০৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

উত্তর আমেরিকায় বক্স অফিসে সেরা ২০-এ ‘বনলতা এক্সপ্রেস’

তানিম নূর পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে একটি নজিরবিহীন সাফল্য ছিনিয়ে নিয়েছে। ছবিটি মুক্তির মাত্র তিন দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্মিলিত (ডোমেস্টিক) বক্স অফিস চার্টের শীর্ষ ২০-এ স্থান করে নেয়—বাংলা সিনেমার জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা এটিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলা সিনেমার অগ্রযাত্রার একটি বড় মাইলফলক বলে দেখছেন।

বক্স অফিস বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট ‘‘বক্স অফিস মোজো’’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ বর্তমানে উত্তর আমেরিকার চার্টে ১৬ নং অবস্থানে আছে। তিন দিনের মোট আয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার। ছবিটির উত্তর আমেরিকার পরিবেশক ‘‘স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো’’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব এই অর্জনকে কৌতুকস্বরূপ ‘‘বক্স অফিসে সুনামি’’ বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, এই প্রথম কয়েক দিনে যে ভিড় ও উৎসাহ দেখা গেছে তা বাস্তবেই অভাবনীয়।

ডেটা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উত্তর আমেরিকায় মুক্তির প্রথম তিন দিনে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ডটি আগে ছিল মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’ ছবির—যার তিন দিনের সংগ্রহ ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার ডলার। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সেই রেকর্ডের অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। উল্লেখযোগ্য কথা হলো, ‘হাওয়া’ এবং ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি ছবি মুক্তির প্রথম তিন দিনে ৬৫ হাজার ডলারের গণ্ডি ছাড়াতে পারেনি; তাই আয়ের দিক থেকে এই শুরুটা সত্যিই ব্যতিক্রমী।

আরও চমকপ্রদ হলো, মাত্র ওপেনিং-এয়ার্নিংস হিসেবেই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ইতিমধ্যে উত্তর আমেরিকার সর্বকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী বাংলাদেশি ছবিতে স্থান করে নিয়েছে। তিন দিনের আয় দিয়ে এটি শাকিব খান অভিনীত ‘তুফান’ (১ লাখ ৫০ হাজার ডলার), ‘প্রিয়তমা’ (১ লাখ ৩২ হাজার ডলার) ও জয়া আহসান অভিনীত ‘দেবী’ (১ লাখ ২৫ হাজার ডলার)-এর আজীবনের আয় ছাড়িয়ে গিয়েছে। পরিবেশক অলিউল্লাহ সজীবের ধারণা, বর্তমান রেজিম বজায় থাকলে প্রথম সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই এটি ‘হাওয়া’র লাইফটাইম আয় (প্রায় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ডলার)-কে চ্যালেঞ্জ করে উত্তর আমেরিকার বাজারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী বাংলাদেশি ছবিতে পরিণত হতে পারে।

চলচ্চিত্রটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ ও সাবিলা নূর। এছাড়া শ্যামল মাওলা, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, শামীমা নাজনীন, ইন্তেজামদিনার এবং আরেফিন জিলানীর মতো অভিজ্ঞ তারকারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন। ‘বুড়িগঙ্গা টকিজ’ প্রযোজিত ও ‘হইচই স্টুডিওস’ সহ-প্রযোজিত এই ছবি বর্তমানে টরন্টো, ভ্যাঙ্কুভার, নিউইয়র্ক, ডালাস, হিউস্টন ও וואশিংটন ডিসি-সহ যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও বার্মিংহামের বড় প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সফলভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে।

সুস্থ কাহিনি ও মানসম্মত নির্মাণের সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে দর্শকের সাড়া পাওয়া ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর অর্জন দেশের চলচ্চিত্র জগতে নতুন এক আশার সঞ্চার করেছে। নির্মাণ ও প্রেক্ষাগৃহে যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি বাংলা চলচ্চিত্র বিশ্বমঞ্চে নাম লেখাতে পারে বলেই ধারণা চলছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

উত্তর আমেরিকায় বক্স অফিসে সেরা ২০-এ ‘বনলতা এক্সপ্রেস’

প্রকাশিতঃ ০২:২১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

তানিম নূর পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসে একটি নজিরবিহীন সাফল্য ছিনিয়ে নিয়েছে। ছবিটি মুক্তির মাত্র তিন দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্মিলিত (ডোমেস্টিক) বক্স অফিস চার্টের শীর্ষ ২০-এ স্থান করে নেয়—বাংলা সিনেমার জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা এটিকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলা সিনেমার অগ্রযাত্রার একটি বড় মাইলফলক বলে দেখছেন।

বক্স অফিস বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট ‘‘বক্স অফিস মোজো’’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ বর্তমানে উত্তর আমেরিকার চার্টে ১৬ নং অবস্থানে আছে। তিন দিনের মোট আয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার। ছবিটির উত্তর আমেরিকার পরিবেশক ‘‘স্বপ্ন স্কেয়ারক্রো’’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ অলিউল্লাহ সজীব এই অর্জনকে কৌতুকস্বরূপ ‘‘বক্স অফিসে সুনামি’’ বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, এই প্রথম কয়েক দিনে যে ভিড় ও উৎসাহ দেখা গেছে তা বাস্তবেই অভাবনীয়।

ডেটা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উত্তর আমেরিকায় মুক্তির প্রথম তিন দিনে সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ডটি আগে ছিল মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’ ছবির—যার তিন দিনের সংগ্রহ ছিল প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার ডলার। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সেই রেকর্ডের অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। উল্লেখযোগ্য কথা হলো, ‘হাওয়া’ এবং ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি ছবি মুক্তির প্রথম তিন দিনে ৬৫ হাজার ডলারের গণ্ডি ছাড়াতে পারেনি; তাই আয়ের দিক থেকে এই শুরুটা সত্যিই ব্যতিক্রমী।

আরও চমকপ্রদ হলো, মাত্র ওপেনিং-এয়ার্নিংস হিসেবেই ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ইতিমধ্যে উত্তর আমেরিকার সর্বকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী বাংলাদেশি ছবিতে স্থান করে নিয়েছে। তিন দিনের আয় দিয়ে এটি শাকিব খান অভিনীত ‘তুফান’ (১ লাখ ৫০ হাজার ডলার), ‘প্রিয়তমা’ (১ লাখ ৩২ হাজার ডলার) ও জয়া আহসান অভিনীত ‘দেবী’ (১ লাখ ২৫ হাজার ডলার)-এর আজীবনের আয় ছাড়িয়ে গিয়েছে। পরিবেশক অলিউল্লাহ সজীবের ধারণা, বর্তমান রেজিম বজায় থাকলে প্রথম সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই এটি ‘হাওয়া’র লাইফটাইম আয় (প্রায় ৩ লাখ ৫৮ হাজার ডলার)-কে চ্যালেঞ্জ করে উত্তর আমেরিকার বাজারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী বাংলাদেশি ছবিতে পরিণত হতে পারে।

চলচ্চিত্রটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ ও সাবিলা নূর। এছাড়া শ্যামল মাওলা, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, শামীমা নাজনীন, ইন্তেজামদিনার এবং আরেফিন জিলানীর মতো অভিজ্ঞ তারকারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আছেন। ‘বুড়িগঙ্গা টকিজ’ প্রযোজিত ও ‘হইচই স্টুডিওস’ সহ-প্রযোজিত এই ছবি বর্তমানে টরন্টো, ভ্যাঙ্কুভার, নিউইয়র্ক, ডালাস, হিউস্টন ও וואশিংটন ডিসি-সহ যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও বার্মিংহামের বড় প্রেক্ষাগৃহগুলোতে সফলভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে।

সুস্থ কাহিনি ও মানসম্মত নির্মাণের সঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে দর্শকের সাড়া পাওয়া ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর অর্জন দেশের চলচ্চিত্র জগতে নতুন এক আশার সঞ্চার করেছে। নির্মাণ ও প্রেক্ষাগৃহে যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে আরও বেশি বাংলা চলচ্চিত্র বিশ্বমঞ্চে নাম লেখাতে পারে বলেই ধারণা চলছে।