১১:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও আন্দোলনের ঝড়

সম্প্রতি রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের শেষ ঘটনা সত্ত্বেও, ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও শুরু হয়েছে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও অনেকের অভিযোগ, এই আন্দোলন উসকানিতে যুক্তরাষ্ট্রের যোগসাজশ রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় জানুয়ারির শুরুতে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। এর প্রতিরোধে খামেরি প্রশাসন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার স্কুল-কলেজ খুলতেই ক্ষোভের পরিমাণ বেড়েছে। জানুয়ারির সহিংস দমন-পীড়নে নিহতদের স্মরণসভা এখন প্রতিবাদের একটি অঙ্গ হিসেবে পরিণত হয়েছে। তেহরান, মাশহাদ এবং ইসফাহানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব কর্মসূচিতে কখনও কখনও সরকারপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

তবে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, জনতার ভাবনা পরিবর্তন হয়েছে। কিছু নেতৃস্থানীয় শিক্ষার্থীর মধ্যে ইরানের স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে স্বদেশের রাজা প্রিন্স রেজা শাহের নাম উচ্চারিত হচ্ছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরবর্তীতে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবির সূচনা করেছে। ক্রমশই প্রাচীন পতাকা ও সংকেতগুলো পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ছে।

প্রতিবাদীরা স্লোগানে বলছেন- ‘এই ফুল ঝরে গেছে, মাতৃভূমির জন্য উপহার/ নারী, জীবন, স্বাধীনতা/ সহযোদ্ধাদের রক্তের শপথ, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।’[ভিডিও লিঙ্ক বা সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিবেদন দিয়ে], যেখানে দেখা যায় সরকারপন্থি ও বিরোধী শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। সরকারপন্থিরা একজনের স্লোগান দেন- ‘আল্লাহু আকবর’, আরেকটি শ্লোগানে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘মহান নেতা খামেনির সমর্থনে নীতিগ্রহণ।’

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধর্মতত্ত্বের গবেষক মোহাম্মদ রেজা মোহাম্দির স্মরণে এক অনুষ্ঠান আয়োজন করে। ‘ইউনাইটেড স্টুডেন্টস’ গোষ্ঠীর অভিযোগ, বাসিজ ছাত্রসংগঠন এই অনুষ্ঠানটি নিজেদের দখলে রাখতে চায় এবং দাবি করে, নিহত শিক্ষার্থী সরকারের পক্ষের।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও নানা ধরনের প্রতীক ও প্রতিচিহ্ন ফুটে ওঠছে। কিছু শিক্ষার্থী ইরানের ১৯৭৯ সালের আগে ব্যবহৃত সিংহ ও সূর্যচিহ্নযুক্ত পতাকা নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন; কেউ আবার ১৯৭৯ সালের আগে ব্যবহার হওয়া দেশিক নীতির পুনর্বহালের দাবি তোলেন।

আইনের আওতায়, ইরানে ২০০০ সালে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, অনুমতি না থাকলে কোনও সামরিক, পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই আইনের বাস্তবায়নকালে ১৯৯৯ সালে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবাসে হামলার পর এই আইন কার্যকর হয় আবার।

শুধু তা-ই নয়, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই আইনের বর্ণিত বিধান অমান্য করে নিরাপত্তা বাহিনী বারবার ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশ করেছে। তবুও, ছাত্র-অধ্যাপকরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, একনিষ্ঠভাবে দেশের স্বাধিকার এবং গণতন্ত্রের জন্য।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও আন্দোলনের ঝড়

প্রকাশিতঃ ০১:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সম্প্রতি রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের শেষ ঘটনা সত্ত্বেও, ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও শুরু হয়েছে স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও অনেকের অভিযোগ, এই আন্দোলন উসকানিতে যুক্তরাষ্ট্রের যোগসাজশ রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় জানুয়ারির শুরুতে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। এর প্রতিরোধে খামেরি প্রশাসন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আবার স্কুল-কলেজ খুলতেই ক্ষোভের পরিমাণ বেড়েছে। জানুয়ারির সহিংস দমন-পীড়নে নিহতদের স্মরণসভা এখন প্রতিবাদের একটি অঙ্গ হিসেবে পরিণত হয়েছে। তেহরান, মাশহাদ এবং ইসফাহানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব কর্মসূচিতে কখনও কখনও সরকারপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

তবে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, জনতার ভাবনা পরিবর্তন হয়েছে। কিছু নেতৃস্থানীয় শিক্ষার্থীর মধ্যে ইরানের স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে স্বদেশের রাজা প্রিন্স রেজা শাহের নাম উচ্চারিত হচ্ছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পরবর্তীতে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবির সূচনা করেছে। ক্রমশই প্রাচীন পতাকা ও সংকেতগুলো পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়ছে।

প্রতিবাদীরা স্লোগানে বলছেন- ‘এই ফুল ঝরে গেছে, মাতৃভূমির জন্য উপহার/ নারী, জীবন, স্বাধীনতা/ সহযোদ্ধাদের রক্তের শপথ, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।’[ভিডিও লিঙ্ক বা সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিবেদন দিয়ে], যেখানে দেখা যায় সরকারপন্থি ও বিরোধী শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। সরকারপন্থিরা একজনের স্লোগান দেন- ‘আল্লাহু আকবর’, আরেকটি শ্লোগানে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘মহান নেতা খামেনির সমর্থনে নীতিগ্রহণ।’

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধর্মতত্ত্বের গবেষক মোহাম্মদ রেজা মোহাম্দির স্মরণে এক অনুষ্ঠান আয়োজন করে। ‘ইউনাইটেড স্টুডেন্টস’ গোষ্ঠীর অভিযোগ, বাসিজ ছাত্রসংগঠন এই অনুষ্ঠানটি নিজেদের দখলে রাখতে চায় এবং দাবি করে, নিহত শিক্ষার্থী সরকারের পক্ষের।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও নানা ধরনের প্রতীক ও প্রতিচিহ্ন ফুটে ওঠছে। কিছু শিক্ষার্থী ইরানের ১৯৭৯ সালের আগে ব্যবহৃত সিংহ ও সূর্যচিহ্নযুক্ত পতাকা নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন; কেউ আবার ১৯৭৯ সালের আগে ব্যবহার হওয়া দেশিক নীতির পুনর্বহালের দাবি তোলেন।

আইনের আওতায়, ইরানে ২০০০ সালে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, অনুমতি না থাকলে কোনও সামরিক, পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই আইনের বাস্তবায়নকালে ১৯৯৯ সালে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রাবাসে হামলার পর এই আইন কার্যকর হয় আবার।

শুধু তা-ই নয়, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই আইনের বর্ণিত বিধান অমান্য করে নিরাপত্তা বাহিনী বারবার ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশ করেছে। তবুও, ছাত্র-অধ্যাপকরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, একনিষ্ঠভাবে দেশের স্বাধিকার এবং গণতন্ত্রের জন্য।