০৯:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

পোশাক শিল্পে নতুন উদ্যোগ: বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে স্বচ্ছতা জোরদার

বাংলাদেশের রপ্তানি 중심 পোশাক শিল্পে স্বচ্ছতা বাড়ানো ও টেকসই ব্যবসায়িক অনুশীলনগুলোকে সুসংহত করতে কৌশলগত চুক্তি করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই)। এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য—আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশে দেশীয় কারখানাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

চুক্তির মাধ্যমে ‘ইমপ্রুভিং ট্র্যান্সপারেন্সি ফর সাসটেইনেবল বিজনেস (আইটিএসবি)’ নামের একটি বিশেষ উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করবে এই উদ্যোগে বিজিএমইএ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব নেবে এবং পোশাক খাতে দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ ব্যবসা পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে। বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো টেকসইতা রিপোর্টিংকে গুরুত্ব দিচ্ছেন; সেই প্রেক্ষাপটে জিআরআই স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান করলে দেশের কারখানাগুলো বৈশ্বিক বাজারে আস্থা উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতা শক্তি বাড়াতে পারবে।

আইটিএসবি উদ্যোগের আওতায় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে প্রশিক্ষণ, ওয়েবিনার ও কর্মশালার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া কারখানাগুলোকে জিআরআইয়ের গ্লোবাল মানদণ্ড নির্ধারণে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ তুলে ধরার প্ল্যাটফর্ম দেওয়া হবে, যা নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশের কণ্ঠকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিফলিত করতে সহায়ক হবে। ট্রেনিং এবং আউটরিচ পার্টনার হিসেবে কাজ করবে দ্য সাসটেইনেবিলিটি নেক্সাস (সাসনেক্স)। চলতি বছরের মে ও জুলাইয়ে আয়োজন করা প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচিতে প্রায় ৩০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছেন; সেখানে পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের ব্যবহারিক দিকগুলো নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে।

জিআরআইয়ের চিফ অব স্ট্যান্ডার্ডস বাস্তিয়ান বাক বলেন, ‘বিজিএমইএয়ের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের পোশাক খাতে স্বচ্ছতা ও প্রভাবভিত্তিক রিপোর্টিং জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আইটিএসবি উদ্যোগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কাজ করে জিআরআই স্ট্যান্ডার্ডসের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করবে এবং বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরবে।’

বিজিএমইএ রেসপন্সিবল বিজনেস হাব ও সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াসিম জাকারিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ইতোমধ্যে পরিবেশগত স্থায়িত্ব, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল উৎপাদনে বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন কাজটি হলো সেই অর্জনগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সঠিকভাবে পরিমাপ ও উপস্থাপন করা। জিআরআইয়ের সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগ কারখানাগুলোকে আধুনিক সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিংয়ে দক্ষ করে তুলবে, যা ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা শনাক্ত করতে সাহায্য করবে।’

এই উদ্যোগের প্রত্যাশিত লাভগুলো হলো—রিপোর্টিং মান উন্নয়ন, বৈশ্বিক বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং খাতের জবাবদিহি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতার আরও উন্নতি। আইটিএসবির কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প টেকসইতার মানদণ্ডে আরও দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলতে পারবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

পোশাক শিল্পে নতুন উদ্যোগ: বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে স্বচ্ছতা জোরদার

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের রপ্তানি 중심 পোশাক শিল্পে স্বচ্ছতা বাড়ানো ও টেকসই ব্যবসায়িক অনুশীলনগুলোকে সুসংহত করতে কৌশলগত চুক্তি করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই)। এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য—আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশে দেশীয় কারখানাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

চুক্তির মাধ্যমে ‘ইমপ্রুভিং ট্র্যান্সপারেন্সি ফর সাসটেইনেবল বিজনেস (আইটিএসবি)’ নামের একটি বিশেষ উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে কার্যক্রম শুরু করবে এই উদ্যোগে বিজিএমইএ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব নেবে এবং পোশাক খাতে দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ ব্যবসা পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে। বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো টেকসইতা রিপোর্টিংকে গুরুত্ব দিচ্ছেন; সেই প্রেক্ষাপটে জিআরআই স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান করলে দেশের কারখানাগুলো বৈশ্বিক বাজারে আস্থা উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতা শক্তি বাড়াতে পারবে।

আইটিএসবি উদ্যোগের আওতায় ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে প্রশিক্ষণ, ওয়েবিনার ও কর্মশালার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া কারখানাগুলোকে জিআরআইয়ের গ্লোবাল মানদণ্ড নির্ধারণে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ তুলে ধরার প্ল্যাটফর্ম দেওয়া হবে, যা নীতিনির্ধারণে বাংলাদেশের কণ্ঠকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিফলিত করতে সহায়ক হবে। ট্রেনিং এবং আউটরিচ পার্টনার হিসেবে কাজ করবে দ্য সাসটেইনেবিলিটি নেক্সাস (সাসনেক্স)। চলতি বছরের মে ও জুলাইয়ে আয়োজন করা প্রস্তুতিমূলক কর্মসূচিতে প্রায় ৩০০ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছেন; সেখানে পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নের ব্যবহারিক দিকগুলো নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে।

জিআরআইয়ের চিফ অব স্ট্যান্ডার্ডস বাস্তিয়ান বাক বলেন, ‘বিজিএমইএয়ের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের পোশাক খাতে স্বচ্ছতা ও প্রভাবভিত্তিক রিপোর্টিং জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আইটিএসবি উদ্যোগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কাজ করে জিআরআই স্ট্যান্ডার্ডসের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করবে এবং বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরবে।’

বিজিএমইএ রেসপন্সিবল বিজনেস হাব ও সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াসিম জাকারিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ইতোমধ্যে পরিবেশগত স্থায়িত্ব, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল উৎপাদনে বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এখন কাজটি হলো সেই অর্জনগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সঠিকভাবে পরিমাপ ও উপস্থাপন করা। জিআরআইয়ের সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগ কারখানাগুলোকে আধুনিক সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিংয়ে দক্ষ করে তুলবে, যা ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা শনাক্ত করতে সাহায্য করবে।’

এই উদ্যোগের প্রত্যাশিত লাভগুলো হলো—রিপোর্টিং মান উন্নয়ন, বৈশ্বিক বাজারে বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং খাতের জবাবদিহি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতার আরও উন্নতি। আইটিএসবির কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প টেকসইতার মানদণ্ডে আরও দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তুলতে পারবে।