০৬:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬: সমাজের সুরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ আজ আরও একবার তুলে ধরেছে তাদের দায়িত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে কাস্টমসের কাজের ধরণ ও গুরুত্ব নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। একসময় যেখানে কেবলমাত্র রাজস্ব আহরণের মাধ্যম হিসেবে দেখা হতো, সেখানে এখন বিমূর্তভাবে বাণিজ্য সহজীকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, মেধাস্বত্বের সুরক্ষা এবং চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো, বাংলাদেশও ২০২৬ সালের জন্য ডব্লিউসিও — ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন — এর নির্ধারিত প্রতিপাদ্য ‘কাস্টমস প্রোটেক্টিং সোসাইটি: ভিজিল্যান্স অ্যান্ড কমিটমেন্ট’ কে স্বীকৃতি দিয়ে এই দিবসটি উদযাপন করছে। ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশনে সেমিনার, আলোচনা সভা ও নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে কাস্টমসের অর্জন ও বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। এই সময়ে কেন্দ্রীয় ভাবেই কাস্টমসের মূল দায়িত্বগুলো— যেমন দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও অস্ত্রের প্রবেশ রোধ, মানহীন খাদ্য ও ওষুধের প্রসার কমানো— মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে ডব্লিউটিও-টিএফএ, ডব্লিউসিও-আরকেসি, এসএমএএ এবং অন্যান্য চুক্তি অনুসারে কার্যকর সহযোগিতা চালু রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, যেমন আরআইএলও, সিইএন, ই-ভ্যাট, অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট ইত্যাদি, এর ফলাফল। এর ফলে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুততর এবং অটোমেটেড হচ্ছে। বাংলাদেশ কাস্টমস দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রাজস্বের প্রায় ২৭ শতাংশই এসেছে এই খাত থেকে। বিভিন্ন কর ও শুল্ক নীতিতে যুগপোযোগী পরিবর্তনের মাধ্যমে বিদেশি বাণিজ্য সহজ করা হয়েছে। আধুনিকায়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রণালীর উন্নতির কারণে এখন পণ্য খালাসের সময় ব্যাপক হারে কমে এসেছে। বর্তমানে ৯০ শতাংশ পণ্য এক দিনেই শুল্কায়ন সম্পন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি, নন-ইনট্রুসিভ ইনস্পেকশন, পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, ই-অ্যাকশন, কাস্টমস বন্ড ব্যবস্থাপনা, ওভারভিউ ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুত ও ঝুঁকিমুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে দ্রুত প্রযুক্তির পরিবর্তন, মাল্টি-মোডাল পরিবহন ব্যবস্থা ও সীমান্তে নিত্যনতুন অপরাধ কৌশল সামনে আসায় কাস্টমসকে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, পেশাদারিত্ব, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ কাস্টমস দেশের অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে, দেশের নিরাপত্তা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬: সমাজের সুরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ আজ আরও একবার তুলে ধরেছে তাদের দায়িত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে কাস্টমসের কাজের ধরণ ও গুরুত্ব নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। একসময় যেখানে কেবলমাত্র রাজস্ব আহরণের মাধ্যম হিসেবে দেখা হতো, সেখানে এখন বিমূর্তভাবে বাণিজ্য সহজীকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ, মেধাস্বত্বের সুরক্ষা এবং চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো, বাংলাদেশও ২০২৬ সালের জন্য ডব্লিউসিও — ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন — এর নির্ধারিত প্রতিপাদ্য ‘কাস্টমস প্রোটেক্টিং সোসাইটি: ভিজিল্যান্স অ্যান্ড কমিটমেন্ট’ কে স্বীকৃতি দিয়ে এই দিবসটি উদযাপন করছে। ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশনে সেমিনার, আলোচনা সভা ও নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে কাস্টমসের অর্জন ও বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। এই সময়ে কেন্দ্রীয় ভাবেই কাস্টমসের মূল দায়িত্বগুলো— যেমন দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও অস্ত্রের প্রবেশ রোধ, মানহীন খাদ্য ও ওষুধের প্রসার কমানো— মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে ডব্লিউটিও-টিএফএ, ডব্লিউসিও-আরকেসি, এসএমএএ এবং অন্যান্য চুক্তি অনুসারে কার্যকর সহযোগিতা চালু রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, যেমন আরআইএলও, সিইএন, ই-ভ্যাট, অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট ইত্যাদি, এর ফলাফল। এর ফলে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুততর এবং অটোমেটেড হচ্ছে। বাংলাদেশ কাস্টমস দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রাজস্বের প্রায় ২৭ শতাংশই এসেছে এই খাত থেকে। বিভিন্ন কর ও শুল্ক নীতিতে যুগপোযোগী পরিবর্তনের মাধ্যমে বিদেশি বাণিজ্য সহজ করা হয়েছে। আধুনিকায়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন প্রণালীর উন্নতির কারণে এখন পণ্য খালাসের সময় ব্যাপক হারে কমে এসেছে। বর্তমানে ৯০ শতাংশ পণ্য এক দিনেই শুল্কায়ন সম্পন্ন হচ্ছে। পাশাপাশি, নন-ইনট্রুসিভ ইনস্পেকশন, পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট, ই-অ্যাকশন, কাস্টমস বন্ড ব্যবস্থাপনা, ওভারভিউ ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুত ও ঝুঁকিমুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে দ্রুত প্রযুক্তির পরিবর্তন, মাল্টি-মোডাল পরিবহন ব্যবস্থা ও সীমান্তে নিত্যনতুন অপরাধ কৌশল সামনে আসায় কাস্টমসকে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, পেশাদারিত্ব, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ কাস্টমস দেশের অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে, দেশের নিরাপত্তা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য।