০৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল; সরবরাহ সংকট আরও গুরুতর হওয়ার আশঙ্কা

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তিন সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণার পরও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে এবং সরবরাহ সংকট শিগগিরই অর্থাৎ অদূর ভবিষ্যতে কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাত পেট্রোলিয়াম সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৫.৮০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেল (WTI) শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬.৫০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছিল। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির অবরোধ বা চলাচলে একেবারে রোধ সেটি বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহ ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রফতানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে পরিবহন করা হয়; সেখানে জটিলতা থাকলে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় বিঘ্ন পড়ে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরান যদি কার্যকর ও সমন্বিত কোনো শান্তি প্রস্তাব না দেয় ততক্ষণ তাদের কূটনৈতিক ও প্রয়োজনে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে।

এই ছায়াযুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ জ্বালানি আমদানিতে সমস্যার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদিও নিজের মজুদ ও রপ্তানি বাড়িয়ে বাজারে অংশ দিয়েছে, তবু তা বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত নয়। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, সরবরাহ লাইনে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন কাটিয়ে না উঠলে তেলের দাম আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এতে কেবল জ্বালানির মূল্যই বাড়বে না—পরিবহন, উৎপাদন খরচ ও উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও থাকবে।

বাজারে বর্তমানে অস্থিরতা বাড়া এবং ভবিষ্যৎ সরবরাহ-চাহিদা অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে দিচ্ছে। যদি কূটনৈতিক পথে দ্রুত সমাধান না হয়, তবে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা ও স্থানীয়ভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়া চলতে থাকবে—এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে শিল্প ও পরিবহণ খাতে ব্যাপকভাবে পড়বে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল; সরবরাহ সংকট আরও গুরুতর হওয়ার আশঙ্কা

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তিন সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণার পরও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে এবং সরবরাহ সংকট শিগগিরই অর্থাৎ অদূর ভবিষ্যতে কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাত পেট্রোলিয়াম সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৫.৮০ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন অপরিশোধিত তেল (WTI) শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬.৫০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছিল। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালির অবরোধ বা চলাচলে একেবারে রোধ সেটি বিশ্বজুড়ে জ্বালানির সরবরাহ ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রফতানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে পরিবহন করা হয়; সেখানে জটিলতা থাকলে সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় বিঘ্ন পড়ে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না করলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরান যদি কার্যকর ও সমন্বিত কোনো শান্তি প্রস্তাব না দেয় ততক্ষণ তাদের কূটনৈতিক ও প্রয়োজনে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে।

এই ছায়াযুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপের অনেক দেশ জ্বালানি আমদানিতে সমস্যার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদিও নিজের মজুদ ও রপ্তানি বাড়িয়ে বাজারে অংশ দিয়েছে, তবু তা বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত নয়। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, সরবরাহ লাইনে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন কাটিয়ে না উঠলে তেলের দাম আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এতে কেবল জ্বালানির মূল্যই বাড়বে না—পরিবহন, উৎপাদন খরচ ও উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও থাকবে।

বাজারে বর্তমানে অস্থিরতা বাড়া এবং ভবিষ্যৎ সরবরাহ-চাহিদা অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে দিচ্ছে। যদি কূটনৈতিক পথে দ্রুত সমাধান না হয়, তবে জ্বালানির মূল্য ওঠানামা ও স্থানীয়ভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়া চলতে থাকবে—এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তা থেকে শুরু করে শিল্প ও পরিবহণ খাতে ব্যাপকভাবে পড়বে।