০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

কনকচাঁপাকে হয়রানির প্রতিবাদ: রুহুল কবির রিজভী বলেছেন — দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চান জনপ্রিয় শিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। দল তাকে মনোনীত না করায় তিনি হতাশা প্রকাশ করলেও দলের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে বগুড়ার কয়েকজন নারী নেতা–কর্মীর একাংশ হট্টগোল সৃষ্টি করেন এবং কনকচাঁপাকে উদ্দেশ্য করে অপ্রাসঙ্গিক স্লোগান দেন। শেষপর্যন্ত সহকর্মীদের সহায়তায় তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিতে সক্ষম হন।

ঘটনার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, যাঁরা এমন আচরণে লিপ্ত হয়েছে তাঁদের সাংস্কৃতিক মনোভাবের ঘাটতি আছে এবং এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘‘সেলিব্রেটিরা দলকে সমর্থন করবে না কেন? বিশ্বের কোথাও এ রকম উদাসীনতা দেখা যায় না।’’ রিজভী আরও বলেন, প্রত্যেকের মাঠপর্যায় ভূমিকা যে একই রকম হবে তা নয়; বড় কোনো শিল্পীর সমর্থনও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

রিজভী উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘‘এমাজ উদ্দিন স্যার কি রাস্তায় দাঁড়িয়ে মিছিল করতেন? করতেন না; তবুও তিনি দলের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছেন—এটিই মূল্যবান।’’ তিনি আরো স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘পার্টি অফিসে একজন সম্মানিত শিল্পী এসে এধরনের ব্যবহার করা যায় না। যাঁরাই এ ধরনের বাজে আচরণ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

অপরদিকে কনকচাঁপা নিজের ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে অন্যায় হয়েছে মনে হলে সে বিচার তিনি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। পোস্টে তিনি দলের প্রতি নিজের আনুগত্য ও দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি সব ফয়সালার কারিগর আল্লাহ। দলের সিদ্ধান্তে আমি পূর্ণ সম্মান ও আস্থা রাখি।’’

কনকচাঁপা লেখেন, তার রাজনীতিতে আগমন ২০১৩ সালে; তৎকালীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে রাজনীতিতে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন এবং সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন। ২০১৮ সালে তিনি একটি শক্তিশালী রাজনীতিবিদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মনোনয়ন পান—সেই পথ সহজ ছিল না। তিনি স্বীকার করেন যে দীর্ঘ সময় নানা আঘাত ও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন এবং ফলে শিল্পী হিসেবে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

পোস্টে কনকচাঁপা লিখেছেন, গান না গাওয়ার ফলে তার জীবনে অনেক শূন্যতা এসেছে; তিনি নিজেকে ব্যস্ত রাখতে ছবির কাজ, পরিবার এবং রান্নায় মন দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, তার ত্যাগ ও সম্মানহানির কোনো স্বীকৃতি না থাকায় কষ্ট লাগে। এ বছর তিনি তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতিক্রমে নিজের নির্বাচনী এলাকায় কাজ শুরু করেছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দলের ভেতরের বাধাবিপত্তি কাটিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

কনকচাঁপা বলছেন, দল তাঁকে মনোনীত না করলেও সেটি তিনি মেনে নিয়েছেন এবং দলের সিদ্ধান্তকে সম্মানী মনে করেন। তবু নির্দিষ্ট কিছু মহল ভুল তথ্য ছড়িয়ে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ব্যক্তিগত সহিংসতা বা কুপ্রচার দলীয় ইমেজ ক্ষুণ্ণ করবে না এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে দলের নামে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে সেটি দুঃখজনক।

ঘটনাটি বিএনপির ভেতরে শৃঙ্খলা ও অর্থবোধ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। রিজভীর মন্তব্য অনুযায়ী দলের শৃঙ্খলা রক্ষা ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর কনকচাঁপার বক্তব্য থেকে দেখা যায় তিনি দল ও তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করলেও ব্যক্তিগতভাবে যে আঘাত সামলেছেন তাতে মর্মাহত ও আক্ষেপিত।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

কনকচাঁপাকে হয়রানির প্রতিবাদ: রুহুল কবির রিজভী বলেছেন — দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে

প্রকাশিতঃ ০২:২৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চান জনপ্রিয় শিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। দল তাকে মনোনীত না করায় তিনি হতাশা প্রকাশ করলেও দলের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে বগুড়ার কয়েকজন নারী নেতা–কর্মীর একাংশ হট্টগোল সৃষ্টি করেন এবং কনকচাঁপাকে উদ্দেশ্য করে অপ্রাসঙ্গিক স্লোগান দেন। শেষপর্যন্ত সহকর্মীদের সহায়তায় তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিতে সক্ষম হন।

ঘটনার প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, যাঁরা এমন আচরণে লিপ্ত হয়েছে তাঁদের সাংস্কৃতিক মনোভাবের ঘাটতি আছে এবং এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘‘সেলিব্রেটিরা দলকে সমর্থন করবে না কেন? বিশ্বের কোথাও এ রকম উদাসীনতা দেখা যায় না।’’ রিজভী আরও বলেন, প্রত্যেকের মাঠপর্যায় ভূমিকা যে একই রকম হবে তা নয়; বড় কোনো শিল্পীর সমর্থনও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

রিজভী উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘‘এমাজ উদ্দিন স্যার কি রাস্তায় দাঁড়িয়ে মিছিল করতেন? করতেন না; তবুও তিনি দলের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছেন—এটিই মূল্যবান।’’ তিনি আরো স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘পার্টি অফিসে একজন সম্মানিত শিল্পী এসে এধরনের ব্যবহার করা যায় না। যাঁরাই এ ধরনের বাজে আচরণ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

অপরদিকে কনকচাঁপা নিজের ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে অন্যায় হয়েছে মনে হলে সে বিচার তিনি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। পোস্টে তিনি দলের প্রতি নিজের আনুগত্য ও দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি সব ফয়সালার কারিগর আল্লাহ। দলের সিদ্ধান্তে আমি পূর্ণ সম্মান ও আস্থা রাখি।’’

কনকচাঁপা লেখেন, তার রাজনীতিতে আগমন ২০১৩ সালে; তৎকালীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে রাজনীতিতে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন এবং সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দেন। ২০১৮ সালে তিনি একটি শক্তিশালী রাজনীতিবিদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মনোনয়ন পান—সেই পথ সহজ ছিল না। তিনি স্বীকার করেন যে দীর্ঘ সময় নানা আঘাত ও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন এবং ফলে শিল্পী হিসেবে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

পোস্টে কনকচাঁপা লিখেছেন, গান না গাওয়ার ফলে তার জীবনে অনেক শূন্যতা এসেছে; তিনি নিজেকে ব্যস্ত রাখতে ছবির কাজ, পরিবার এবং রান্নায় মন দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন করেন, তার ত্যাগ ও সম্মানহানির কোনো স্বীকৃতি না থাকায় কষ্ট লাগে। এ বছর তিনি তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতিক্রমে নিজের নির্বাচনী এলাকায় কাজ শুরু করেছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে দলের ভেতরের বাধাবিপত্তি কাটিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।

কনকচাঁপা বলছেন, দল তাঁকে মনোনীত না করলেও সেটি তিনি মেনে নিয়েছেন এবং দলের সিদ্ধান্তকে সম্মানী মনে করেন। তবু নির্দিষ্ট কিছু মহল ভুল তথ্য ছড়িয়ে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ব্যক্তিগত সহিংসতা বা কুপ্রচার দলীয় ইমেজ ক্ষুণ্ণ করবে না এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে দলের নামে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে সেটি দুঃখজনক।

ঘটনাটি বিএনপির ভেতরে শৃঙ্খলা ও অর্থবোধ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। রিজভীর মন্তব্য অনুযায়ী দলের শৃঙ্খলা রক্ষা ও সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর কনকচাঁপার বক্তব্য থেকে দেখা যায় তিনি দল ও তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করলেও ব্যক্তিগতভাবে যে আঘাত সামলেছেন তাতে মর্মাহত ও আক্ষেপিত।