০২:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

৬৯-এও ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ অনিল কাপুর: ‘সুবেদার’-এ শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন

হিন্দি সিনেমার ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ ধারণাটি বহু বছর ধরেই দর্শকপ্রিয়। সাধারণত এই চরিত্রগুলো হয় সংক্ষিপ্তভাষী, প্রতিবাদী আর ধারালো অভিব্যক্তির অধিকারী। কিন্তু বয়স যখন ৬৯, তখন কি এই ধাঁচের ভূমিকায় সাফল্য সম্ভব? সুরেশ ত্রিবেণীর পরিচালনায় এবং অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সুবেদার’-এ অনিল কাপুর দেখিয়েছেন, প্রতিভা ও ব্যক্তিত্ব থাকলে সংখ্যা কেবল একটি সংখ্যা থাকেই—তা দিয়ে চরিত্রের তীব্রতা মিটবে না।

চিত্রনাট্য আবর্তিত হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা অর্জুন মৌর্যকে কেন্দ্র করে। সীমান্ত দায়িত্ব শেষে যখন অর্জুন বাড়ি ফেরেন, তখন চারপাশের জীবন বদলে গেছে—পেশাগত খটকা ছাড়াও পারিবারিক সম্পর্কগুলো ক্রমশ সুতময়ে হয়নি। তাঁর অনুপস্থিতিতে স্ত্রীর মৃত্যু এবং মেয়ের শ্যামার (রাধিকা মদন) মধ্যে জমে থাকা বিষ্ময় ও ক্ষোভ ছবির মানবিক কেন্দ্রবিন্দু।

কাহিনীর মূল সংঘাত শুরু হয় অর্জুনের প্রিয় লাল জিপসি গাড়িটিকে স্থানীয় অপরাধীদের লালসার কারণে—এই ঘটনাই তাকে পুনরায় সংঘর্ষের মুখোমুখি করে। পরিচালকের গঠন এবং নান্দনিকতা সিনেমাটিকে একটি কড়া বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করেছে, যেখানে ছোট্ট শহরের ভাঙাচোরা অলিগলি ও ক্ষমতার অনিয়ম সহজে চোখে পড়ে।

অভিনয়ের নিরিখে ‘সুবেদার’ মূলত অনিল কাপুরের ওপর দাঁড়িয়েছে। তিনি সংলাপের চেয়ে চোখের ভাষা ও নীরব অভিব্যক্তিতে জোর দিয়েছেন; স্বল্পকথায় তাঁর নির্ভীক উপস্থিতি চরিত্রটিকে এক ধরণের সজীব আগ্নেয়গিরির সঙ্গে তুল্য করে। এত বয়সেও অ্যাকশন দৃশ্যে তাঁর ফিজিক্যালিটি এবং নিয়ন্ত্রিত শক্তি প্রশংসনীয়।

রাধিকা মদন শ্যামার ভূমিকায় বলিষ্ঠ; তিনি একটি আধুনিক, আত্মসম্মানশীল কন্যার ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন—যিনি বাবার অনুপস্থিতি ও জীবনে এসে পড়া হুমকির মোকাবিলা করার সাহস দেখান। ছবিতে সৌরভ শুক্লা, মোনা সিং ও আদিত্য রাওয়ালসহ অনান্য পার্শ্বচরিত্রকাররাও কম সময় পেলেও গল্পকে দৃঢ়তা দিয়েছেন।

সাউন্ড ডিজাইন এবং অধ্যায়ভিত্তিক আখ্যানচালনা ছবির শৈল্পিক মান অনেকাংশে বাড়িয়েছে। যদিও ক্লাইম্যাক্স কিছুটা অনুমেয় লাগতে পারে এবং মাঝে মাঝে গতি কিছুটা ধীর লাগে, তবু গল্পের অন্তর্নিহিত সামাজিক ব্যাথা ও ব্যক্তিগত প্রতিশোধের আড়ালে যে বৃহত্তর বিচারের আকাঙ্ক্ষা ফুটে আসে, তা ছবিটিকে রীতিমতো এক সাধারণ রিভেঞ্জ ড্রামার বাইরে নিয়ে যায়।

দৈর্ঘ্য ও তাল মেলানো নিয়ে যে কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে, সেগুলো থাকলেও ‘সুবেদার’ দেখতে সময় নষ্ট বলে মনে হবে না। চকচকে বলিউডের আভিজাত্যের বাইরে এই ছবি অন্ধকার শহরের নির্মম বাস্তবতা ও একজন বয়স্ক যুদ্ধবীর সংগ্রামের রূপ তুলে ধরে। মূলত অনিল কাপুরের সমর্থ অভিনয় এবং সুরেশ ত্রিবেণীর পরিপক্ক পরিচালনা মিলিয়ে এই অ্যাকশন-ড্রামা দর্শকের মনে নিজের জায়গা করে নেবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

৬৯-এও ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ অনিল কাপুর: ‘সুবেদার’-এ শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন

প্রকাশিতঃ ০৯:২৩:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

হিন্দি সিনেমার ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ ধারণাটি বহু বছর ধরেই দর্শকপ্রিয়। সাধারণত এই চরিত্রগুলো হয় সংক্ষিপ্তভাষী, প্রতিবাদী আর ধারালো অভিব্যক্তির অধিকারী। কিন্তু বয়স যখন ৬৯, তখন কি এই ধাঁচের ভূমিকায় সাফল্য সম্ভব? সুরেশ ত্রিবেণীর পরিচালনায় এবং অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সুবেদার’-এ অনিল কাপুর দেখিয়েছেন, প্রতিভা ও ব্যক্তিত্ব থাকলে সংখ্যা কেবল একটি সংখ্যা থাকেই—তা দিয়ে চরিত্রের তীব্রতা মিটবে না।

চিত্রনাট্য আবর্তিত হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা অর্জুন মৌর্যকে কেন্দ্র করে। সীমান্ত দায়িত্ব শেষে যখন অর্জুন বাড়ি ফেরেন, তখন চারপাশের জীবন বদলে গেছে—পেশাগত খটকা ছাড়াও পারিবারিক সম্পর্কগুলো ক্রমশ সুতময়ে হয়নি। তাঁর অনুপস্থিতিতে স্ত্রীর মৃত্যু এবং মেয়ের শ্যামার (রাধিকা মদন) মধ্যে জমে থাকা বিষ্ময় ও ক্ষোভ ছবির মানবিক কেন্দ্রবিন্দু।

কাহিনীর মূল সংঘাত শুরু হয় অর্জুনের প্রিয় লাল জিপসি গাড়িটিকে স্থানীয় অপরাধীদের লালসার কারণে—এই ঘটনাই তাকে পুনরায় সংঘর্ষের মুখোমুখি করে। পরিচালকের গঠন এবং নান্দনিকতা সিনেমাটিকে একটি কড়া বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করেছে, যেখানে ছোট্ট শহরের ভাঙাচোরা অলিগলি ও ক্ষমতার অনিয়ম সহজে চোখে পড়ে।

অভিনয়ের নিরিখে ‘সুবেদার’ মূলত অনিল কাপুরের ওপর দাঁড়িয়েছে। তিনি সংলাপের চেয়ে চোখের ভাষা ও নীরব অভিব্যক্তিতে জোর দিয়েছেন; স্বল্পকথায় তাঁর নির্ভীক উপস্থিতি চরিত্রটিকে এক ধরণের সজীব আগ্নেয়গিরির সঙ্গে তুল্য করে। এত বয়সেও অ্যাকশন দৃশ্যে তাঁর ফিজিক্যালিটি এবং নিয়ন্ত্রিত শক্তি প্রশংসনীয়।

রাধিকা মদন শ্যামার ভূমিকায় বলিষ্ঠ; তিনি একটি আধুনিক, আত্মসম্মানশীল কন্যার ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন—যিনি বাবার অনুপস্থিতি ও জীবনে এসে পড়া হুমকির মোকাবিলা করার সাহস দেখান। ছবিতে সৌরভ শুক্লা, মোনা সিং ও আদিত্য রাওয়ালসহ অনান্য পার্শ্বচরিত্রকাররাও কম সময় পেলেও গল্পকে দৃঢ়তা দিয়েছেন।

সাউন্ড ডিজাইন এবং অধ্যায়ভিত্তিক আখ্যানচালনা ছবির শৈল্পিক মান অনেকাংশে বাড়িয়েছে। যদিও ক্লাইম্যাক্স কিছুটা অনুমেয় লাগতে পারে এবং মাঝে মাঝে গতি কিছুটা ধীর লাগে, তবু গল্পের অন্তর্নিহিত সামাজিক ব্যাথা ও ব্যক্তিগত প্রতিশোধের আড়ালে যে বৃহত্তর বিচারের আকাঙ্ক্ষা ফুটে আসে, তা ছবিটিকে রীতিমতো এক সাধারণ রিভেঞ্জ ড্রামার বাইরে নিয়ে যায়।

দৈর্ঘ্য ও তাল মেলানো নিয়ে যে কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে, সেগুলো থাকলেও ‘সুবেদার’ দেখতে সময় নষ্ট বলে মনে হবে না। চকচকে বলিউডের আভিজাত্যের বাইরে এই ছবি অন্ধকার শহরের নির্মম বাস্তবতা ও একজন বয়স্ক যুদ্ধবীর সংগ্রামের রূপ তুলে ধরে। মূলত অনিল কাপুরের সমর্থ অভিনয় এবং সুরেশ ত্রিবেণীর পরিপক্ক পরিচালনা মিলিয়ে এই অ্যাকশন-ড্রামা দর্শকের মনে নিজের জায়গা করে নেবে।