১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ঢাবিতে পিটিয়ে হত্যা: ২২ আসামির গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে সন্দেহজনক অবস্থায় ঘোরাফেরা করছিলেন এক যুবক, যার নাম তোফাজ্জল। ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতের প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে তাকে আটক করে ছাত্ররা। প্রথমে তাকে হলের মূল ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মোবাইল চুরির অভিযোগে তীব্র পিটুনির শিকার করা হয়। তখন ওই যুবক নিজের নাম তোফাজ্জল জানালে তাকে মানসিক রোগী বলে অনুমান করে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে হাত বেঁধে জানালার পাশে বসিয়ে তার ওপর ছাত্রদের আক্রোশ উন্মোচিত হয়। কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র তাকে হকিস্টিক, স্ট্যম্প, ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার পরদিন, ১৯ সেপ্টেম্বর, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ শাহবাগ থানায় মামলা করেন। তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্ত ২১ শিক্ষার্থীসহ আরও কয়েকজন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। মামলা তদন্তের স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, তবে ঘটনাটির তদন্ত সম্পন্ন হয়নি বলে নারাজি দেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিবিআই মামলার পুনরায় তদন্ত শুরু করে। ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর তাদের নতুন করে ২৮ জন অভিযুক্তের名字সহ অভিযোগপত্র দাখিল করে।

উল্লেখ্য, এই মামলার মধ্যে অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন—আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, ওয়াজিবুল আলম—জামিনে থাকলেও, অন্যরা কারাগারে রয়েছেন বা পলাতক। আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ), ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ২২জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আদালত বলেন, বোদ্ধারা জানিয়েছিলেন, বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ অভিযোগপত্রে নারাজি দেবেন, তবে তিনি তেমন কিছু বলেননি। ফলে সব আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করা হয়।

এ ঘটনায় তদন্ত চলাকালে জানা গেছে, এই মারধর ও হত্যার পাষণ্ড ঘটনা আত্মপ্রকাশ করে যে, একদল ছাত্র তার মানসিক অস্থিরতা বা সন্দেহজনক অবস্থার কারণে পরিকল্পিতভাবে এই প্রাণঘাতী হামলা চালায়। এই হত্যাকাণ্ডের ফলে ঢাবির ছাত্রসমাজের মধ্যে ব্যাপক শোক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ঢাবিতে পিটিয়ে হত্যা: ২২ আসামির গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

প্রকাশিতঃ ১১:৪৬:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে সন্দেহজনক অবস্থায় ঘোরাফেরা করছিলেন এক যুবক, যার নাম তোফাজ্জল। ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতের প্রায় ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে তাকে আটক করে ছাত্ররা। প্রথমে তাকে হলের মূল ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মোবাইল চুরির অভিযোগে তীব্র পিটুনির শিকার করা হয়। তখন ওই যুবক নিজের নাম তোফাজ্জল জানালে তাকে মানসিক রোগী বলে অনুমান করে খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে হাত বেঁধে জানালার পাশে বসিয়ে তার ওপর ছাত্রদের আক্রোশ উন্মোচিত হয়। কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র তাকে হকিস্টিক, স্ট্যম্প, ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় রাত ১টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার পরদিন, ১৯ সেপ্টেম্বর, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ শাহবাগ থানায় মামলা করেন। তদন্তে উঠে আসে, অভিযুক্ত ২১ শিক্ষার্থীসহ আরও কয়েকজন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। মামলা তদন্তের স্বার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, তবে ঘটনাটির তদন্ত সম্পন্ন হয়নি বলে নারাজি দেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিবিআই মামলার পুনরায় তদন্ত শুরু করে। ২০২৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর তাদের নতুন করে ২৮ জন অভিযুক্তের名字সহ অভিযোগপত্র দাখিল করে।

উল্লেখ্য, এই মামলার মধ্যে অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন—আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, ওয়াজিবুল আলম—জামিনে থাকলেও, অন্যরা কারাগারে রয়েছেন বা পলাতক। আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ), ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ২২জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আদালত বলেন, বোদ্ধারা জানিয়েছিলেন, বাদী মোহাম্মদ আমানুল্লাহ অভিযোগপত্রে নারাজি দেবেন, তবে তিনি তেমন কিছু বলেননি। ফলে সব আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করা হয়।

এ ঘটনায় তদন্ত চলাকালে জানা গেছে, এই মারধর ও হত্যার পাষণ্ড ঘটনা আত্মপ্রকাশ করে যে, একদল ছাত্র তার মানসিক অস্থিরতা বা সন্দেহজনক অবস্থার কারণে পরিকল্পিতভাবে এই প্রাণঘাতী হামলা চালায়। এই হত্যাকাণ্ডের ফলে ঢাবির ছাত্রসমাজের মধ্যে ব্যাপক শোক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।