০৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

কাতারের গ্যাস বন্ধ, উচ্চ দামে এলএনজিতে تعتمد বাংলাদেশ

ইরান-ইসরায়েলiege সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এর সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি চাপে পড়তে পারে। বাধ্য হয়ে সরকার এখন খোলা বাজার থেকে অনেক বেশি দামে এলএনজি কিনছে, যা দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

কাতার এনার্জি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে ‘ফোর্স মেজার’ বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি ঘোষণা করার পর দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় চাপ বেড়েছে। এরই মধ্যে সরকার গ্যাস রেশনিং শুরু করেছে এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা উচ্চমূল্যে কিছু জরুরি এলএনজি কার্গো আমদানি করেছে বলে জানা গেছে। এই জন্য মার্চ মাসে দুটি করে এলএনজি চালান সংগ্রহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পেট্রোবাংলার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গত মার্চে প্রতি এমএমবিিটিইউ ২৮.২৮ ডলারে একটি কার্গো কিনেছি, যা আগামী ১৫-১৬ মার্চের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে। এছাড়া আরও এক চালান ভিটোল থেকে ২৩.০৮ ডলারে কেনা হয়েছে, যা ১৮-১৯ মার্চের মধ্যে আসবে।

তুলনার দিক থেকে দেখা যায়, নতুন করে কেনা এই এলএনজির দাম গত জানুয়ারির তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। তখন আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ১০ ডলারে এলএনজি সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল। কিছু মাসের ব্যবধানে সেই দাম বেড়ে প্রায় ২৯ ডলারে পৌঁছানোয় সরকারের জ্বালানি আমদানির ব্যয় আরও বাড়ছে।

সরকারের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সরকারের কাছে বিকল্প হিসেবে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনার বিকল্প ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। সরবরাহ সংকটের কারণে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জরুরি খাতগুলো অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন, যদি এই অচলাবস্থার সংকটে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বাংলাদেশ আরও বেশি সময় ধরে স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর বড় চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিগত এই জ্বালানি সংকট শিল্প উৎপাদন ও কৃষি খাতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সার কারখানা বন্ধ থাকায় সারের ঘাটতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে, সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের উচ্চমূল্য দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে শুধু জ্বালানি সরবরাহই নয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

কাতারের গ্যাস বন্ধ, উচ্চ দামে এলএনজিতে تعتمد বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ ০৪:৪৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

ইরান-ইসরায়েলiege সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এর সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি চাপে পড়তে পারে। বাধ্য হয়ে সরকার এখন খোলা বাজার থেকে অনেক বেশি দামে এলএনজি কিনছে, যা দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

কাতার এনার্জি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে ‘ফোর্স মেজার’ বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি ঘোষণা করার পর দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় চাপ বেড়েছে। এরই মধ্যে সরকার গ্যাস রেশনিং শুরু করেছে এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সরকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা উচ্চমূল্যে কিছু জরুরি এলএনজি কার্গো আমদানি করেছে বলে জানা গেছে। এই জন্য মার্চ মাসে দুটি করে এলএনজি চালান সংগ্রহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পেট্রোবাংলার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গত মার্চে প্রতি এমএমবিিটিইউ ২৮.২৮ ডলারে একটি কার্গো কিনেছি, যা আগামী ১৫-১৬ মার্চের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে। এছাড়া আরও এক চালান ভিটোল থেকে ২৩.০৮ ডলারে কেনা হয়েছে, যা ১৮-১৯ মার্চের মধ্যে আসবে।

তুলনার দিক থেকে দেখা যায়, নতুন করে কেনা এই এলএনজির দাম গত জানুয়ারির তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। তখন আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ১০ ডলারে এলএনজি সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল। কিছু মাসের ব্যবধানে সেই দাম বেড়ে প্রায় ২৯ ডলারে পৌঁছানোয় সরকারের জ্বালানি আমদানির ব্যয় আরও বাড়ছে।

সরকারের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সরকারের কাছে বিকল্প হিসেবে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনার বিকল্প ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। সরবরাহ সংকটের কারণে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জরুরি খাতগুলো অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন, যদি এই অচলাবস্থার সংকটে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বাংলাদেশ আরও বেশি সময় ধরে স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হবে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর বড় চাপে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিগত এই জ্বালানি সংকট শিল্প উৎপাদন ও কৃষি খাতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সার কারখানা বন্ধ থাকায় সারের ঘাটতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে, সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের উচ্চমূল্য দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে শুধু জ্বালানি সরবরাহই নয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।