০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

হৃদরোগজনিত জটিলতায় ৩৪ বছরেই ফুটবল থেকে অবসর নিলেন অস্কার

ব্রাজিলীয় মিডফিল্ডার অস্কার ডস সান্তোস মাত্র ৩৪ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর বর্তমান ক্লাব সাও পাওলো একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হৃদরোগজনিত জটিলতার কারণে তিনি নিরাপদে মাঠে ফিরতে পারবেন না—এমনটি চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অস্কারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে গত বছরের নভেম্বরের একটি ঘটনা। সাও পাওলোর বাররা ফুন্ডা ট্রেনিং সেন্টারে এক্সারসাইজ বাইকে ফিটনেস পরীক্ষা চলাকালীন তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে যান। চিকিৎসকদের নির্ণয়ে তিনি ‘‘ভাসোভাগাল সিনকোপে’’ আক্রান্ত ছিলেন, যা তীব্র আবেগ বা শারীরিক চাপে মস্তিষ্কে সাময়িক রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে ঘটে এবং এতে মানুষের বোধশক্তি অস্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে। পরবর্তীতে তাকে জটিল একটি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও চিকিৎসার পরেও উচ্চশক্তির প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরার মেথড নিরাপদ নয় বলে নির্ধারিত হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে তাঁর নিজের মৌলিক ক্লাব সাও পাওলোর সঙ্গে থাকা ২০২৭ সাল পর্যন্তকার দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিটি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্কার। ব্যক্তিগত বিবৃতিতে তিনি আবেগপ্রবণভাবে জানিয়েছেন, ক্লাবকে আরও অনেক কিছু দিতে না পারা তাঁর জন্য দু:খজনক, তবে জীবনের ও স্বাস্থ্যের গুরুত্বকে সামনে রেখে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মাঠ থেকে সরলেও তিনি জীবনভর ফুটবলের সঙ্গে থাকবেন এবং একজন নিবেদিত সমর্থক হিসেবে সাও পাওলোকে সমর্থন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

অস্কারের ক্লাবজীবন ছিল অতুলনীয় এবং সফলতায় ভরপুর। ২০১২ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চেলসি নামক শক্তিশালী ক্লাবের হয়ে যুক্ত হয়ে তিনি বিশ্বপর্যায়ে খ্যাতি অর্জন করেন। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে থাকাকালীন সময়ে তিনি দুইবার প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এবং একবার উয়েফা ইউরোপা লিগ জিতেছেন। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময় প্রায় ৭৩ মিলিয়ন ডলারের একটি চরম ট্রান্সফারে তিনি চীনের সাংহাই ক্লাবে যোগ দিয়ে সেখানে খেলোয়াড়ি কেরিয়ারে নতুন অধ্যায় শুরু করেন এবং সেখানে তিনটি Chinese Super League শিরোপাও জিতেছিলেন। ২০২৪ সালের শেষভাগে তিনি ফ্রি এজেন্ট হিসেবে নিজ দেশে ফেরেন এবং সাও পাওলোতে যোগ দেন।

জাতীয় দলে অস্কারের অবদানও প্রশংসনীয়। ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৪৮টি ম্যাচে খেলেছেন এবং ১২টি গোল করে দলকে অনেক সময় টনিক হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ঘরে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তার খেলা ভক্তদের মনে তীব্র ছাপ রেখে গিয়েছিল। যদিও ২০১৫ সালের পর টেকনিক্যাল কারণে জাতীয় দলে তাকে আর দেখা যায়নি, তবু তার খেলোয়াড়ি কুশলতা ও মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা দীর্ঘদিন ভক্তদের স্মৃতিতে থাকবে।

মাত্র ৩৪ বছর বয়সে একটি প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায় ফুটবল বিশ্বে শূন্যতা তোলে। এখন অনেকে তার তাড়াতাড়ি সুস্থতা ও ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। সাও পাওলো ক্লাব এবং অগণিত ভক্তরা তাঁর স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত জীবনের মঙ্গল কামনা করছেন, এবং আশা প্রকাশ করছেন যে অস্কার ফুটবলকে ভিন্ন কোনোভাবে—কোচিং, পিসিআর, ক্লাবের অন্য কোনো ভূমিকায়—জীবনভর সঙ্গে রাখবেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

হৃদরোগজনিত জটিলতায় ৩৪ বছরেই ফুটবল থেকে অবসর নিলেন অস্কার

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাজিলীয় মিডফিল্ডার অস্কার ডস সান্তোস মাত্র ৩৪ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর বর্তমান ক্লাব সাও পাওলো একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হৃদরোগজনিত জটিলতার কারণে তিনি নিরাপদে মাঠে ফিরতে পারবেন না—এমনটি চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অস্কারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে গত বছরের নভেম্বরের একটি ঘটনা। সাও পাওলোর বাররা ফুন্ডা ট্রেনিং সেন্টারে এক্সারসাইজ বাইকে ফিটনেস পরীক্ষা চলাকালীন তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে যান। চিকিৎসকদের নির্ণয়ে তিনি ‘‘ভাসোভাগাল সিনকোপে’’ আক্রান্ত ছিলেন, যা তীব্র আবেগ বা শারীরিক চাপে মস্তিষ্কে সাময়িক রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে ঘটে এবং এতে মানুষের বোধশক্তি অস্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে। পরবর্তীতে তাকে জটিল একটি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও চিকিৎসার পরেও উচ্চশক্তির প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফেরার মেথড নিরাপদ নয় বলে নির্ধারিত হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে তাঁর নিজের মৌলিক ক্লাব সাও পাওলোর সঙ্গে থাকা ২০২৭ সাল পর্যন্তকার দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিটি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্কার। ব্যক্তিগত বিবৃতিতে তিনি আবেগপ্রবণভাবে জানিয়েছেন, ক্লাবকে আরও অনেক কিছু দিতে না পারা তাঁর জন্য দু:খজনক, তবে জীবনের ও স্বাস্থ্যের গুরুত্বকে সামনে রেখে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মাঠ থেকে সরলেও তিনি জীবনভর ফুটবলের সঙ্গে থাকবেন এবং একজন নিবেদিত সমর্থক হিসেবে সাও পাওলোকে সমর্থন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

অস্কারের ক্লাবজীবন ছিল অতুলনীয় এবং সফলতায় ভরপুর। ২০১২ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চেলসি নামক শক্তিশালী ক্লাবের হয়ে যুক্ত হয়ে তিনি বিশ্বপর্যায়ে খ্যাতি অর্জন করেন। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে থাকাকালীন সময়ে তিনি দুইবার প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এবং একবার উয়েফা ইউরোপা লিগ জিতেছেন। ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময় প্রায় ৭৩ মিলিয়ন ডলারের একটি চরম ট্রান্সফারে তিনি চীনের সাংহাই ক্লাবে যোগ দিয়ে সেখানে খেলোয়াড়ি কেরিয়ারে নতুন অধ্যায় শুরু করেন এবং সেখানে তিনটি Chinese Super League শিরোপাও জিতেছিলেন। ২০২৪ সালের শেষভাগে তিনি ফ্রি এজেন্ট হিসেবে নিজ দেশে ফেরেন এবং সাও পাওলোতে যোগ দেন।

জাতীয় দলে অস্কারের অবদানও প্রশংসনীয়। ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৪৮টি ম্যাচে খেলেছেন এবং ১২টি গোল করে দলকে অনেক সময় টনিক হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ঘরে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তার খেলা ভক্তদের মনে তীব্র ছাপ রেখে গিয়েছিল। যদিও ২০১৫ সালের পর টেকনিক্যাল কারণে জাতীয় দলে তাকে আর দেখা যায়নি, তবু তার খেলোয়াড়ি কুশলতা ও মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা দীর্ঘদিন ভক্তদের স্মৃতিতে থাকবে।

মাত্র ৩৪ বছর বয়সে একটি প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায় ফুটবল বিশ্বে শূন্যতা তোলে। এখন অনেকে তার তাড়াতাড়ি সুস্থতা ও ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন। সাও পাওলো ক্লাব এবং অগণিত ভক্তরা তাঁর স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত জীবনের মঙ্গল কামনা করছেন, এবং আশা প্রকাশ করছেন যে অস্কার ফুটবলকে ভিন্ন কোনোভাবে—কোচিং, পিসিআর, ক্লাবের অন্য কোনো ভূমিকায়—জীবনভর সঙ্গে রাখবেন।