০৬:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস — অনলাইন বেটিংয়ে সর্বোচ্চ ৫ কোটি জরিমানা, ১০ বছর কারাদণ্ড ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে: মির্জা ফখরুল জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকায় সমন্বিত উদ্যোগ—১০৮ হটস্পট চিহ্নিত খামেনির শেষকৃত্যে যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন করমুক্ত আয়সীমা বাড়ল; ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে আর লাগবে না টিআইএন এনবিআরের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও পুতুলনাট্যের পথপ্রদর্শক মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই পানি নিরাপত্তার জন্য যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও পুতুলনাট্য জনক মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই জ্বালানি সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধির চাপেঃ বাংলাদেশের পোশাক শিল্প সংকটে

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বেড়েছে ৫৬.১৫% — ২০২৫ সালে ব্যয় ১.২১ বিলিয়ন ডলার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের কৃষিজাত পণ্য আমদানি এক বছরে প্রায় ৫৬.১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালে আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৭৪.৮৯ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ১.২১ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। প্রতিবছর এই অতিরিক্ত খরচ প্রায় ৪৩৫.১ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকার সমান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। এটি গত এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানির সর্বোচ্চ ব্যয়। পূর্বে ২০১৮ ও ২০২০ সালে আমদানির পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে গিয়েছিল, কিন্তু এবারের লাফ সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

আমদানিকৃত পণ্যের তালিকায় শীর্ষে সয়াবিন, তুলা, গম, চাল ও ভুট্টা রয়েছে। একাই সয়াবিন আমদানি বছরে ব্যয় ছিল ৬০৩.৩৮ মিলিয়ন ডলার — যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৩ শতাংশ বেশি। গম আমদানির ব্যয় ২০২৪ সালের ৩৩.৯২ মিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে ১১৫.৮৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ২৪১ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত সয়াবিন মিলের আমদানিও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে; এক বছরে এর ব্যয় বেড়ে ২০.৩৩ মিলিয়ন ডলার থেকে ১০৩.১ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। চাল আমদানিতে প্রায় ৯৩৩ শতাংশের তীব্র বৃদ্ধি দেখা গেছে এবং আগের বছরে যেখানে ভুট্টা আমদানি শূন্য ছিল, সেখানে ২০২৫ সালে ভুট্টা আমাদানি খাতে ৩৫.৮ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দ্রুত বাড়ার পেছনে শুধু বাজার চাহিদিই দায়ী নয়; রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-চুক্তির ফলে আমদানির পথ প্রশস্ত হয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় মার্কিন কৃষিতেই বাংলাদেশের বাজার আরও উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি এবং বছরে প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের আমদানির দিকনির্দেশনা মিলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যান্য সস্তা উৎস থেকে দরদাম করে পণ্য কেনার সুযোগ সীমিত হওয়ায় সমগ্র আমদানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত এক দশকে কৃষিপণ্যের আমদানি গড়ে সাড়ে ৯ শতাংশ বাড়লেও সাম্প্রতিক বছরের এই লাফ সরাসরি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বাধ্যবাধকতার প্রতি নির্দেশ করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাদের এ মন্তব্য, চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত ও মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতির কারণে দরপত্রের মাধ্যমে সাশ্রয়ী অপশনগুলো ব্যবহার করা সীমিত হচ্ছে, ফলে সরকার ও আমদানিকারকরা তুলনামূলকভাবে উচ্চ দামে পণ্য আনতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ — দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্তসমূহ পুনর্বিবেচনা করা, উৎস বৈচিত্র্য বাড়ানো, প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডারিং কার্যকর করা এবং আমদানি নীতিতে মূল্য-নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি জোরদার করা। এগুলো না করলে দেশের খাদ্য-সিকিউরিটি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে: মির্জা ফখরুল

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বেড়েছে ৫৬.১৫% — ২০২৫ সালে ব্যয় ১.২১ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের কৃষিজাত পণ্য আমদানি এক বছরে প্রায় ৫৬.১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালে আমদানির পরিমাণ ছিল ৭৭৪.৮৯ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ১.২১ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে। প্রতিবছর এই অতিরিক্ত খরচ প্রায় ৪৩৫.১ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকার সমান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। এটি গত এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানির সর্বোচ্চ ব্যয়। পূর্বে ২০১৮ ও ২০২০ সালে আমদানির পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে গিয়েছিল, কিন্তু এবারের লাফ সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

আমদানিকৃত পণ্যের তালিকায় শীর্ষে সয়াবিন, তুলা, গম, চাল ও ভুট্টা রয়েছে। একাই সয়াবিন আমদানি বছরে ব্যয় ছিল ৬০৩.৩৮ মিলিয়ন ডলার — যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭৩ শতাংশ বেশি। গম আমদানির ব্যয় ২০২৪ সালের ৩৩.৯২ মিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে ১১৫.৮৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ২৪১ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত সয়াবিন মিলের আমদানিও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে; এক বছরে এর ব্যয় বেড়ে ২০.৩৩ মিলিয়ন ডলার থেকে ১০৩.১ মিলিয়ন ডলার হয়েছে। চাল আমদানিতে প্রায় ৯৩৩ শতাংশের তীব্র বৃদ্ধি দেখা গেছে এবং আগের বছরে যেখানে ভুট্টা আমদানি শূন্য ছিল, সেখানে ২০২৫ সালে ভুট্টা আমাদানি খাতে ৩৫.৮ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দ্রুত বাড়ার পেছনে শুধু বাজার চাহিদিই দায়ী নয়; রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-চুক্তির ফলে আমদানির পথ প্রশস্ত হয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় মার্কিন কৃষিতেই বাংলাদেশের বাজার আরও উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি এবং বছরে প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের আমদানির দিকনির্দেশনা মিলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যান্য সস্তা উৎস থেকে দরদাম করে পণ্য কেনার সুযোগ সীমিত হওয়ায় সমগ্র আমদানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত এক দশকে কৃষিপণ্যের আমদানি গড়ে সাড়ে ৯ শতাংশ বাড়লেও সাম্প্রতিক বছরের এই লাফ সরাসরি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বাধ্যবাধকতার প্রতি নির্দেশ করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাদের এ মন্তব্য, চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত ও মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতির কারণে দরপত্রের মাধ্যমে সাশ্রয়ী অপশনগুলো ব্যবহার করা সীমিত হচ্ছে, ফলে সরকার ও আমদানিকারকরা তুলনামূলকভাবে উচ্চ দামে পণ্য আনতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ — দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্তসমূহ পুনর্বিবেচনা করা, উৎস বৈচিত্র্য বাড়ানো, প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডারিং কার্যকর করা এবং আমদানি নীতিতে মূল্য-নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি জোরদার করা। এগুলো না করলে দেশের খাদ্য-সিকিউরিটি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।