০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ইরান: বিক্ষোভের উসকানিদাতাদের কোনও ছাড় নেই

ইরানে সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ এবং সশস্ত্র বাহিনীর ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পরিচালকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ও উসকানিদাতাদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিচার বিভাগীয় সংস্থা মিজান অনলাইনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই।

তিনি বলেন, সাধারণ জনগণের দাবি খুব স্পষ্ট যে, যারা দাঙ্গা, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, তারা যেন দ্রুত বিচার লাভ করে। অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষীদের ন্যায়সঙ্গত শাস্তি নিশ্চিতের প্রতি সরকার সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। তিনি আরও বলেন, অস্ত্র হাতে নিয়েও মানুষ হত্যা, অগ্নিসংযোগ বা গণহত্যার মতো অপরাধ সংঘটিত হলে, বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের জন্য কোন নমনীয়তা দেখানো হবে না। উসকানিদাতাদের শনাক্তে ইতোমধ্যে শক্তিশালী তদন্ত শুরু হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

প্রেসিডেন্টভুক্তের কাছে জীবনযাত্রার চরম অবনতি ও ব্যাপক মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে এটি দ্রুত ৩১টি প্রদেশের প্রায় প্রতিটি শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং পুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। কঠোর দমন-পীড়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত মোট ৩,১৭১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২,৪২৭ জনের নাম “শহীদ” (নিরাপত্তা বাহিনী বা সরকার পন্থী) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ৬৯০ জনের পরিচয় “সন্ত্রাসী বা দাঙ্গাবাজ” হিসেবে দেয়া হয়েছে। যারা সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে, তাদেরকেই মূলত এই শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। সরকার এর মাধ্যমে জানান, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ইরান: বিক্ষোভের উসকানিদাতাদের কোনও ছাড় নেই

প্রকাশিতঃ ১১:৫৭:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ এবং সশস্ত্র বাহিনীর ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পরিচালকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ও উসকানিদাতাদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিচার বিভাগীয় সংস্থা মিজান অনলাইনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন প্রধান বিচারপতি গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই।

তিনি বলেন, সাধারণ জনগণের দাবি খুব স্পষ্ট যে, যারা দাঙ্গা, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, তারা যেন দ্রুত বিচার লাভ করে। অপরাধ প্রমাণিত হলে দোষীদের ন্যায়সঙ্গত শাস্তি নিশ্চিতের প্রতি সরকার সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। তিনি আরও বলেন, অস্ত্র হাতে নিয়েও মানুষ হত্যা, অগ্নিসংযোগ বা গণহত্যার মতো অপরাধ সংঘটিত হলে, বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের জন্য কোন নমনীয়তা দেখানো হবে না। উসকানিদাতাদের শনাক্তে ইতোমধ্যে শক্তিশালী তদন্ত শুরু হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

প্রেসিডেন্টভুক্তের কাছে জীবনযাত্রার চরম অবনতি ও ব্যাপক মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে এটি দ্রুত ৩১টি প্রদেশের প্রায় প্রতিটি শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়; দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং পুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। কঠোর দমন-পীড়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত মোট ৩,১৭১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২,৪২৭ জনের নাম “শহীদ” (নিরাপত্তা বাহিনী বা সরকার পন্থী) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ৬৯০ জনের পরিচয় “সন্ত্রাসী বা দাঙ্গাবাজ” হিসেবে দেয়া হয়েছে। যারা সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বা সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে, তাদেরকেই মূলত এই শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। সরকার এর মাধ্যমে জানান, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।