০২:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ইসরাইলের দাবি: আইআরজিসি নৌপ্রধান আলিরেজা তাংসিরি নিহত

ইরানের আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস) নৌবাহিনীর প্রভাবশালী কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি নিকট অতীতে নিহত হয়েছেন—এ দাবি করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ, যা বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ‘টাইমস অব ইসরাইল’-এর বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে একজন উচ্চপদস্থ ইসরাইলি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তাংসিরিকে পার্শ্ববর্তী বন্দর আব্বাসে এক নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, তাংসিরি হরমুজ প্রণালির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের সামুদ্রিক সীমান্ত রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। ইসরাইলি সূত্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানোর পরিকল্পনায় তাংসিরির সরাসরি অংশ ছিল, তাই তাকে সরিয়ে দেওয়াটা ছিল ইসরাইলের নিরাপত্তা কৌশলের বড় একটি অংশ।

তবে এই দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা এখনও সামনে আসেনি। ইরান বা ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) উভয় পক্ষ থেকে এখনো কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি বা মৃত্যুসংক্রান্ত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের মৃত্যুর খবর সাধারণত স্বীকৃতি পেতে কিছুটা সময় লাগে বলে রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের অভিজ্ঞতা বলে।

বন্দর আব্বাস ইরানের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা ও সেখানে আইআরজিসি-র শক্তিশালি উপস্থিতি রয়েছে—এই কারণেই এই ধরনের দাবির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বেশি। এমন একটি স্থানে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার অভিযোগ উঠায় কৌতূহল ও উদ্বেগ যেন আরও বাড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিমান ও ক্ষেপ্যাস্ত্র হামলার ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ইরানি নেতা ও সামরিক কমান্ডারের ইসরাইলি হামলায় নিহত হওয়ার খবর অন্তর্বর্তীভাবে আসে—তাই এই নতুন দাবিটিও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর সম্ভাবনা রাখে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি তাংসিরির মৃত্যুর খবর সঠিক প্রমাণিত হয়, তা হলে ইরানের নৌ কমান্ডে তা অপূরণীয় ঘাটতি হিসেবে দেখা হবে এবং প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরও কড়া করে অথবা ইসরাইলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে।

বিশ্বজুড়ে কूटনৈতিক নজর এখন তেহরানের যে কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার দিকে। এই ঘটনার সত্যতা যাচাই ও উভয় পক্ষের ঘোষণা আসা পর্যন্ত ঘটনাটিকে ‘দাবি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে—যদিও অঞ্চলটির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সংশয় ও উদ্বেগ দু’ই আছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ইসরাইলের দাবি: আইআরজিসি নৌপ্রধান আলিরেজা তাংসিরি নিহত

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ইরানের আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস) নৌবাহিনীর প্রভাবশালী কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি নিকট অতীতে নিহত হয়েছেন—এ দাবি করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ, যা বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ‘টাইমস অব ইসরাইল’-এর বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে একজন উচ্চপদস্থ ইসরাইলি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তাংসিরিকে পার্শ্ববর্তী বন্দর আব্বাসে এক নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, তাংসিরি হরমুজ প্রণালির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ও ইরানের সামুদ্রিক সীমান্ত রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। ইসরাইলি সূত্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানোর পরিকল্পনায় তাংসিরির সরাসরি অংশ ছিল, তাই তাকে সরিয়ে দেওয়াটা ছিল ইসরাইলের নিরাপত্তা কৌশলের বড় একটি অংশ।

তবে এই দাবির কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা এখনও সামনে আসেনি। ইরান বা ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) উভয় পক্ষ থেকে এখনো কোনো অফিসিয়াল বিবৃতি বা মৃত্যুসংক্রান্ত ঘোষণা পাওয়া যায়নি। উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের মৃত্যুর খবর সাধারণত স্বীকৃতি পেতে কিছুটা সময় লাগে বলে রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের অভিজ্ঞতা বলে।

বন্দর আব্বাস ইরানের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা ও সেখানে আইআরজিসি-র শক্তিশালি উপস্থিতি রয়েছে—এই কারণেই এই ধরনের দাবির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বেশি। এমন একটি স্থানে লক্ষ্যভিত্তিক হামলার অভিযোগ উঠায় কৌতূহল ও উদ্বেগ যেন আরও বাড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিমান ও ক্ষেপ্যাস্ত্র হামলার ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ইরানি নেতা ও সামরিক কমান্ডারের ইসরাইলি হামলায় নিহত হওয়ার খবর অন্তর্বর্তীভাবে আসে—তাই এই নতুন দাবিটিও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর সম্ভাবনা রাখে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি তাংসিরির মৃত্যুর খবর সঠিক প্রমাণিত হয়, তা হলে ইরানের নৌ কমান্ডে তা অপূরণীয় ঘাটতি হিসেবে দেখা হবে এবং প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরও কড়া করে অথবা ইসরাইলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিশোধমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে।

বিশ্বজুড়ে কूटনৈতিক নজর এখন তেহরানের যে কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার দিকে। এই ঘটনার সত্যতা যাচাই ও উভয় পক্ষের ঘোষণা আসা পর্যন্ত ঘটনাটিকে ‘দাবি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে—যদিও অঞ্চলটির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সংশয় ও উদ্বেগ দু’ই আছে।