডারের অংশ সরাতে হয়েছে, এবং প্রকৌশলী ও কারিগরি দলের কয়েকদিনের পরিশ্রমে ওয়েল সেন্ট্রিফিউজিং, কমিশনিং ও সুরক্ষা পরীক্ষাসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত শুক্রবার বিকেলে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। অত্যধিক গরম ও পর্যটক চাপের দিনে শহরের চাহিদা ৪৫ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়, যা সামাল দিতে নতুন সরঞ্জামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণী বলেন, বর্তমানে শহরে কোনো সুনির্দিষ্ট বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই। তিনি জানান, জেলা শহরে মাত্র একটি গ্রিড উপকেন্দ্র থাকায় কখনো সঞ্চালন লাইনে কারণসাপেক্ষ কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িক বিদ্যুৎ বন্ধ করা হতে পারে। পর্যটকদের আর্থিক ও সেবাগত স্বার্থ রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিদ্যুৎ বিভাগ আশাবাদী যে নতুন এই ট্রান্সফরমার স্থাপনের কারণে নিকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের লোডশেডিং হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনায় কক্সবাজারে লোডশেডিংয়ে স্বস্তি

প্রকাশিতঃ ০২:২৩:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

কক্সবাজারে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ট্রান্সফরমার চালু হওয়ার ফলে দীর্ঘ দিনের বিদ্যুৎগত সমস্যা অনেকাংশে কাটতে শুরু করেছে। ২৮ মে—ঈদুল আজহার দিন শহরের প্রধান উপকেন্দ্রের ১০/১৩ এমভিএ ক্ষমতার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ায় টানা আট দিন তীব্র লোডশেডিং চলে। সেই সংকট মোকাবিলায় একই উপকেন্দ্রে ১৬/২০ এমভিএ ক্ষমতার একটি শক্তিশালী ট্রান্সফরমার স্থাপন ও সংযুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে বর্তমান বিদ্যুৎ ঘাটতি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে পর্যটনমুখী ব্যবসায়ী, স্থানীয় গ্রাহক ও ছুটিতে আসা পর্যটকদের মধ্যে ধীরে ধীরে স্বস্তি ফিরে আসছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, কলাতলী বাইপাস সড়কের ওই উপকেন্দ্রে ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিঘ্ন হচ্ছিল। নতুন ইউনিট চালুর ফলে এখন লোডশেডিং আনুমানিক ৭০ শতাংশ কমে দিনে এক থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের আশঙ্কা অনুযায়ী, আগের সংকটকালে অন্তত ৩৫ হাজারের কাছাকাছি পর্যটক ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং অনেকে পূর্বনির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ত্যাগ করেছেন। নতুন ট্রান্সফরমার চালু হওয়ায় এসব সমস্যার অনেকটাই শিথিল হয়েছে।

ট্রান্সফরমারটি আগমনের ও স্থাপনের প্রক্রিয়াও ছিল জটিল। পর্যটনশহরের গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে ২৯ মে গাজীপুরের টঙ্গি থেকে প্রায় ৪০ মেট্রিক টন ওজনের এই বড় ট্রান্সফরমার আনা হয়। সড়ক বিভাগের সহযোগিতায় ডিভাইডারের অংশ সরাতে হয়েছে, এবং প্রকৌশলী ও কারিগরি দলের কয়েকদিনের পরিশ্রমে ওয়েল সেন্ট্রিফিউজিং, কমিশনিং ও সুরক্ষা পরীক্ষাসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত শুক্রবার বিকেলে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। অত্যধিক গরম ও পর্যটক চাপের দিনে শহরের চাহিদা ৪৫ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়, যা সামাল দিতে নতুন সরঞ্জামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণী বলেন, বর্তমানে শহরে কোনো সুনির্দিষ্ট বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই। তিনি জানান, জেলা শহরে মাত্র একটি গ্রিড উপকেন্দ্র থাকায় কখনো সঞ্চালন লাইনে কারণসাপেক্ষ কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িক বিদ্যুৎ বন্ধ করা হতে পারে। পর্যটকদের আর্থিক ও সেবাগত স্বার্থ রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিদ্যুৎ বিভাগ আশাবাদী যে নতুন এই ট্রান্সফরমার স্থাপনের কারণে নিকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের লোডশেডিং হওয়ার সম্ভাবনা নেই।