০৯:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ ৯টি অধ্যাদেশ বিল হিসেবে সংসদে পাস

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা আরও ৯টি অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে রূপ দিতে বিল আকারে জাতীয় সংসদে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব বিলগুলোর ওপর দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে পৃথকভাবে আলোচনা ছাড়া এগুলো সরাসরি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে পাস হওয়া এসব বিলকে হুবহু পাস করার সুপারিশ করেছিল সংসদের একটি বিশেষ কমিটি। সুপারিশের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

আইনমন্ত্রী বিল পেশ করে বলেন, ‘এটি এমন একটি বিল যার মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ তিনি যারা অভিযোগ করেন সরকার গুম সংক্রান্ত আইন করতে চাচ্ছে, তাদের সেগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন এই আইনের মাধ্যমে গুমের বিচারে সরকার বন্ধুত্বপূর্ণ বদ্ধপরিকরতা প্রদর্শন করছে।

বিল পাসের পর বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনানুযোগ্য ছিল এবং তিনি এমন মন্তব্য না করলেই ভালো হতো। তিনি ভবিষ্যতে প্রাসঙ্গিক সময়ে এ বিষয় নিয়ে কথা বলবেন জানিয়ে দেন।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাইরে থেকে গুমের বিচার ও সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোকে বিবেচনায় রেখে বিল উপস্থাপনের আগে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন ছিল। এ মুহূর্তে সরকার গুম নিরসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—এই বার্তাই তিনি দিতে চাইছেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের আলোচনায় বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখা উচিত এবং আইনবিধি অনুযায়ী গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এরপর স্পিকার অন্যান্য বিল পাসের কার্যক্রম শুরু করেন।

পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’ সংসদে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উত্থাপন করেন এবং বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

আইনমন্ত্রী আলাদা করে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ও রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল সংসদে উপস্থাপন করেন; এগুলোও কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

আরও কয়েকটি পাস করা বিল ছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত, যেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধুই নাম পরিবর্তন করে অধ্যাদেশ থেকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে এসব বিল সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল ও শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল উপস্থাপন করেন। উপস্থাপনের সময় সাময়িক মজার ছলে তিনি বলেন, ‘এতক্ষণ যা বলেছি, এখন আবার শেখ হাসিনাকেই বলতেই হচ্ছে!’

পরবর্তীতে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করা হয় এবং সেটিও কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।

সরকারি বক্তব্যে বারবার জোর দেওয়া হয়েছে যে এগুলো অধ্যাদেশের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তকে আইনে পরিণত করার পদক্ষেপ, এবং সংসদীয় নিয়মনীতির মধ্যে থেকেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ ৯টি অধ্যাদেশ বিল হিসেবে সংসদে পাস

প্রকাশিতঃ ০২:২৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা আরও ৯টি অধ্যাদেশকে আইন হিসেবে রূপ দিতে বিল আকারে জাতীয় সংসদে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব বিলগুলোর ওপর দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় সংসদে পৃথকভাবে আলোচনা ছাড়া এগুলো সরাসরি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে পাস হওয়া এসব বিলকে হুবহু পাস করার সুপারিশ করেছিল সংসদের একটি বিশেষ কমিটি। সুপারিশের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

আইনমন্ত্রী বিল পেশ করে বলেন, ‘এটি এমন একটি বিল যার মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ তিনি যারা অভিযোগ করেন সরকার গুম সংক্রান্ত আইন করতে চাচ্ছে, তাদের সেগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখার আহ্বান জানান এবং দাবি করেন এই আইনের মাধ্যমে গুমের বিচারে সরকার বন্ধুত্বপূর্ণ বদ্ধপরিকরতা প্রদর্শন করছে।

বিল পাসের পর বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনানুযোগ্য ছিল এবং তিনি এমন মন্তব্য না করলেই ভালো হতো। তিনি ভবিষ্যতে প্রাসঙ্গিক সময়ে এ বিষয় নিয়ে কথা বলবেন জানিয়ে দেন।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাইরে থেকে গুমের বিচার ও সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোকে বিবেচনায় রেখে বিল উপস্থাপনের আগে বিষয়টি স্পষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন ছিল। এ মুহূর্তে সরকার গুম নিরসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—এই বার্তাই তিনি দিতে চাইছেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের আলোচনায় বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখা উচিত এবং আইনবিধি অনুযায়ী গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এরপর স্পিকার অন্যান্য বিল পাসের কার্যক্রম শুরু করেন।

পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’ সংসদে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উত্থাপন করেন এবং বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

আইনমন্ত্রী আলাদা করে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ও রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল সংসদে উপস্থাপন করেন; এগুলোও কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

আরও কয়েকটি পাস করা বিল ছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত, যেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধুই নাম পরিবর্তন করে অধ্যাদেশ থেকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে এসব বিল সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল ও শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল উপস্থাপন করেন। উপস্থাপনের সময় সাময়িক মজার ছলে তিনি বলেন, ‘এতক্ষণ যা বলেছি, এখন আবার শেখ হাসিনাকেই বলতেই হচ্ছে!’

পরবর্তীতে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করা হয় এবং সেটিও কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।

সরকারি বক্তব্যে বারবার জোর দেওয়া হয়েছে যে এগুলো অধ্যাদেশের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্তকে আইনে পরিণত করার পদক্ষেপ, এবং সংসদীয় নিয়মনীতির মধ্যে থেকেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।