০২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স বাংলাদেশের পুঁজিবাজার

টানা তিন বছর ধরে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও বাংলাদেশিরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেনি। চলতি বছর এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য প্রধান পুঁজিবাজার—ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পারফরম্যান্সের তুলনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে এসব দেশের সূচক যথাক্রমে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি। এই বছর দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল সূচক ডিএসইএক্স কমে গেছে ৬.৭৩ শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্ট, যেখানে গত বছরের শেষে সূচক ছিল ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্ট।

অপরদিকে, পাকিস্তানের প্রধান সূচক কেএসই ৪৫.২৯ শতাংশ বৃদ্ধোয় ১ লাখ ৪ হাজার ៧৩৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের শেষের সূচক ছিল ৭২ হাজার ১৬০ পয়েন্ট। একই সময়ে শ্রীলঙ্কার সিএসই অল সূচক ৪০.৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২২ হাজার ৪৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা ছিল আগের বছরের ১৫ হাজার ৮২৭ পয়েন্ট। আর ভারতের বিএসই সেনসেক্স সূচক ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ৭৮ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৭৮ হাজার ৩৫৮ পয়েন্ট।

হঠাৎ সূচকের পতন সত্ত্বেও, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের মোট বাজার মূলধন ২.৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। তবে লেনদেনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল নেতিবাচক। ২০২৪ সালে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৬৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায়। এর ফলে এক বছরে লেনদেনের পরিমাণ কমে গেছে ১৫.৭১ শতাংশ।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত আন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল—অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান ঘটবে এবং শেয়ার বাজারে পুনরায় আস্থা ফিরে আসবে। তবে কিছু অপরাধীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা ঘোষণা থাকলেও, তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য সরকারের সরাসরি নির্দেশনা থাকার পরও তা সম্ভব হয়নি।

এ সময় পুঁজিবাজারের অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দূরত্বও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, ফলে পুঁজিবাজারের সংস্কার উদ্যোগগুলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স গঠন হলেও কার্যকরি কোনও কর্মসূচি দৃশ্যমান হয়নি। মূলত মার্জিন রুলস ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার মধ্যেই এই সংস্কার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল।

২০২৫ সালে পুঁজিবাজারে বেশ কিছু নেতিবাচক ঘটনা ঘটে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা না করে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত আরও আটটি ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালে বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজার নিয়ে প্রত্যাশা বেশিরভাগই অপূর্ণ রয়ে গেছে। আগের বছরের মতো এ বছরও শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের হতাশায় ঠেলে দিয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স বাংলাদেশের পুঁজিবাজার

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

টানা তিন বছর ধরে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও বাংলাদেশিরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেনি। চলতি বছর এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শেয়ার বাজার সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে ছিল। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য প্রধান পুঁজিবাজার—ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পারফরম্যান্সের তুলনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে এসব দেশের সূচক যথাক্রমে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি। এই বছর দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল সূচক ডিএসইএক্স কমে গেছে ৬.৭৩ শতাংশ, যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্ট, যেখানে গত বছরের শেষে সূচক ছিল ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্ট।

অপরদিকে, পাকিস্তানের প্রধান সূচক কেএসই ৪৫.২৯ শতাংশ বৃদ্ধোয় ১ লাখ ৪ হাজার ៧৩৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের শেষের সূচক ছিল ৭২ হাজার ১৬০ পয়েন্ট। একই সময়ে শ্রীলঙ্কার সিএসই অল সূচক ৪০.৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২২ হাজার ৪৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা ছিল আগের বছরের ১৫ হাজার ৮২৭ পয়েন্ট। আর ভারতের বিএসই সেনসেক্স সূচক ৮ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে ৭৮ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৭৮ হাজার ৩৫৮ পয়েন্ট।

হঠাৎ সূচকের পতন সত্ত্বেও, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের মোট বাজার মূলধন ২.৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। তবে লেনদেনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল নেতিবাচক। ২০২৪ সালে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৬৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায়। এর ফলে এক বছরে লেনদেনের পরিমাণ কমে গেছে ১৫.৭১ শতাংশ।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত আন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল—অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান ঘটবে এবং শেয়ার বাজারে পুনরায় আস্থা ফিরে আসবে। তবে কিছু অপরাধীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা ঘোষণা থাকলেও, তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য সরকারের সরাসরি নির্দেশনা থাকার পরও তা সম্ভব হয়নি।

এ সময় পুঁজিবাজারের অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দূরত্বও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, ফলে পুঁজিবাজারের সংস্কার উদ্যোগগুলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স গঠন হলেও কার্যকরি কোনও কর্মসূচি দৃশ্যমান হয়নি। মূলত মার্জিন রুলস ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার মধ্যেই এই সংস্কার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল।

২০২৫ সালে পুঁজিবাজারে বেশ কিছু নেতিবাচক ঘটনা ঘটে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনা না করে পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি তালিকাভুক্ত আরও আটটি ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালে বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজার নিয়ে প্রত্যাশা বেশিরভাগই অপূর্ণ রয়ে গেছে। আগের বছরের মতো এ বছরও শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের হতাশায় ঠেলে দিয়েছে।