০৭:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ভবানিপুরে শুভেন্দু অধিকারীকে হেনস্তার অভিযোগ, উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলাকালে কলকাতার ভবানিপুরে তীব্র উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরে হেনস্তা করেছেন এবং মারধরের চেষ্টা চালায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবানিপুরের একটি বুথে শুভেন্দুকে ঘিরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়। অভিযোগ, কিছু সময় পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে এবং সেখানে উপস্থিত লোকজন তাঁকে আক্রমণের চেষ্টা করেছে। এসব স্লোগানের উত্তরে শুভেন্দু অধিকারীও ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই’ বলে স্লোগান দেন।

ঘটনাস্থল দ্রুত অশান্ত হয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকার্য করে, শুভেন্দুকে চারপাশ থেকে ঘিরে দিয়ে একটি গাড়িতে তুলে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সামনে তিনি জানান যে বুথে থাকা কেউ প্রকৃত ভোটার ছিলেন না; তাঁর দাবি, সেখানে উপস্থিতরা বহিরাগত এবং তাঁকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছিল।

শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার পর কড়া ও বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন যে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ারা মূলত বাংলাদেশি মুসলিম এবং তারা পরাজয়ের ভয়ে আতঙ্কিত। তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়বেন—এমন মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টির কারণ হয়েছে।

ঘটনাস্থলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতি দেখা গেলে স্থানীয় পুলিশ লাঠিচার্জ করে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একাধিকভাবে কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও ভবানিপুরের এই সংঘর্ষ দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বড় ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

এই নির্বাচনের এই দফায় রাজ্যের সাতটি বিভাগের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আজ দ্বিতীয় দফায় সরকারি তথ্য অনুযায়ী ৩ কোটি ২১ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ভারতের নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে, চূড়ান্ত ফলাফল আগামী ৪ মে প্রকাশ করা হবে।

টানা তিনবার শাসনরত তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য ভাঙতে বিজেপি এবার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে; ভবানিপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাও প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা নতুন করে浮ে তুলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভোটকেন্দ্রে যাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে তা নিশ্চিত করার প্রতি এখন নজর আরও সজাগ থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ভবানিপুরে শুভেন্দু অধিকারীকে হেনস্তার অভিযোগ, উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফা

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলাকালে কলকাতার ভবানিপুরে তীব্র উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরে হেনস্তা করেছেন এবং মারধরের চেষ্টা চালায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবানিপুরের একটি বুথে শুভেন্দুকে ঘিরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়। অভিযোগ, কিছু সময় পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে এবং সেখানে উপস্থিত লোকজন তাঁকে আক্রমণের চেষ্টা করেছে। এসব স্লোগানের উত্তরে শুভেন্দু অধিকারীও ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘হিন্দু হিন্দু ভাই ভাই’ বলে স্লোগান দেন।

ঘটনাস্থল দ্রুত অশান্ত হয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকার্য করে, শুভেন্দুকে চারপাশ থেকে ঘিরে দিয়ে একটি গাড়িতে তুলে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সামনে তিনি জানান যে বুথে থাকা কেউ প্রকৃত ভোটার ছিলেন না; তাঁর দাবি, সেখানে উপস্থিতরা বহিরাগত এবং তাঁকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালানো হয়েছিল।

শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার পর কড়া ও বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন যে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ারা মূলত বাংলাদেশি মুসলিম এবং তারা পরাজয়ের ভয়ে আতঙ্কিত। তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়বেন—এমন মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টির কারণ হয়েছে।

ঘটনাস্থলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতি দেখা গেলে স্থানীয় পুলিশ লাঠিচার্জ করে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একাধিকভাবে কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও ভবানিপুরের এই সংঘর্ষ দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে বড় ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

এই নির্বাচনের এই দফায় রাজ্যের সাতটি বিভাগের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আজ দ্বিতীয় দফায় সরকারি তথ্য অনুযায়ী ৩ কোটি ২১ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। ভারতের নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে, চূড়ান্ত ফলাফল আগামী ৪ মে প্রকাশ করা হবে।

টানা তিনবার শাসনরত তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য ভাঙতে বিজেপি এবার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে; ভবানিপুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাও প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা নতুন করে浮ে তুলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভোটকেন্দ্রে যাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে তা নিশ্চিত করার প্রতি এখন নজর আরও সজাগ থাকবে।