০৮:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ১১তম ছবি মেলা শুরু

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব, ’ছবি মেলা’। এই ১১তম আসরটি উদ্বোধনী দিন থেকেই শিল্পকলা প্রাঙ্গণ যেন আলোকচিত্রী, শিল্পী, সংস্কৃৃতিকর্মীরা ও দর্শকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। বিশ্ববিখ্যাত এই উৎসবটি উদ্বোধন করা হয় শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় চিত্রশালা অডিটোরিয়ামে। মূলত দৃক পিকচার লাইব্রেরি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে ২০০০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই আয়োজন চলে আসছে। দীর্ঘ দুই দশকের পথচলায় এটি এখন কেবল একটি প্রদর্শনীর স্তরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটা বৈশ্বিক পর্যায়ের সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা একসঙ্গে অংশগ্রহণ করে নিজেদের সৃষ্টি প্রদর্শন করেন।

উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোকচিত্রের প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব ও প্রধান উপদেষ্টা শহিদুল আলম বলেন, ছবি মেলার গভীরতা কেবল একটি উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মূলত এক ধরনের আন্দোলন, প্রতিরোধ ও জাগরণের নাম। তিনি আরও বলেন, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা এই উৎসবের মূল চালিকা শক্তি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোকচিত্র শিল্পকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয়নি। তবে বর্তমান সরকার এই ঘাটতি পূরণের জন্য সচেষ্ট। তিনি জানান, শিল্পকলা একাডেমির বিভাগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সম্প্রতি পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, আলোকচিত্র বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং উৎসবের পরিচালনা সম্পাদক এএসএম রেজাউর রহমান। এছাড়া, শিল্পকুশলী মুনেম ওয়াসিফ ও সরকার প্রতীক কিউরেটরিয়াল নোট উপস্থাপন করেন। এবারের ছবি মেলার মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘পুনঃ’—একটি ছোট কিন্তু গভীর ভাববাক শব্দ, যার অর্থ আবার শুরু করা, নতুন করে ভাবা বা ভিন্ন আঙ্গিকে এগিয়ে যাওয়া। এই ভাবনা কেন্দ্র করে এবারের প্রদর্শনী সাজানো হয়েছে, যেখানে বিশ্বের পাঁচটি মহাদেশের ১৮টি দেশ থেকে ৫৮ জন শিল্পী তাদের আলোকচিত্র ও ভিজ্যুয়াল কাজ উপস্থাপন করেছেন।

১৬ দিনব্যাপী এই উৎসবটি কেবল একাডেমিতে নয়, ঢাকার পাঁচটি প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলো হলো বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজ দে ঢাকা, দৃকপাঠ ভবন and বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজা। প্রতিদিন বিশ্বের সেরা শিল্পকর্মের প্রদর্শনী উপভোগ করার সুযোগ থাকছে, যা চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। মোট নয়টি প্রদর্শনী দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবারের অনুষ্ঠানে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ১১তম ছবি মেলা শুরু

প্রকাশিতঃ ১১:৫৪:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এশিয়ার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব, ’ছবি মেলা’। এই ১১তম আসরটি উদ্বোধনী দিন থেকেই শিল্পকলা প্রাঙ্গণ যেন আলোকচিত্রী, শিল্পী, সংস্কৃৃতিকর্মীরা ও দর্শকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। বিশ্ববিখ্যাত এই উৎসবটি উদ্বোধন করা হয় শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় চিত্রশালা অডিটোরিয়ামে। মূলত দৃক পিকচার লাইব্রেরি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে ২০০০ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই আয়োজন চলে আসছে। দীর্ঘ দুই দশকের পথচলায় এটি এখন কেবল একটি প্রদর্শনীর স্তরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটা বৈশ্বিক পর্যায়ের সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা একসঙ্গে অংশগ্রহণ করে নিজেদের সৃষ্টি প্রদর্শন করেন।

উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোকচিত্রের প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব ও প্রধান উপদেষ্টা শহিদুল আলম বলেন, ছবি মেলার গভীরতা কেবল একটি উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মূলত এক ধরনের আন্দোলন, প্রতিরোধ ও জাগরণের নাম। তিনি আরও বলেন, একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা এই উৎসবের মূল চালিকা শক্তি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোকচিত্র শিল্পকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হয়নি। তবে বর্তমান সরকার এই ঘাটতি পূরণের জন্য সচেষ্ট। তিনি জানান, শিল্পকলা একাডেমির বিভাগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সম্প্রতি পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, আলোকচিত্র বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঢাকাসহ দেশের আটটি বিভাগে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং উৎসবের পরিচালনা সম্পাদক এএসএম রেজাউর রহমান। এছাড়া, শিল্পকুশলী মুনেম ওয়াসিফ ও সরকার প্রতীক কিউরেটরিয়াল নোট উপস্থাপন করেন। এবারের ছবি মেলার মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘পুনঃ’—একটি ছোট কিন্তু গভীর ভাববাক শব্দ, যার অর্থ আবার শুরু করা, নতুন করে ভাবা বা ভিন্ন আঙ্গিকে এগিয়ে যাওয়া। এই ভাবনা কেন্দ্র করে এবারের প্রদর্শনী সাজানো হয়েছে, যেখানে বিশ্বের পাঁচটি মহাদেশের ১৮টি দেশ থেকে ৫৮ জন শিল্পী তাদের আলোকচিত্র ও ভিজ্যুয়াল কাজ উপস্থাপন করেছেন।

১৬ দিনব্যাপী এই উৎসবটি কেবল একাডেমিতে নয়, ঢাকার পাঁচটি প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলো হলো বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, অ্যালিয়ঁস ফ্রঁসেজ দে ঢাকা, দৃকপাঠ ভবন and বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজা। প্রতিদিন বিশ্বের সেরা শিল্পকর্মের প্রদর্শনী উপভোগ করার সুযোগ থাকছে, যা চলবে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। মোট নয়টি প্রদর্শনী দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবারের অনুষ্ঠানে।