১০:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

জেলা–উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা কেন্দ্রের ওপর রোগীর চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলমান আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, যাতে গ্রাম থেকে বেশি সংখ্যক রোগী চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে না হয়, সেজন্য শয্যা সংখ্যা বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই মন্তব্য তিনি শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ডিএমসি-ডে অনুষ্ঠানে করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্বাস্থ্য খাতে চলমান সমস্যা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সেখানে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের পরিকল্পনা ও নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী ঢামেককে একজন ‘‘জীবন্ত ইতিহাস’’ এবং ‘‘কালের সাক্ষী’’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান কেবল চিকিৎসাবিদ্যায় নয়, জাতীয় আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচ্যবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ঘটনাতেই ঢামেকের অবদান অগ্রণীয়।

ঢামেক থেকে দেশ-বিদেশের সেরা চিকিৎসক, শিক্ষক, গবেষক, সমাজনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা তৈরি হয়েছে—এমন কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে যেসব মানুষ বেরিয়েছেন তারা অন্যের জীবন রক্ষায় নিজেদের প্রাণ ও স্বার্থ বিসর্জন দিতে পিছপা হননি।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা চিকিৎসাপেশায় নিয়োজিত বা যারা ভবিষ্যৎ চিকিৎসক হওয়ার জন্য পড়াশোনা করছেন, তাদের সমাজে যে মর্যাদা রয়েছে তা রোগীর সুস্থ জীবনের রক্ষক হিসেবে। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের আন্তরিক পরামর্শ ও মানবিক আচরণ অনেক সময়ে ওষুধের মতো কার্যকরী হয়—সেজন্য পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক হওয়াও জরুরি।

হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ইতোমধ্যে হাসপাতালগুলোতে প্রতি প্রতিষ্ঠানে ১০ জন করে আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান।

রোগীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আরও পাঁচ হাজার এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে—এই কথাও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীর শূন্যপদ দ্রুত পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সার্বিকভাবে বক্তব্যে তিনি জোর দেন যে জেলার হাসপাতালের শয্যা ও সেবাব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং মান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনগণমুখী করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও ন্যায্য ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা পেতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

জেলা–উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ঢাকা কেন্দ্রের ওপর রোগীর চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলমান আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, যাতে গ্রাম থেকে বেশি সংখ্যক রোগী চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে না হয়, সেজন্য শয্যা সংখ্যা বাড়ানো এবং সেবার মান উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এই মন্তব্য তিনি শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ডিএমসি-ডে অনুষ্ঠানে করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্বাস্থ্য খাতে চলমান সমস্যা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সেখানে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের পরিকল্পনা ও নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী ঢামেককে একজন ‘‘জীবন্ত ইতিহাস’’ এবং ‘‘কালের সাক্ষী’’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান কেবল চিকিৎসাবিদ্যায় নয়, জাতীয় আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তগুলোতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচ্যবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ঘটনাতেই ঢামেকের অবদান অগ্রণীয়।

ঢামেক থেকে দেশ-বিদেশের সেরা চিকিৎসক, শিক্ষক, গবেষক, সমাজনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা তৈরি হয়েছে—এমন কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে যেসব মানুষ বেরিয়েছেন তারা অন্যের জীবন রক্ষায় নিজেদের প্রাণ ও স্বার্থ বিসর্জন দিতে পিছপা হননি।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা চিকিৎসাপেশায় নিয়োজিত বা যারা ভবিষ্যৎ চিকিৎসক হওয়ার জন্য পড়াশোনা করছেন, তাদের সমাজে যে মর্যাদা রয়েছে তা রোগীর সুস্থ জীবনের রক্ষক হিসেবে। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসকের আন্তরিক পরামর্শ ও মানবিক আচরণ অনেক সময়ে ওষুধের মতো কার্যকরী হয়—সেজন্য পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক হওয়াও জরুরি।

হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। প্রত্যেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ইতোমধ্যে হাসপাতালগুলোতে প্রতি প্রতিষ্ঠানে ১০ জন করে আনসার মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান।

রোগীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আরও পাঁচ হাজার এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে—এই কথাও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীর শূন্যপদ দ্রুত পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সার্বিকভাবে বক্তব্যে তিনি জোর দেন যে জেলার হাসপাতালের শয্যা ও সেবাব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং মান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনগণমুখী করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও ন্যায্য ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা পেতে পারে।