০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বাপেক্সের তিন কূপ খননে সম্ভাব্য ১ লাখ ২০ হাজার ৮৫১ কোটি টাকার গ্যাস টিআইবি অভিযোগ: সংসদীয় বিধি ও চর্চা লঙ্ঘন ২০২৭ হজ প্যাকেজ ঘোষণা: সরকারি সর্বনিম্ন খরচ ৫,০০৫,৬৪৮ টাকা দুর্ঘটনা কমাতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইন আনার অঙ্গীকার সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন আইন আনার অঙ্গীকার

বাংলাদেশ ব্যাংক ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজ করেছে

ফ্রিল্যান্সার ও স্বতন্ত্র সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকে আরো গতিশীল ও সহজলভ্য করতে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার জারি করা সার্কুলারে ডিজিটাল সেবার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে বৈদেশিক আয় গ্রহণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত নিয়মে উল্লেখযোগ্য ছাড় দেয়া হয়েছে।

এবার থেকে কাগজভিত্তিক প্রামাণিক কাগজপত্রের ওপর নির্ভরতা কমানো হয়েছে। ফ্রিল্যান্সাররা তাদের উপার্জিত অর্থ দেশে আনার সময় ই-মেইল, প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট বা অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগের মতো ইলেকট্রনিক প্রমাণাদি ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে দ্রুত ও সহজভাবে আয় রেমিট করা সম্ভব হবে এবং কাগজপত্র জোগাড়ের ঝামেলা অনেকটা কমবে।

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্সে ২০,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্রের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। এছাড়া অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি)–এর মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত গ্রহণের সুবিধা দেয়া হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, এসব অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের কার্যাবলি সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডুয়াল কারেন্সি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকে আরও সহজ করবে।

বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও নতুন বিধান রাখা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের অর্জিত রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রায় এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) অ্যাকাউন্টে রাখতে পারবেন। অন্য সেবাখাতে রপ্তানিকারকদের জন্য এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০% পর্যন্ত। এই সুযোগ প্রবাসী ও সেবা রপ্তানিকারীদের আন্তর্জাতিক ব্যয় নির্বাহে নমনীয়তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সময়োপযোগী অভিহিত করেছেন। তাদের মতে প্রক্রিয়া সহজ হলে সেবা রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত আয় বড় পরিসরে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আসবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও প্রবাহ শক্তিশালী করার কাজে সহায়ক হবে। সার্বিকভাবে নতুন নির্দেশনাগুলো ফ্রিল্যান্সিং এবং ডিজিটাল সেবা রপ্তানিকে আরও প্রोत्सাহিত করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়

বাংলাদেশ ব্যাংক ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজ করেছে

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ফ্রিল্যান্সার ও স্বতন্ত্র সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকে আরো গতিশীল ও সহজলভ্য করতে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার জারি করা সার্কুলারে ডিজিটাল সেবার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে বৈদেশিক আয় গ্রহণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহার সংক্রান্ত নিয়মে উল্লেখযোগ্য ছাড় দেয়া হয়েছে।

এবার থেকে কাগজভিত্তিক প্রামাণিক কাগজপত্রের ওপর নির্ভরতা কমানো হয়েছে। ফ্রিল্যান্সাররা তাদের উপার্জিত অর্থ দেশে আনার সময় ই-মেইল, প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট বা অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগের মতো ইলেকট্রনিক প্রমাণাদি ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে দ্রুত ও সহজভাবে আয় রেমিট করা সম্ভব হবে এবং কাগজপত্র জোগাড়ের ঝামেলা অনেকটা কমবে।

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্সে ২০,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্রের বাধ্যবাধকতা থাকবে না। এছাড়া অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (ওপিজিএসপি)–এর মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত গ্রহণের সুবিধা দেয়া হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, এসব অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের কার্যাবলি সম্প্রসারণের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ডুয়াল কারেন্সি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকে আরও সহজ করবে।

বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও নতুন বিধান রাখা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের অর্জিত রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০% পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রায় এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) অ্যাকাউন্টে রাখতে পারবেন। অন্য সেবাখাতে রপ্তানিকারকদের জন্য এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০% পর্যন্ত। এই সুযোগ প্রবাসী ও সেবা রপ্তানিকারীদের আন্তর্জাতিক ব্যয় নির্বাহে নমনীয়তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সময়োপযোগী অভিহিত করেছেন। তাদের মতে প্রক্রিয়া সহজ হলে সেবা রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত আয় বড় পরিসরে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আসবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও প্রবাহ শক্তিশালী করার কাজে সহায়ক হবে। সার্বিকভাবে নতুন নির্দেশনাগুলো ফ্রিল্যান্সিং এবং ডিজিটাল সেবা রপ্তানিকে আরও প্রोत्सাহিত করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।