১১:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ব্রেনান: ট্রাম্প ‘মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ’ — ২৫তম সংশোধনী কার্যকর করার আভাস

সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান আবারও দাবি করেছেন যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোভাবগতভাবে অস্থিতিশীল এবং তাই তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পথে ২৫তম সংশোধনী বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। স্থানীয় সময় গত শনিবার এমএস নাউকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রেনান বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণ ও ইরান নিয়ে দেওয়া কঠোর হুমকি তাকে কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে অযোগ্য করে তুলেছে।

ব্রেনান বলেন, ‘‘ইরানের বিরুদ্ধে সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার মতো হুমকি কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের প্রেসিডেন্টের কাজ হতে পারে না।’’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে এই ধরনের আচরণ যখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক শক্তির নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত, তখন তা গ্লোবাল নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

সামরিক ও রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করে ২৫তম সংশোধনীটি ১৯৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে যোগ করা হয়। এই বিধান অনুসারে যদি ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার বড় অংশ মনে করেন যে প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তবে তাঁকে সাময়িকভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়; পরে কংগ্রেসে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া থাকে। ব্রেনান উল্লেখ করেছেন যে সংশোধনীটির প্রণেতারা এমন অস্থির কর্মকাণ্ডকে লক্ষ্য করেই বিধানটি তৈরির কথা ভাবেছিলেন।

ব্রেনানের এই তীব্র মন্তব্যের পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে। হোয়াইট হাউসের সমর্থকরা তার বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্রেনানের আপত্তিজনক মন্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ছায়াও থাকতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কালীন কিছু তদন্তের বিষয় হিসেবে ব্রেনান ও এফবিআইয়ের সাবেক প্রধান জেমস কোমির নাম উঠে এসেছে; বিরোধীরা এসব তদন্তকে ট্রাম্পের ‘ব্যক্তিগত আক্রোশ’ হিসেবে দেখেন।

তবুও ব্রেনান নিজে স্পষ্ট করেছেন যে ব্যক্তিগত আক্রমণের ভয় তাকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে চুপ করে থাকতে বাধ্য করবে না। ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং রাজধানীতে এই ধরনের হুঁশিয়ারি থাকার কারণে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরিবেশ এখন তীব্র উত্তেজনার মধ্যে আছে, এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত-গ্রহণ ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ব্রেনান: ট্রাম্প ‘মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ’ — ২৫তম সংশোধনী কার্যকর করার আভাস

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (সিআইএ) সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান আবারও দাবি করেছেন যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প মনোভাবগতভাবে অস্থিতিশীল এবং তাই তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পথে ২৫তম সংশোধনী বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। স্থানীয় সময় গত শনিবার এমএস নাউকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রেনান বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণ ও ইরান নিয়ে দেওয়া কঠোর হুমকি তাকে কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে অযোগ্য করে তুলেছে।

ব্রেনান বলেন, ‘‘ইরানের বিরুদ্ধে সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার মতো হুমকি কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের প্রেসিডেন্টের কাজ হতে পারে না।’’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে এই ধরনের আচরণ যখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক শক্তির নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত, তখন তা গ্লোবাল নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।

সামরিক ও রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করে ২৫তম সংশোধনীটি ১৯৬৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে যোগ করা হয়। এই বিধান অনুসারে যদি ভাইস-প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার বড় অংশ মনে করেন যে প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তবে তাঁকে সাময়িকভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়; পরে কংগ্রেসে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া থাকে। ব্রেনান উল্লেখ করেছেন যে সংশোধনীটির প্রণেতারা এমন অস্থির কর্মকাণ্ডকে লক্ষ্য করেই বিধানটি তৈরির কথা ভাবেছিলেন।

ব্রেনানের এই তীব্র মন্তব্যের পর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়েছে। হোয়াইট হাউসের সমর্থকরা তার বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্রেনানের আপত্তিজনক মন্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ছায়াও থাকতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কালীন কিছু তদন্তের বিষয় হিসেবে ব্রেনান ও এফবিআইয়ের সাবেক প্রধান জেমস কোমির নাম উঠে এসেছে; বিরোধীরা এসব তদন্তকে ট্রাম্পের ‘ব্যক্তিগত আক্রোশ’ হিসেবে দেখেন।

তবুও ব্রেনান নিজে স্পষ্ট করেছেন যে ব্যক্তিগত আক্রমণের ভয় তাকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে চুপ করে থাকতে বাধ্য করবে না। ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং রাজধানীতে এই ধরনের হুঁশিয়ারি থাকার কারণে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরিবেশ এখন তীব্র উত্তেজনার মধ্যে আছে, এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত-গ্রহণ ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।