১২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ঈদে ‘দম’ নিয়ে নিশো: গতানুগত মারপিট নয়, বাস্তবসম্মত অ্যাকশন চান

পবিত্র ঈদুল ফিতরে বড় পর্দায় নতুন চমকের প্রত্যাশা থাকেই। সেই উন্মাদনার কেন্দ্রবিন্দুতে এবার আছেন ছোট পর্দার জুনিয়র থেকে বড় পর্দার সেনসেশনে পরিণত আফরান নিশো। ‘সুড়ঙ্গ’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর এবার তিনি হাজির করেছেন ‘দম: আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ’—রেদওয়ান রনি পরিচালিত একটি সারভাইভাল ড্রামা, যা নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল তুঙ্গে। বিশেষ আকর্ষণ, প্রথমবার বড় পর্দায় একসঙ্গে নজর কাড়ছেন আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরী—যারা সিনেমাটিকে দারুণ তীব্রতা ও ভর দিয়েছেন।

সিনেমাটি মূলত বেঁচে থাকার লড়াই—শাহজাহান ইসলাম নূর চরিত্রের মধ্য দিয়ে দেখানো হয়েছে একজন সাধারণ মানুষের অসাধারণ সংগ্রাম। কাজাখস্তানের শীতল তুষারময় দৃশ্য থেকে শুরু করে পবনার গ্রামীণ মেঠোপথ—প্রতিটি পরিবেশে নিশো তার চরিত্রের মানসিকতা ও শারীরিক পরিশ্রম বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এ কারণেই সিনেমার অ্যাকশন কেবল চেহারা দেখানোর জন্য নয়; এগুলোতে প্রচেষ্টা, কষ্ট ও বাস্তবতার ছোঁয়া লক্ষ্য করা যায়।

প্রচার কার্যক্রমের সময় এক সাক্ষাৎকারে নিশো নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশের অ্যাকশন জঁরের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি খুলে বলেছেন। তিনি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, গতানুগত বা অতিরঞ্জিত মারামারি তার কাছে আকর্ষণীয় নয়। বাংলা চলচ্চিত্রে প্রায়শই দেখা যায় অ্যাকশন দৃশ্যগুলো কনভেনশনাল ও একঘেয়ে হয়ে পড়ে—নিশো এ ধারার ক্লিশে-নাটকত্ব থেকে দূরে থাকতে চান। তাঁর লক্ষ্য এমন এক ধরনের অ্যাকশন করা, যা দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য, শিল্পগত এবং মননশীল মনে হবে।

নিশো ছবিতে নিজেকে কোনো প্রতিযোগী হিসেবে দেখেন না। বড় পর্দায় তিনি নিজেকে এখনও ‘নিউ কামার’ হিসেবে ভাবেন এবং অভিনয়ের জোরে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করতেই চান। childhood থেকেই যুদ্ধভিত্তিক সিনেমা দেখে বড় হওয়া তিনি বাস্তবসম্মত অ্যাকশনে আগ্রহী—তাই ভবিষ্যতে যদি কঠোর ধরনের অ্যাকশন করেন তবুও সেখানে শারীরিক শ্রম ও বাস্তবতার সংমিশ্রণ থাকবে, এমনটাই জানান তিনি।

তিনি বলেন, অ্যাকশন মানেই উদ্দেশ্যহীন গুলি বা দেখানোর জন্য মারামারি নয়; এর মধ্যে শিল্প ও বিষয়বস্তুর প্রয়োজনীয়তা থাকবে। দর্শকের গভীর আবেগ ও চরিত্রের সংগ্রামের প্রতিফলন থাকলে সেটি সৎ ও স্মরণীয় হয়ে ওঠে—এটাই তার অভিনয়ের দৃষ্টিভঙ্গি।

শেষত, নিশো মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির একজন দায়িত্বশীল অভিনেতা হিসেবে ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন—যা তার চলমান তিনটি প্রজেক্টেই স্পষ্ট হচ্ছে। তিনি শুধুমাত্র ঈদকালীন হিট নয়, বরং সারাবছর ভালো মানের সিনেমা উপহার দিতে চান। বলছেন, তার নজরে থাকা পরিকল্পনাগুলো ইতোমধ্যে রূপ পাচ্ছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করেন, নিশোর বাস্তবসম্মত ও শিল্পকেন্দ্রিক অ্যাকশন দর্শনের ফলে বাংলাদেশি ছবিতে নতুন এক ধারার সূচনা হতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ঈদে ‘দম’ নিয়ে নিশো: গতানুগত মারপিট নয়, বাস্তবসম্মত অ্যাকশন চান

প্রকাশিতঃ ১০:৩৬:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতরে বড় পর্দায় নতুন চমকের প্রত্যাশা থাকেই। সেই উন্মাদনার কেন্দ্রবিন্দুতে এবার আছেন ছোট পর্দার জুনিয়র থেকে বড় পর্দার সেনসেশনে পরিণত আফরান নিশো। ‘সুড়ঙ্গ’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর এবার তিনি হাজির করেছেন ‘দম: আনটিল দ্য লাস্ট ব্রেথ’—রেদওয়ান রনি পরিচালিত একটি সারভাইভাল ড্রামা, যা নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল তুঙ্গে। বিশেষ আকর্ষণ, প্রথমবার বড় পর্দায় একসঙ্গে নজর কাড়ছেন আফরান নিশো ও চঞ্চল চৌধুরী—যারা সিনেমাটিকে দারুণ তীব্রতা ও ভর দিয়েছেন।

সিনেমাটি মূলত বেঁচে থাকার লড়াই—শাহজাহান ইসলাম নূর চরিত্রের মধ্য দিয়ে দেখানো হয়েছে একজন সাধারণ মানুষের অসাধারণ সংগ্রাম। কাজাখস্তানের শীতল তুষারময় দৃশ্য থেকে শুরু করে পবনার গ্রামীণ মেঠোপথ—প্রতিটি পরিবেশে নিশো তার চরিত্রের মানসিকতা ও শারীরিক পরিশ্রম বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এ কারণেই সিনেমার অ্যাকশন কেবল চেহারা দেখানোর জন্য নয়; এগুলোতে প্রচেষ্টা, কষ্ট ও বাস্তবতার ছোঁয়া লক্ষ্য করা যায়।

প্রচার কার্যক্রমের সময় এক সাক্ষাৎকারে নিশো নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশের অ্যাকশন জঁরের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি খুলে বলেছেন। তিনি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন, গতানুগত বা অতিরঞ্জিত মারামারি তার কাছে আকর্ষণীয় নয়। বাংলা চলচ্চিত্রে প্রায়শই দেখা যায় অ্যাকশন দৃশ্যগুলো কনভেনশনাল ও একঘেয়ে হয়ে পড়ে—নিশো এ ধারার ক্লিশে-নাটকত্ব থেকে দূরে থাকতে চান। তাঁর লক্ষ্য এমন এক ধরনের অ্যাকশন করা, যা দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য, শিল্পগত এবং মননশীল মনে হবে।

নিশো ছবিতে নিজেকে কোনো প্রতিযোগী হিসেবে দেখেন না। বড় পর্দায় তিনি নিজেকে এখনও ‘নিউ কামার’ হিসেবে ভাবেন এবং অভিনয়ের জোরে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করতেই চান। childhood থেকেই যুদ্ধভিত্তিক সিনেমা দেখে বড় হওয়া তিনি বাস্তবসম্মত অ্যাকশনে আগ্রহী—তাই ভবিষ্যতে যদি কঠোর ধরনের অ্যাকশন করেন তবুও সেখানে শারীরিক শ্রম ও বাস্তবতার সংমিশ্রণ থাকবে, এমনটাই জানান তিনি।

তিনি বলেন, অ্যাকশন মানেই উদ্দেশ্যহীন গুলি বা দেখানোর জন্য মারামারি নয়; এর মধ্যে শিল্প ও বিষয়বস্তুর প্রয়োজনীয়তা থাকবে। দর্শকের গভীর আবেগ ও চরিত্রের সংগ্রামের প্রতিফলন থাকলে সেটি সৎ ও স্মরণীয় হয়ে ওঠে—এটাই তার অভিনয়ের দৃষ্টিভঙ্গি।

শেষত, নিশো মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির একজন দায়িত্বশীল অভিনেতা হিসেবে ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন—যা তার চলমান তিনটি প্রজেক্টেই স্পষ্ট হচ্ছে। তিনি শুধুমাত্র ঈদকালীন হিট নয়, বরং সারাবছর ভালো মানের সিনেমা উপহার দিতে চান। বলছেন, তার নজরে থাকা পরিকল্পনাগুলো ইতোমধ্যে রূপ পাচ্ছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করেন, নিশোর বাস্তবসম্মত ও শিল্পকেন্দ্রিক অ্যাকশন দর্শনের ফলে বাংলাদেশি ছবিতে নতুন এক ধারার সূচনা হতে পারে।