০৩:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বেড়েছে ৫৬.১৫% — ২০২৫ সালে ব্যয় ১.২১ বিলিয়ন ডলার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের কৃষিজাত পণ্য আমদানি এক বছরে প্রায় ৫৬.১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালে আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৭৪.৮৯ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ১.২১ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। প্রতিবছর এই অতিরিক্ত খরচ প্রায় ৪৩৫.১ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকার সমান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। এটি গত এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানির সর্বোচ্চ ব্যয়। পূর্বে ২০১৮ ও ২০২০ সালে আমদানির পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে গিয়েছিল, কিন্তু এবারের লাফ সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

আমদানিকৃত পণ্যের তালিকায় শীর্ষে সয়াবিন, তুলা, গম, চাল ও ভুট্টা রয়েছে। একাই সয়াবিন আমদানি বছরে ব্যয় ছিল ৬০৩.৩৮ মিলিয়ন ডলার — যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৩ শতাংশ বেশি। গম আমদানির ব্যয় ২০২৪ সালের ৩৩.৯২ মিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে ১১৫.৮৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ২৪১ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত সয়াবিন মিলের আমদানিও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে; এক বছরে এর ব্যয় বেড়ে ২০.৩৩ মিলিয়ন ডলার থেকে ১০৩.১ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। চাল আমদানিতে প্রায় ৯৩৩ শতাংশের তীব্র বৃদ্ধি দেখা গেছে এবং আগের বছরে যেখানে ভুট্টা আমদানি শূন্য ছিল, সেখানে ২০২৫ সালে ভুট্টা আমাদানি খাতে ৩৫.৮ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দ্রুত বাড়ার পেছনে শুধু বাজার চাহিদিই দায়ী নয়; রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-চুক্তির ফলে আমদানির পথ প্রশস্ত হয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় মার্কিন কৃষিতেই বাংলাদেশের বাজার আরও উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি এবং বছরে প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের আমদানির দিকনির্দেশনা মিলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যান্য সস্তা উৎস থেকে দরদাম করে পণ্য কেনার সুযোগ সীমিত হওয়ায় সমগ্র আমদানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত এক দশকে কৃষিপণ্যের আমদানি গড়ে সাড়ে ৯ শতাংশ বাড়লেও সাম্প্রতিক বছরের এই লাফ সরাসরি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বাধ্যবাধকতার প্রতি নির্দেশ করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাদের এ মন্তব্য, চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত ও মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতির কারণে দরপত্রের মাধ্যমে সাশ্রয়ী অপশনগুলো ব্যবহার করা সীমিত হচ্ছে, ফলে সরকার ও আমদানিকারকরা তুলনামূলকভাবে উচ্চ দামে পণ্য আনতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ — দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্তসমূহ পুনর্বিবেচনা করা, উৎস বৈচিত্র্য বাড়ানো, প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডারিং কার্যকর করা এবং আমদানি নীতিতে মূল্য-নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি জোরদার করা। এগুলো না করলে দেশের খাদ্য-সিকিউরিটি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বেড়েছে ৫৬.১৫% — ২০২৫ সালে ব্যয় ১.২১ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের কৃষিজাত পণ্য আমদানি এক বছরে প্রায় ৫৬.১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালে আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৭৪.৮৯ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ১.২১ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। প্রতিবছর এই অতিরিক্ত খরচ প্রায় ৪৩৫.১ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকার সমান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। এটি গত এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানির সর্বোচ্চ ব্যয়। পূর্বে ২০১৮ ও ২০২০ সালে আমদানির পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে গিয়েছিল, কিন্তু এবারের লাফ সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

আমদানিকৃত পণ্যের তালিকায় শীর্ষে সয়াবিন, তুলা, গম, চাল ও ভুট্টা রয়েছে। একাই সয়াবিন আমদানি বছরে ব্যয় ছিল ৬০৩.৩৮ মিলিয়ন ডলার — যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৩ শতাংশ বেশি। গম আমদানির ব্যয় ২০২৪ সালের ৩৩.৯২ মিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে ১১৫.৮৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ২৪১ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত সয়াবিন মিলের আমদানিও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে; এক বছরে এর ব্যয় বেড়ে ২০.৩৩ মিলিয়ন ডলার থেকে ১০৩.১ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। চাল আমদানিতে প্রায় ৯৩৩ শতাংশের তীব্র বৃদ্ধি দেখা গেছে এবং আগের বছরে যেখানে ভুট্টা আমদানি শূন্য ছিল, সেখানে ২০২৫ সালে ভুট্টা আমাদানি খাতে ৩৫.৮ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দ্রুত বাড়ার পেছনে শুধু বাজার চাহিদিই দায়ী নয়; রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-চুক্তির ফলে আমদানির পথ প্রশস্ত হয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় মার্কিন কৃষিতেই বাংলাদেশের বাজার আরও উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি এবং বছরে প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের আমদানির দিকনির্দেশনা মিলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যান্য সস্তা উৎস থেকে দরদাম করে পণ্য কেনার সুযোগ সীমিত হওয়ায় সমগ্র আমদানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত এক দশকে কৃষিপণ্যের আমদানি গড়ে সাড়ে ৯ শতাংশ বাড়লেও সাম্প্রতিক বছরের এই লাফ সরাসরি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বাধ্যবাধকতার প্রতি নির্দেশ করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাদের এ মন্তব্য, চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত ও মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতির কারণে দরপত্রের মাধ্যমে সাশ্রয়ী অপশনগুলো ব্যবহার করা সীমিত হচ্ছে, ফলে সরকার ও আমদানিকারকরা তুলনামূলকভাবে উচ্চ দামে পণ্য আনতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ — দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্তসমূহ পুনর্বিবেচনা করা, উৎস বৈচিত্র্য বাড়ানো, প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডারিং কার্যকর করা এবং আমদানি নীতিতে মূল্য-নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি জোরদার করা। এগুলো না করলে দেশের খাদ্য-সিকিউরিটি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।