১০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ১৮ জেলা, ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু

দেশেই হাম মোকাবিলায় জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে একযোগে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পাবনা সদরে, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ঝালকাঠির নলছিটিতে এবং স্বাস্থ্যসচিব গাজীপুরে টিকাদান কর্মসূচির সূচনা করেন।

টিকাদানে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লক্ষ্য করা হয়েছে। যারা আগে টিকা পেয়ে থাকেন তাঁদেরও চলমান এই ক্যাম্পেইনে টিকা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, যেসব এলাকায় সম্প্রতি হাম আক্রান্তের চিহ্ন বেশি দেখা গেছে সেগুলো ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রথম দফায় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে দেশের পরিস্থিতি বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—জনসাধারণের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় থাকা এলাকায় রয়েছে—বরগুনা পৌরসভা ও সদর (বরগুনা), পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী ও বেড়া (পাবনা), চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর ও হাইমচর (চাঁদপুর), মহেশখালী ও রামু (কক্সবাজার), গাজীপুর সদর, গাজীপুর পৌরসভা ও সদর (মুন্সীগঞ্জ নয়—গাজীপুর আলাদা উল্লেখ করা হয়েছে), চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা, সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট, নেত্রকোনা আটপাড়া, ময়মনসিংহ সদর ও তারাকান্দা, ত্রিশাল, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, নওগাঁ পোরশা, যশোর পৌরসভা ও সদর, নাটোর পৌরসভা ও সদর, মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ লৌহজং ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, ঝালকাঠির নলছিটি এবং শরীয়তপুরের জাজিরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: জ্বর বা অন্য কোনো কারণে বর্তমানে অসুস্থ শিশুকে তখনই টিকা দেওয়া করবেন না, আগে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর টিকাদান করুন। টিকাদানের পাশাপাশি জ্বর বা আক্রান্ত সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে। মন্ত্রী বলেন, সুস্থ শিশুকে শুধুমাত্র টিকাই দেওয়া হবে; অতিরিক্ত কোনো ওষুধ দেওয়া হবে না।

টিকাদান কেন্দ্রগুলো প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আগের টিকাদান কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থান, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারেও এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া—প্রাথমিকভাবে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে সারা দেশে সম্প্রসারণ করার কাজ চলছে এবং জুলাইয়ের মধ্যে এটি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চালু রাখা হবে।

অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে: পাঁচ বছরের কম বয়সি সব শিশুকে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসুন এবং টিকা-কার্ড দেখিয়ে আগে ভ্যাকসিন পেয়েছে কি না যাচাই করুন। জ্বর বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে পুনরায় পুরোপুরি সুস্থ হলে টিকা নিশ্চিত করবেন। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশনা মেনে চললে এই সুরক্ষা কর্মসূচি দ্রুত ও সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ১৮ জেলা, ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

দেশেই হাম মোকাবিলায় জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে একযোগে ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পাবনা সদরে, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ঝালকাঠির নলছিটিতে এবং স্বাস্থ্যসচিব গাজীপুরে টিকাদান কর্মসূচির সূচনা করেন।

টিকাদানে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লক্ষ্য করা হয়েছে। যারা আগে টিকা পেয়ে থাকেন তাঁদেরও চলমান এই ক্যাম্পেইনে টিকা নেওয়ার সুযোগ থাকবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, যেসব এলাকায় সম্প্রতি হাম আক্রান্তের চিহ্ন বেশি দেখা গেছে সেগুলো ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রথম দফায় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে দেশের পরিস্থিতি বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—জনসাধারণের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় থাকা এলাকায় রয়েছে—বরগুনা পৌরসভা ও সদর (বরগুনা), পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী ও বেড়া (পাবনা), চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর ও হাইমচর (চাঁদপুর), মহেশখালী ও রামু (কক্সবাজার), গাজীপুর সদর, গাজীপুর পৌরসভা ও সদর (মুন্সীগঞ্জ নয়—গাজীপুর আলাদা উল্লেখ করা হয়েছে), চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা, সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট, নেত্রকোনা আটপাড়া, ময়মনসিংহ সদর ও তারাকান্দা, ত্রিশাল, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, নওগাঁ পোরশা, যশোর পৌরসভা ও সদর, নাটোর পৌরসভা ও সদর, মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ লৌহজং ও মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, ঝালকাঠির নলছিটি এবং শরীয়তপুরের জাজিরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: জ্বর বা অন্য কোনো কারণে বর্তমানে অসুস্থ শিশুকে তখনই টিকা দেওয়া করবেন না, আগে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর টিকাদান করুন। টিকাদানের পাশাপাশি জ্বর বা আক্রান্ত সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে। মন্ত্রী বলেন, সুস্থ শিশুকে শুধুমাত্র টিকাই দেওয়া হবে; অতিরিক্ত কোনো ওষুধ দেওয়া হবে না।

টিকাদান কেন্দ্রগুলো প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আগের টিকাদান কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থান, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারেও এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া—প্রাথমিকভাবে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে সারা দেশে সম্প্রসারণ করার কাজ চলছে এবং জুলাইয়ের মধ্যে এটি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চালু রাখা হবে।

অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে: পাঁচ বছরের কম বয়সি সব শিশুকে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসুন এবং টিকা-কার্ড দেখিয়ে আগে ভ্যাকসিন পেয়েছে কি না যাচাই করুন। জ্বর বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে পুনরায় পুরোপুরি সুস্থ হলে টিকা নিশ্চিত করবেন। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশনা মেনে চললে এই সুরক্ষা কর্মসূচি দ্রুত ও সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।