০৪:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

বাফেটের বার্কশায়ার নিউইয়র্ক টাইমসে ৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করল

বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের সংস্থা বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে দীর্ঘ ছয় বছর পর সংবাদপত্র খাতে বড় পদক্ষেপ নিয়ে ফিরে এসেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থায় জমা করা ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকের শেয়ারতালিকা থেকে জানা গেছে, বার্কশায়ার নিউইয়র্ক টাইমসের শেয়ার কিনে মোট ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

বাফেটের কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি অনেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। কারণ ২০২০ সালে বাফেট সংবাদপত্র শিল্প সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে বেশিরভাগ স্থানীয় পত্রিকা বিক্রি করে দিয়েছিলেন এবং ওই খাত থেকে সরে এসেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন যে সাধারণ স্থানীয় সংবাদপত্রের ব্যবসা সংকুচিত হচ্ছে, তবে শক্তশালী জাতীয় ব্র্যান্ড—যেমন নিউইয়র্ক টাইমস বা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল—টিকে থাকার সম্ভাবনা রাখতে পারে।

এই পুনর্বিনিয়োগই প্রমাণ করে যে বার্কশায়ার এখন নিউইয়র্ক টাইমসের ডিজিটাল রূপান্তর ও ব্যবসায়িক কৌশলে আস্থা রাখছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নিউইয়র্ক টাইমস গত কয়েক বছরে নিজেকে একটি গ্লোবাল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে পেরেছে। প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটিরও বেশি ডিজিটাল গ্রাহক অর্জন করেছে এবং অনলাইন গেমস, ক্রীড়া কেন্দ্রিক পরিষেবা ইত্যাদি যোগ করে আয়ের উৎস বহুমুখী করেছে। শেয়ারবাজারে বার্কশায়ারের এ খবর প্রকাশের পর নিউইয়র্ক টাইমসের শেয়ারের দর দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন গণমাধ্যম বিশ্লেষক এবং শীর্ষ সাংবাদিকতা স্কুলের অধ্যাপক টিম ফ্র্যাঙ্কলিন এই বিনিয়োগকে ‘পূর্ণ চক্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলছেন, বাফেটের সিদ্ধান্ত স্থানীয় সংবাদপত্রদের জন্যও শিক্ষণীয় উদাহরণ হতে পারে।

একই রিপোর্টে দেখা গেছে, বার্কশায়ার হঠাৎ করেই জ্বালানি খাতে তাদের অবস্থান বাড়িয়েছে—বিশেষত শেভরন কোম্পানিতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশটির তেল সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্ত হওয়ায় শেভরনের শেয়ারের মূল্য বছরে প্রায় ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; সেই প্রেক্ষিতে বার্কশায়ারের এটি একটি কৌশলগত সুবিধাজনক বিনিয়োগ।

অন্যদিকে প্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতে বার্কশায়ার কিছুটা কনজারভেটিভ ভূমিকা নিয়েছে। গত প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি তাদের হাতে থাকা অ্যাপলের প্রায় ১ কোটি শেয়ার ও ব্যাংক অব আমেরিকার প্রায় ৫ কোটি শেয়ার বিক্রি করেছে। তবু বিক্রির পরেও বার্কশায়ারের কাছে রয়েছে অ্যাপলের প্রায় ২২ কোটি ৮০ লাখ ও ব্যাংক অব আমেরিকার প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ শেয়ার।

জড়িত সংস্থাগুলোর বাইরে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে জেইকো বিমা, বিএনএসএফ রেলওয়ে, ডেইরি কুইনসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোরও মালিক। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাফেটের উত্তরসূরির অধীনে এখন প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে এই নতুন বিনিয়োগ কৌশল পরিচালনা করবে তা বিশ্ব অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

সংক্ষেপে, বার্কশায়ারের নিউইয়র্ক টাইমসে পুনরায় বিনিয়োগ ও তেলের খাতে পজিশন বাড়ানো—এই দুই ঘটনাই দেখায় যে প্রতিষ্ঠানটি বাজারের পরিবর্তন অনুযায়ী নিজের কৌশল আপডেট করছে, যেখানে শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা দুইটিকেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

বাফেটের বার্কশায়ার নিউইয়র্ক টাইমসে ৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করল

প্রকাশিতঃ ০৩:২৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের সংস্থা বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে দীর্ঘ ছয় বছর পর সংবাদপত্র খাতে বড় পদক্ষেপ নিয়ে ফিরে এসেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থায় জমা করা ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকের শেয়ারতালিকা থেকে জানা গেছে, বার্কশায়ার নিউইয়র্ক টাইমসের শেয়ার কিনে মোট ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

বাফেটের কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি অনেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। কারণ ২০২০ সালে বাফেট সংবাদপত্র শিল্প সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করে বেশিরভাগ স্থানীয় পত্রিকা বিক্রি করে দিয়েছিলেন এবং ওই খাত থেকে সরে এসেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন যে সাধারণ স্থানীয় সংবাদপত্রের ব্যবসা সংকুচিত হচ্ছে, তবে শক্তশালী জাতীয় ব্র্যান্ড—যেমন নিউইয়র্ক টাইমস বা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল—টিকে থাকার সম্ভাবনা রাখতে পারে।

এই পুনর্বিনিয়োগই প্রমাণ করে যে বার্কশায়ার এখন নিউইয়র্ক টাইমসের ডিজিটাল রূপান্তর ও ব্যবসায়িক কৌশলে আস্থা রাখছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নিউইয়র্ক টাইমস গত কয়েক বছরে নিজেকে একটি গ্লোবাল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে পেরেছে। প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটিরও বেশি ডিজিটাল গ্রাহক অর্জন করেছে এবং অনলাইন গেমস, ক্রীড়া কেন্দ্রিক পরিষেবা ইত্যাদি যোগ করে আয়ের উৎস বহুমুখী করেছে। শেয়ারবাজারে বার্কশায়ারের এ খবর প্রকাশের পর নিউইয়র্ক টাইমসের শেয়ারের দর দ্রুত বাড়তে শুরু করে।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন গণমাধ্যম বিশ্লেষক এবং শীর্ষ সাংবাদিকতা স্কুলের অধ্যাপক টিম ফ্র্যাঙ্কলিন এই বিনিয়োগকে ‘পূর্ণ চক্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলছেন, বাফেটের সিদ্ধান্ত স্থানীয় সংবাদপত্রদের জন্যও শিক্ষণীয় উদাহরণ হতে পারে।

একই রিপোর্টে দেখা গেছে, বার্কশায়ার হঠাৎ করেই জ্বালানি খাতে তাদের অবস্থান বাড়িয়েছে—বিশেষত শেভরন কোম্পানিতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশটির তেল সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্ত হওয়ায় শেভরনের শেয়ারের মূল্য বছরে প্রায় ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; সেই প্রেক্ষিতে বার্কশায়ারের এটি একটি কৌশলগত সুবিধাজনক বিনিয়োগ।

অন্যদিকে প্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতে বার্কশায়ার কিছুটা কনজারভেটিভ ভূমিকা নিয়েছে। গত প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটি তাদের হাতে থাকা অ্যাপলের প্রায় ১ কোটি শেয়ার ও ব্যাংক অব আমেরিকার প্রায় ৫ কোটি শেয়ার বিক্রি করেছে। তবু বিক্রির পরেও বার্কশায়ারের কাছে রয়েছে অ্যাপলের প্রায় ২২ কোটি ৮০ লাখ ও ব্যাংক অব আমেরিকার প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ শেয়ার।

জড়িত সংস্থাগুলোর বাইরে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে জেইকো বিমা, বিএনএসএফ রেলওয়ে, ডেইরি কুইনসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোরও মালিক। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাফেটের উত্তরসূরির অধীনে এখন প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে এই নতুন বিনিয়োগ কৌশল পরিচালনা করবে তা বিশ্ব অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।

সংক্ষেপে, বার্কশায়ারের নিউইয়র্ক টাইমসে পুনরায় বিনিয়োগ ও তেলের খাতে পজিশন বাড়ানো—এই দুই ঘটনাই দেখায় যে প্রতিষ্ঠানটি বাজারের পরিবর্তন অনুযায়ী নিজের কৌশল আপডেট করছে, যেখানে শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং ভূ-রাজনৈতিক সুবিধা দুইটিকেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।