১০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ

এলডিসির টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে এলডিসি গ্রুপ। সোমবার (১৩ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বক্তব্যের শুরুতে ড. তিতুমীর ২০৩০ এজেন্ডা এবং দোহা কর্মসূচির প্রতি এলডিসিগোষ্ঠীর পূর্ণ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এই দুটো বৈশ্বিক কাঠামো এলডিসিগুলোকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় টেকসইভাবে উত্তরণে পথ দেখাচ্ছে; কিন্তু এসডিজি অর্জনের গতি বর্তমানে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে, যা দোহা কর্মসূচির লক্ষ্য—বিশেষ করে ২০৩১ সালের মধ্যে আরও বেশি এলডিসিকে স্থায়ীভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণ—ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

ড. তিতুমীর স্মরণ করিয়ে দেন, বর্তমানে ১৪টি স্বল্পোন্নত দেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সংকটের প্রেক্ষাপটে এসব দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোই সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তাদের উত্তরণকালীন সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছে; উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশ ও নেপাল তাদের ট্রানজিশন সময় ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করেছে। তিনি বলেন, স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়ন এবং কাঠামোগত সংস্কারগুলো দ্রুত নেয়ার জন্য এই সময় বাড়ানো একটি কৌশলগত প্রয়োজন।

এলডিসিদের সংকট মোকাবিলা এবং দোহা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ড. তিতুমীর পাঁচটি প্রধান অগ্রাধিকারমূলক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। মূল প্রতিপাদ্যগুলো ছিল—শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি; সহজ শর্তে কনসেসনাল ঋণ এবং আর্থিক সহায়তা বাড়ানো; এলডিসিদের কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো বিবেচনায় রেখে বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় ন্যায্যতা নিশ্চিত করা; জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিল থেকে দ্রুত অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়া; এবং অভিযোজন ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত প্রযুক্তি ও অর্থায়ন নিশ্চিত করা।

বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, সুরক্ষাবাদী নীতির পরিবর্তে এলডিসিদের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করা দরকার। প্রযুক্তিগত বৈষম্য কমাতে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ডিজিটাল রূপান্তরে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

আগামী বছর কাতারে দোহায় অনুষ্ঠিতব্য দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাকে তিনি একটি বড় সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেন — এটি বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে পুনরুজ্জীবিত করে এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে পারে।

বক্তব্যের শেষাংশে ড. তিতুমীর বলেন, এলডিসি সমূহের সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ বিশ্বসংহতি ও বহু-পাক্ষিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতার বড় পরীক্ষা। দোহা পর্যালোচনাকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে তিনি রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ও সহানুভূতিশীল অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। এলডিসি গ্রুপ উল্লেখ করে তারা এই লক্ষ্য অর্জনে সকল অংশীদারের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দলে ফিরেই আইসিসির জুনের মাসসেরা মনোনয়ন পেলেন মোসাদ্দেক

এলডিসির টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি

প্রকাশিতঃ ১০:৪০:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মসৃণ ও টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে এলডিসি গ্রুপ। সোমবার (১৩ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বক্তব্যের শুরুতে ড. তিতুমীর ২০৩০ এজেন্ডা এবং দোহা কর্মসূচির প্রতি এলডিসিগোষ্ঠীর পূর্ণ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এই দুটো বৈশ্বিক কাঠামো এলডিসিগুলোকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় টেকসইভাবে উত্তরণে পথ দেখাচ্ছে; কিন্তু এসডিজি অর্জনের গতি বর্তমানে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে, যা দোহা কর্মসূচির লক্ষ্য—বিশেষ করে ২০৩১ সালের মধ্যে আরও বেশি এলডিসিকে স্থায়ীভাবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণ—ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

ড. তিতুমীর স্মরণ করিয়ে দেন, বর্তমানে ১৪টি স্বল্পোন্নত দেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সংকটের প্রেক্ষাপটে এসব দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোই সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তাদের উত্তরণকালীন সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছে; উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশ ও নেপাল তাদের ট্রানজিশন সময় ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর আবেদন করেছে। তিনি বলেন, স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়ন এবং কাঠামোগত সংস্কারগুলো দ্রুত নেয়ার জন্য এই সময় বাড়ানো একটি কৌশলগত প্রয়োজন।

এলডিসিদের সংকট মোকাবিলা এবং দোহা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ড. তিতুমীর পাঁচটি প্রধান অগ্রাধিকারমূলক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। মূল প্রতিপাদ্যগুলো ছিল—শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি; সহজ শর্তে কনসেসনাল ঋণ এবং আর্থিক সহায়তা বাড়ানো; এলডিসিদের কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো বিবেচনায় রেখে বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থায় ন্যায্যতা নিশ্চিত করা; জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ তহবিল থেকে দ্রুত অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়া; এবং অভিযোজন ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত প্রযুক্তি ও অর্থায়ন নিশ্চিত করা।

বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, সুরক্ষাবাদী নীতির পরিবর্তে এলডিসিদের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করা দরকার। প্রযুক্তিগত বৈষম্য কমাতে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও ডিজিটাল রূপান্তরে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

আগামী বছর কাতারে দোহায় অনুষ্ঠিতব্য দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাকে তিনি একটি বড় সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেন — এটি বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে পুনরুজ্জীবিত করে এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্র সৃষ্টি করতে পারে।

বক্তব্যের শেষাংশে ড. তিতুমীর বলেন, এলডিসি সমূহের সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ বিশ্বসংহতি ও বহু-পাক্ষিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতার বড় পরীক্ষা। দোহা পর্যালোচনাকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে তিনি রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ও সহানুভূতিশীল অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। এলডিসি গ্রুপ উল্লেখ করে তারা এই লক্ষ্য অর্জনে সকল অংশীদারের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।