০২:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ই-রিটার্নে নতুন মাইলফলক: অনলাইন আয়কর দাখিল ৪০ লাখ ছাড়াল

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরে বড় সাফল্য ঘোষণা করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ কর বছরে এখন পর্যন্ত ৪০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে তাদের আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিল করেছেন—এই তথ্য এনবিআরের বুধবার (৪ মার্চ) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ই-রিটার্ন দাখিল প্রায় তিনগুণ বেড়েছে, যা এনবিআর মতে করদাতাদের আধুনিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

এনবিআর জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণি বাদে সমস্ত ব্যক্তিগত করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট থেকে চালু হওয়া এই ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসেই সবচেয়ে বেশি—১০ লাখ ৪০ হাজার—রিটার্ন জমা হয়েছিল, আর ডিসেম্বরেই প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার করদাতা রিটার্ন দাখিল করেন। চলতি মাসের প্রথম চার দিনেই প্রায় ৩৭ হাজার করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। তুলনায় গত বছর নির্ধারিত সময়ে ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন মাত্র ১৩ লাখ ৯৯ হাজার করদাতা।

দাখিলকৃত রিটার্নের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ফাইলকৃত রিটার্নের মধ্যে ২৮ লাখ ৬৬ হাজার পুরুষ ও ১১ লাখ ৩৬ হাজার নারী করদাতা রয়েছেন। শ্রেণিভিত্তিকভাবে বেতনভোগীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি—প্রায় ২১ লাখ করদাতা তাঁদের বেতনভিত্তিক আয় দেখিয়েছেন। এছাড়া ভাড়া থেকে আয় ও অন্যান্য খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। করযোগ্য সীমার নীচে থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২২ লাখ নাগরিক সচেতনতার পরিচয় দিয়ে রিটার্ন দাখিল করেছেন, এবং প্রায় ৫০ হাজার করদাতা সম্পদ ও আয়ের ওপর ভিত্তি করে সারচার্জ পরিশোধ করেছেন।

অনলাইন দাখিল প্রক্রিয়ার প্রধান সুবিধা হলো সহজলভ্যতা ও দ্রুততা। করদাতারা কোনো কাগজপত্র আপলোড না করেই ঘরে বসে কয়েক মিনিটে রিটার্ন পূরণ ও জমা দিতে পারেন। বিকাশ, নগদ, ক্রেডিট কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর পরিশোধ করলেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাওয়া যায় এবং আয়কর সনদ প্রিন্ট করা সম্ভব। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরাও ই-মেইলের মাধ্যমে ওটিপি নিয়ে সহজে তাদের দায়বদ্ধতা সম্পন্ন করতে পারছেন। যদি দাখিলকৃত রিটার্নে কোনো ভুল থাকে, তবে ১৮০ দিন পর্যন্ত সেটি সংশোধন করার সুবিধাও রয়েছে।

করদাতাদের সেবা নিশ্চিত করতে এনবিআর প্রতিটি কর অঞ্চলে হেল্পডেস্ক খুলেছে এবং সার্বক্ষণিক কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১) চালু রেখেছে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও সাহায্য ও সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে। জরিমানা ও আইনগত জটিলতা এড়াতে এনবিআর সকল করদাতাকে অনুরোধ করেছে যে, ৩১ মার্চের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম সম্পন্ন করুন। প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনের ফলে দেশের রাজস্ব আহরণ আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে—এমনটাই আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ই-রিটার্নে নতুন মাইলফলক: অনলাইন আয়কর দাখিল ৪০ লাখ ছাড়াল

প্রকাশিতঃ ০৩:২৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের কর ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরে বড় সাফল্য ঘোষণা করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ কর বছরে এখন পর্যন্ত ৪০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে তাদের আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিল করেছেন—এই তথ্য এনবিআরের বুধবার (৪ মার্চ) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ই-রিটার্ন দাখিল প্রায় তিনগুণ বেড়েছে, যা এনবিআর মতে করদাতাদের আধুনিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

এনবিআর জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণি বাদে সমস্ত ব্যক্তিগত করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট থেকে চালু হওয়া এই ব্যবস্থায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করেছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসেই সবচেয়ে বেশি—১০ লাখ ৪০ হাজার—রিটার্ন জমা হয়েছিল, আর ডিসেম্বরেই প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার করদাতা রিটার্ন দাখিল করেন। চলতি মাসের প্রথম চার দিনেই প্রায় ৩৭ হাজার করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। তুলনায় গত বছর নির্ধারিত সময়ে ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন মাত্র ১৩ লাখ ৯৯ হাজার করদাতা।

দাখিলকৃত রিটার্নের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ফাইলকৃত রিটার্নের মধ্যে ২৮ লাখ ৬৬ হাজার পুরুষ ও ১১ লাখ ৩৬ হাজার নারী করদাতা রয়েছেন। শ্রেণিভিত্তিকভাবে বেতনভোগীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি—প্রায় ২১ লাখ করদাতা তাঁদের বেতনভিত্তিক আয় দেখিয়েছেন। এছাড়া ভাড়া থেকে আয় ও অন্যান্য খাত থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। করযোগ্য সীমার নীচে থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২২ লাখ নাগরিক সচেতনতার পরিচয় দিয়ে রিটার্ন দাখিল করেছেন, এবং প্রায় ৫০ হাজার করদাতা সম্পদ ও আয়ের ওপর ভিত্তি করে সারচার্জ পরিশোধ করেছেন।

অনলাইন দাখিল প্রক্রিয়ার প্রধান সুবিধা হলো সহজলভ্যতা ও দ্রুততা। করদাতারা কোনো কাগজপত্র আপলোড না করেই ঘরে বসে কয়েক মিনিটে রিটার্ন পূরণ ও জমা দিতে পারেন। বিকাশ, নগদ, ক্রেডিট কার্ড বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর পরিশোধ করলেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাওয়া যায় এবং আয়কর সনদ প্রিন্ট করা সম্ভব। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরাও ই-মেইলের মাধ্যমে ওটিপি নিয়ে সহজে তাদের দায়বদ্ধতা সম্পন্ন করতে পারছেন। যদি দাখিলকৃত রিটার্নে কোনো ভুল থাকে, তবে ১৮০ দিন পর্যন্ত সেটি সংশোধন করার সুবিধাও রয়েছে।

করদাতাদের সেবা নিশ্চিত করতে এনবিআর প্রতিটি কর অঞ্চলে হেল্পডেস্ক খুলেছে এবং সার্বক্ষণিক কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১) চালু রেখেছে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও সাহায্য ও সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে। জরিমানা ও আইনগত জটিলতা এড়াতে এনবিআর সকল করদাতাকে অনুরোধ করেছে যে, ৩১ মার্চের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম সম্পন্ন করুন। প্রযুক্তিগত এই পরিবর্তনের ফলে দেশের রাজস্ব আহরণ আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে—এমনটাই আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।