১১:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সংসদে নতুন রেকর্ড: ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের চলা ১৩ কার্যদিবসে নজিরভঙ্গী ৯১টি বিল পাস করে সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন এক মাইলফলক গড়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ডেকে আনা অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’সহ মোট ২৪টি বিল পাস হয়। এর পূর্বেই গত বৃহস্পতিবার ৩১টি বিল পাস হওয়ায় গত ১৩ দিনে মোট পাস হওয়া বিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১-এ।

পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রীর পক্ষ থেকে উত্থাপিত উল্লেখযোগ্য বিলগুলো হলো — গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের মাধ্যমে ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ ও ‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু পেশ করেন ‘বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন বিল, ২০২৬’ ও ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিভিন্ন অর্থ-বিষয়ক বিল উপস্থাপন করেন—যেমন ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’, ‘এক্সাইজেস অ্যান্ড সল্ট বিল, ২০২৬’, ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘অর্থ ২০২৫-২৬ অর্থবছর বিল, ২০২৬’। শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, ২০২৬’ ও ‘বিশ্ববিদ্যালয়-সংক্রান্ত কিছু আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ‘জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল, ২০২৬’ ও ‘সাইবার সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ পেশ করেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করে এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

অধিবেশনে বিতর্কও ছিল। অর্থমন্ত্রী কর্তৃক ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপিত হলে ঢাকা-১২ আসনের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই (ডিভিশন) দাবি করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিষয়টি ভোটে তোলেন; কণ্ঠভোটে জনমত যাচাই প্রস্তাবটি নাকচ হয় এবং বিলটি পাস হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস প্রস্তাব করার পর মাদারীপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান বিলটিতে তিনটি সংশোধনীর প্রস্তাব প্রদান করেন; স্পিকার ওই সংশোধনী গ্রহণ করেন এবং বিলটি স্থিরকৃত আকারে পাস হয়। তবে সংশোধনী গ্রহণের ওপর বিরোধী জোট আপত্তি জানায়, এনিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মাঝে তীব্র बहস হয় এবং একপর্যায়ে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।

অধিবেশনের শেষ দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করেন এবং তা কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

এই গতিশীল অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সংসদে গত কয়েকদিনে দ্রুত আইন প্রণয়ন ও তৎপর আলোচনার মধ্য দিয়ে দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিভিন্ন খাতে মৌলিক বদল আনতে একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে আইনসভা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

সংসদে নতুন রেকর্ড: ১৩ দিনে ৯১টি বিল পাস

প্রকাশিতঃ ০৭:২৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের চলা ১৩ কার্যদিবসে নজিরভঙ্গী ৯১টি বিল পাস করে সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন এক মাইলফলক গড়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ডেকে আনা অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’সহ মোট ২৪টি বিল পাস হয়। এর পূর্বেই গত বৃহস্পতিবার ৩১টি বিল পাস হওয়ায় গত ১৩ দিনে মোট পাস হওয়া বিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১-এ।

পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রীর পক্ষ থেকে উত্থাপিত উল্লেখযোগ্য বিলগুলো হলো — গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের মাধ্যমে ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ ও ‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু পেশ করেন ‘বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন বিল, ২০২৬’ ও ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিভিন্ন অর্থ-বিষয়ক বিল উপস্থাপন করেন—যেমন ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’, ‘এক্সাইজেস অ্যান্ড সল্ট বিল, ২০২৬’, ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এবং ‘অর্থ ২০২৫-২৬ অর্থবছর বিল, ২০২৬’। শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, ২০২৬’ ও ‘বিশ্ববিদ্যালয়-সংক্রান্ত কিছু আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ‘জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল, ২০২৬’ ও ‘সাইবার সুরক্ষা বিল, ২০২৬’ পেশ করেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করে এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

অধিবেশনে বিতর্কও ছিল। অর্থমন্ত্রী কর্তৃক ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপিত হলে ঢাকা-১২ আসনের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম মিলন বিলটি নিয়ে জনমত যাচাই (ডিভিশন) দাবি করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিষয়টি ভোটে তোলেন; কণ্ঠভোটে জনমত যাচাই প্রস্তাবটি নাকচ হয় এবং বিলটি পাস হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাস প্রস্তাব করার পর মাদারীপুর-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান বিলটিতে তিনটি সংশোধনীর প্রস্তাব প্রদান করেন; স্পিকার ওই সংশোধনী গ্রহণ করেন এবং বিলটি স্থিরকৃত আকারে পাস হয়। তবে সংশোধনী গ্রহণের ওপর বিরোধী জোট আপত্তি জানায়, এনিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মাঝে তীব্র बहস হয় এবং একপর্যায়ে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে।

অধিবেশনের শেষ দিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের প্রস্তাব করেন এবং তা কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

এই গতিশীল অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সংসদে গত কয়েকদিনে দ্রুত আইন প্রণয়ন ও তৎপর আলোচনার মধ্য দিয়ে দেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিভিন্ন খাতে মৌলিক বদল আনতে একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে আইনসভা।