০৭:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী

রাজশাহীতে দুই সংসদীয় আসনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে রাজশাহী-১ ও রাজশাহী-২ আসনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত审ভারতনায়, মোট ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। রাজশাহী-১ আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আল সাআদ ও সুলতানা ইসলাম তারেকের ভোটার সমর্থনে গুরুতর অসঙ্গতি ধরানো হয়। আল সাআদ এর সমর্থনকারী ১০ জনের মধ্যে দুজন মৃত ভোটার এবং চারজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, এছাড়া সুলতানা ইসলামের নথিতে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর ও ভোটার সমর্থনে গরমিলের সমস্যা পাওয়া যায়। এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের মীর মোহাম্মদ শাহজাহানের আবেদনেও দলীয় সভাপতি নূরের স্বাক্ষর অনুপস্থিত থাকায় তাঁর মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়। এ আসন থেকে বিএনপির মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শরীফ উদ্দিন, এ বি পার্টির আব্দুর রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর মুজিবুর রহমান বৈধ হন।

অন্যদিকে, রাজশাহী-২ আসনে নয়জন প্রার্থী ছিলেন, এর মধ্যে ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাবুদ্দিন, লেবার ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ওয়াহিদুজ্জামান এবং সালেহ উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি, আয়-ব্যয় হিসাবের স্বাক্ষর না থাকা এবং মৃত ভোটারের সমর্থন ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ওয়াহিদুজ্জামানের ব্যাংক লোনখেলাপির কারণ তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, আর সালেহ উদ্দিনের আয়কর তালিকা না থাকা ও ভোটার তালিকায় অসঙ্গতির জন্য তিনি নির্বাচন থেকে ছিটকে যান। এই আসনে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর ডা. জাহাঙ্গীর, এ বি পার্টির অ্যাডভোকেট সাঈদ নোমান, ইসলামী আন্দোলনের ফজলুল করিম, লেবার পার্টির মেসবাউল ইসলাম আর নাগরিক ঐক্যের শামসুল আলম চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যারা প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন, তারা উচ্চ পর্যায়ে আপিল করার আইনি সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে সমর্থনকারী ভোটারদের অস্তিত্ব না থাকা, মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর ব্যবহার ও আর্থিক দলিলের স্বচ্ছতার অভাবের বিষয়গুলো কঠোরভাবে দেখা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। নির্বাচনী লড়াই এখন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা পরিণত হয়েছে, কারণ এই দুই আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরাও বৈধতা পেয়ে থাকছেন। প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে জোশের জন্য পুরো এলাকায় নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে এবং সকলেই আগামী পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুতিতে মনোযোগী।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ভারতের নিষেধাজ্ঞায় বেনাপোলের রপ্তানি অর্ধেকে নেমে এসেছে, বাণিজ্য ঘাটির আশঙ্কা

রাজশাহীতে দুই সংসদীয় আসনে ছয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে রাজশাহী-১ ও রাজশাহী-২ আসনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। শনিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত审ভারতনায়, মোট ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও ৬ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। রাজশাহী-১ আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী আল সাআদ ও সুলতানা ইসলাম তারেকের ভোটার সমর্থনে গুরুতর অসঙ্গতি ধরানো হয়। আল সাআদ এর সমর্থনকারী ১০ জনের মধ্যে দুজন মৃত ভোটার এবং চারজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, এছাড়া সুলতানা ইসলামের নথিতে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর ও ভোটার সমর্থনে গরমিলের সমস্যা পাওয়া যায়। এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের মীর মোহাম্মদ শাহজাহানের আবেদনেও দলীয় সভাপতি নূরের স্বাক্ষর অনুপস্থিত থাকায় তাঁর মনোনয়নপত্রও বাতিল হয়। এ আসন থেকে বিএনপির মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শরীফ উদ্দিন, এ বি পার্টির আব্দুর রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর মুজিবুর রহমান বৈধ হন।

অন্যদিকে, রাজশাহী-২ আসনে নয়জন প্রার্থী ছিলেন, এর মধ্যে ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাবুদ্দিন, লেবার ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ওয়াহিদুজ্জামান এবং সালেহ উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি, আয়-ব্যয় হিসাবের স্বাক্ষর না থাকা এবং মৃত ভোটারের সমর্থন ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। ওয়াহিদুজ্জামানের ব্যাংক লোনখেলাপির কারণ তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, আর সালেহ উদ্দিনের আয়কর তালিকা না থাকা ও ভোটার তালিকায় অসঙ্গতির জন্য তিনি নির্বাচন থেকে ছিটকে যান। এই আসনে বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর ডা. জাহাঙ্গীর, এ বি পার্টির অ্যাডভোকেট সাঈদ নোমান, ইসলামী আন্দোলনের ফজলুল করিম, লেবার পার্টির মেসবাউল ইসলাম আর নাগরিক ঐক্যের শামসুল আলম চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যারা প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন, তারা উচ্চ পর্যায়ে আপিল করার আইনি সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে সমর্থনকারী ভোটারদের অস্তিত্ব না থাকা, মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর ব্যবহার ও আর্থিক দলিলের স্বচ্ছতার অভাবের বিষয়গুলো কঠোরভাবে দেখা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন। নির্বাচনী লড়াই এখন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা পরিণত হয়েছে, কারণ এই দুই আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরাও বৈধতা পেয়ে থাকছেন। প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে জোশের জন্য পুরো এলাকায় নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে এবং সকলেই আগামী পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুতিতে মনোযোগী।