পাকিস্তানের অস্থিতিশীল প্রদেশ বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহে বেলুচিস্তানে এক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর হামলায় অনেক প্রাণহানি ঘটে, যা নিয়ে দ্বিপাক্ষিক ঐতিহ্যবাহী মতবিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। পাকিস্তান সরাসরি এই হামলার জন্য ভারতের হাতে রয়েছে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছে, অপরদিকে নয়াদিল্লি সেই অভিযোগকে অমূল্য, সাজানো ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এই উল্টো অভিযোগ ও দোষারোপের পাল্টা দফায় দফায় কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও খারাপের দিকে যেতে শুরু করেছে, যা বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন গত সপ্তাহে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) একযোগে ব্যাংক, নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প, সরকারি ভবন ও স্কুলে ভয়াবহ হামলা চালায়। এই হামলায় কমপক্ষে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে পাকিস্তান সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করে ব্যাপক অভিযান চালায়, দাবি করা হচ্ছে যে তারা ১৭৭ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে। পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এক বিবৃতিতে বলেন, তারা এই অঞ্চলে সক্রিয় ভারতীয় এজেন্ট ও তাদের সহযোগীদের খুঁজে বের করে নিঃশেষ করে ফেলেছে। পাকিস্তান বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে, বিএলএ ভারত থেকে অর্থ, অস্ত্র ও সহায়তা পায়, কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান এখন পর্যন্ত কোনভাবে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি।
এই পাকিস্তানের অভিযোগের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পাকিস্তানের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। তিনি জানিয়ে দেন, পাকিস্তান এই ধরনের অভিযোগ করে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি অন্য দিকে ঘোরাতে চাচ্ছে। ভারতের মতে, পাকিস্তানে Internal Failures ও অরাজকতার কারণে তারা আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, পাকিস্তানের উচিত বেলুচিস্তানের সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি ও অধিকারের প্রতি গুরুত্ব দেয়া, যেখানে পাকিস্তানের সরকার মানবাধিকারের লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী দমননীতি চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বেলুচিস্তানে পাকিস্তানের বর্বরতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সাধারণ মানুষের উপর নিপীড়নের ইতিহাস এখনকার বিশ্বপ্রশংসিত বিষয়।
এই দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক উত্তেজনা শুধু সরকারি বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আন্তর্জাতিক মহলে এই বিষয়গুলো আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভারতের দাবি, পাকিস্তান নিজেদের প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারায় নানাভাবে ভারতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তান বিশ্বাস করে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পরিকল্পনাই বেলুচিস্তানের অস্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বিএলএ-কে মদত দিয়ে যায়। এই ধরণের পাল্টা অবস্থান ও অভিযোগের ফলে বেলুচিস্তানের প্রকৃত পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অসন্তोषের সমস্যা এখনো অজানা থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার সংগঠনগুলো। সামগ্রিকভাবে, এই নতুন কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব বেলুচিস্তানের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে আরও ঝুঁকি তৈরি করছে, যা এই প্রদেশের জনগণের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 



















