০৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা: বিচার সংস্কারে নতুন গতি

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের যৌথ উদ্যোগে গত ৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত স্থাপন বিষয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনা জানতে এ আয়োজনের প্রাসঙ্গিকতা ছিল ব্যাপক। প্রধান আলোচকেরা বলেন, এর ফলে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও জটিল মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত হবে, টেকসই প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের আস্থা বাড়বে।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগীরা। বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার জন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়নের উপর জোর দেওয়া হয়, যা দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে উন্নত করবে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ মন্তব্য করেন, এই আদালত প্রতিষ্ঠা জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করবে এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিলম্বজনিত ব্যয় কমাবে। তিনি বিশেষ করে চট্টগ্রাম যেমন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এর বাস্তবায়ন আইন-শৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, কানাডার হাইকমিশনার বলেন, এই সংস্কার বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যাবশ্যক, যা বিনিয়োগ বাড়িয়ে আস্থা তৈরি করবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছ ও দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার হবে। সুইডেনের রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্ভরযোগ্য বিচার ব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি।

ইউনডিপির বাংলাদেশের প্রতিনিধি বলেন, এই আদালত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য পরিস্থিতি তৈরি করবে। অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগে এই সংস্কার অর্জন সত্যিই প্রশংসনীয়, যা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৃহত্তর আস্থা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে।

বিশ্লেষকদের প্যানেলে ছিলেন ব্যারিস্টার মারগুব কবির, ব্যারিস্টার সামীর সাত্তার, ইউএনডিপির উপসচিব ও অর্থনীতিবিদ ওয়াইস প্যারে, এবং ডিজিটালাইজেশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস ডেকার। আলোচনা হয়েছে মামলার জট, আইনি কাঠামোর দুর্বলতা, এসএমইদের প্রবেশাধিকার ও অবকাঠামোগত চাহিদা নিয়ে।

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ইউএনডিপির সিনিয়র অ্যাডভাইজর রোমানা শভাইগা। শেষে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বিচারপতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশ্বাস দেন, বিচার বিভাগ এই দিকেই এগিয়ে যাবে যেন দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা: বিচার সংস্কারে নতুন গতি

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের যৌথ উদ্যোগে গত ৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত স্থাপন বিষয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনা জানতে এ আয়োজনের প্রাসঙ্গিকতা ছিল ব্যাপক। প্রধান আলোচকেরা বলেন, এর ফলে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও জটিল মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত হবে, টেকসই প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের আস্থা বাড়বে।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগীরা। বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার জন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়নের উপর জোর দেওয়া হয়, যা দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে উন্নত করবে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ মন্তব্য করেন, এই আদালত প্রতিষ্ঠা জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করবে এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিলম্বজনিত ব্যয় কমাবে। তিনি বিশেষ করে চট্টগ্রাম যেমন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এর বাস্তবায়ন আইন-শৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, কানাডার হাইকমিশনার বলেন, এই সংস্কার বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যাবশ্যক, যা বিনিয়োগ বাড়িয়ে আস্থা তৈরি করবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছ ও দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার হবে। সুইডেনের রাষ্ট্রদূত বলেন, নির্ভরযোগ্য বিচার ব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি।

ইউনডিপির বাংলাদেশের প্রতিনিধি বলেন, এই আদালত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য পরিস্থিতি তৈরি করবে। অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগে এই সংস্কার অর্জন সত্যিই প্রশংসনীয়, যা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৃহত্তর আস্থা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে।

বিশ্লেষকদের প্যানেলে ছিলেন ব্যারিস্টার মারগুব কবির, ব্যারিস্টার সামীর সাত্তার, ইউএনডিপির উপসচিব ও অর্থনীতিবিদ ওয়াইস প্যারে, এবং ডিজিটালাইজেশন বিশেষজ্ঞ ক্রিস ডেকার। আলোচনা হয়েছে মামলার জট, আইনি কাঠামোর দুর্বলতা, এসএমইদের প্রবেশাধিকার ও অবকাঠামোগত চাহিদা নিয়ে।

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন ইউএনডিপির সিনিয়র অ্যাডভাইজর রোমানা শভাইগা। শেষে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বিচারপতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশ্বাস দেন, বিচার বিভাগ এই দিকেই এগিয়ে যাবে যেন দেশের অর্থনৈতিক অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে।