০৮:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

কোনো একক ব্যক্তির নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক ব্যক্তির নির্দেশেই হয়নি। তিনি বললেন, ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দি করে পাকিস্তানে নেওয়া হয়েছিল। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণে যখন মানুষ স্তব্ধ ও বিভ্রান্ত ছিল, তখন তৎকালীন মেজর (পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি) জিয়াউর রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষণাটি দেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

ফখরুল জানান, সেদিন সেনা সদস্যরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে এসে পরামর্শ নিয়েছিলেন এবং তিনি তাদের বলেছেন, ‘‘আপনারা অস্ত্র সমর্পণ করবেন না।’’ এরপর বেগম খালেদা দুই শিশুপুত্রকে নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, তেলিয়াপাড়া থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। তৎকালীন মেজর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় কর্নেল আতাউল গণি ওসমানীকে সর্বাধিনায়ক করে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব গঠন করা হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ কর্তৃক ওসমানীর এ ভূমিকা যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি; এই ইতিহাস উপেক্ষিত রয়েছে। জনগণের সামনে এটি তুলে আনার প্রয়োজন আছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কিছু অনুচিত রাজনীতিবিদ মুক্তিযুদ্ধকে নৈর্ব্যক্তিকভাবে ক্ষুদ্র করে দেখানোর চেষ্টা করে, যা তার কাছে অত্যন্ত কষ্টের বিষয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে বা ভূল ধারণা ছড়ায়, তাদের আর কেউ মেনে নেবে না; মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিচয়, গর্ব ও অস্তিত্ব।

জুলাই সংস্কার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের ধৈর্য সীমিত; মানুষ অন্যায়কেই প্রশ্রয় দেয় না। বিভিন্ন আন্দোলনের সূচনায় ২০২৪ সালে জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, তিনি দাবি করেন, ‘‘ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে’’ দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল—এটিকেও ইতিহাসের গৌরব বলেই তিনি আখ্যা দেন এবং সেই কারণে তারা জুলাইযুদ্ধকে ধারণ করে।

তিনি দুর্ভাগ্য প্রকাশ করে বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং দাবি ছড়াচ্ছে যে বর্তমান বিএনপি জুলাইযুদ্ধকে স্বীকার করে না—এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা বাজে ও অগ্রহণযোগ্য।

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কারের কাজ তারা ইতোমধ্যে শুরু করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, এবং সার্বিক উন্নয়ন ও সংস্কারের বিষয়ে তারেক রহমান ২০২২ সালে ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে নানা প্রস্তাব প্রকাশ করেছিলেন। তিনি পুনরায় বললেন, তারা সংস্কার চায় এবং তা বাস্তবায়ন করবেন।

সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক। সদস্য সচিব হিসেবে সঞ্চালনা করেন হুমায়ূন কবির। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নাঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য সচিব সাদেক খানসহ আরও অনেকে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

কোনো একক ব্যক্তির নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো একক ব্যক্তির নির্দেশেই হয়নি। তিনি বললেন, ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দি করে পাকিস্তানে নেওয়া হয়েছিল। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণে যখন মানুষ স্তব্ধ ও বিভ্রান্ত ছিল, তখন তৎকালীন মেজর (পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি) জিয়াউর রহমান মহান স্বাধীনতার ঘোষণাটি দেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

ফখরুল জানান, সেদিন সেনা সদস্যরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে এসে পরামর্শ নিয়েছিলেন এবং তিনি তাদের বলেছেন, ‘‘আপনারা অস্ত্র সমর্পণ করবেন না।’’ এরপর বেগম খালেদা দুই শিশুপুত্রকে নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, তেলিয়াপাড়া থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। তৎকালীন মেজর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় কর্নেল আতাউল গণি ওসমানীকে সর্বাধিনায়ক করে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব গঠন করা হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ কর্তৃক ওসমানীর এ ভূমিকা যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি; এই ইতিহাস উপেক্ষিত রয়েছে। জনগণের সামনে এটি তুলে আনার প্রয়োজন আছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কিছু অনুচিত রাজনীতিবিদ মুক্তিযুদ্ধকে নৈর্ব্যক্তিকভাবে ক্ষুদ্র করে দেখানোর চেষ্টা করে, যা তার কাছে অত্যন্ত কষ্টের বিষয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে বা ভূল ধারণা ছড়ায়, তাদের আর কেউ মেনে নেবে না; মুক্তিযুদ্ধ আমাদের পরিচয়, গর্ব ও অস্তিত্ব।

জুলাই সংস্কার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের ধৈর্য সীমিত; মানুষ অন্যায়কেই প্রশ্রয় দেয় না। বিভিন্ন আন্দোলনের সূচনায় ২০২৪ সালে জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, তিনি দাবি করেন, ‘‘ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে’’ দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল—এটিকেও ইতিহাসের গৌরব বলেই তিনি আখ্যা দেন এবং সেই কারণে তারা জুলাইযুদ্ধকে ধারণ করে।

তিনি দুর্ভাগ্য প্রকাশ করে বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং দাবি ছড়াচ্ছে যে বর্তমান বিএনপি জুলাইযুদ্ধকে স্বীকার করে না—এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা বাজে ও অগ্রহণযোগ্য।

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কারের কাজ তারা ইতোমধ্যে শুরু করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন, এবং সার্বিক উন্নয়ন ও সংস্কারের বিষয়ে তারেক রহমান ২০২২ সালে ৩১ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে নানা প্রস্তাব প্রকাশ করেছিলেন। তিনি পুনরায় বললেন, তারা সংস্কার চায় এবং তা বাস্তবায়ন করবেন।

সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক। সদস্য সচিব হিসেবে সঞ্চালনা করেন হুমায়ূন কবির। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক নাঈম জাহাঙ্গীর ও সদস্য সচিব সাদেক খানসহ আরও অনেকে।