১০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শুভেন্দু অধিকারী হতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম এগিয়ে আসছে বলে রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয় পরবর্তী প্রস্তুতিতে তার নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, আগামী শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠক হওয়ার কথা। ওই বৈঠকেই বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করা হতে পারে। দলীয় সূত্র বলছে, রাজ্য সভাপতি সৌমিক ভট্টাচার্য তার নাম প্রস্তাব করবেন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ—এটি ঘোষণা করতে পারেন।

বৈঠকের পরে শুভেন্দু অধিকারী ও দলের শীর্ষ নেতারা রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। পরের দিন শনিবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে—এ দিনটি রবীন্দ্র জয়ন্তীর সঙ্গে মিলায় হওয়ায় অনুষ্ঠানের বিশেষ তাৎপর্য থাকছে। সূত্রে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্ব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর মাঠ প্রশাসনিক দক্ষতা ও স্থানীয় প্রভাবই বিজেপির বড় জয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ২০২১ সালের নন্দীগ্রামে এবং ২০২৬ সালে ভবানীপুরে তৃণমূলের প্রধান নেত্রীকে পরাজিত করে তিনি দেশের রাজনীতি ও বঙ্গর sandে কেন্দ্রীয় মনোযোগ পেয়েছিলেন।

অমিত শাহের আগে করা মন্তব্যগুলোও এই সিদ্ধান্তকে প্রেক্ষাপট দিচ্ছে—তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীকে একজন বাঙালি, বাংলা ভাষাভাষী ও বাংলায় পড়াশোনা করা হওয়া উচিত। নীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব মানদণ্ডে শুভেন্দু অধিকারী পুরোপুরি খাঁটি প্রতিফলন করেন।

তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে আরও একটি ধাপ পেরোতে হবে—বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত হওয়া এবং রাজভবনে সরকার গঠনের দাবি জমা দেওয়া। এসব আনুষ্ঠানিকতা পাশ করলে শপথগ্রহণ ও প্রশাসনিক রূপায়ণ পরবর্তী ধাপ হিসেবে হবে।

শুভেন্দুর রাজনৈতিক সফর দীর্ঘ ও ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণ। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেয়ার আগে তিনি বিধায়ক, সাংসদ ও মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনে ভূমি উচ্ছেদ বিরোধী কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তিনি সুবজ্ঞাতি অর্জন করেন। ২০২০ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে মতবিরোধের পরে তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগ দিয়ে মমতা সরকারকে বিভিন্ন অভিযোগ এনে চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করেন।

রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও শাসন ব্যবস্থায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্ব কেমন প্রভাব ফেলবে, তা আগামী কয়েকদিনের আনুষ্ঠানিকতা ও দলীয় ঘোষণা স্পষ্ট করে দেবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

শুভেন্দু অধিকারী হতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ ০২:২৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম এগিয়ে আসছে বলে রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয় পরবর্তী প্রস্তুতিতে তার নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, আগামী শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠক হওয়ার কথা। ওই বৈঠকেই বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করা হতে পারে। দলীয় সূত্র বলছে, রাজ্য সভাপতি সৌমিক ভট্টাচার্য তার নাম প্রস্তাব করবেন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ—এটি ঘোষণা করতে পারেন।

বৈঠকের পরে শুভেন্দু অধিকারী ও দলের শীর্ষ নেতারা রাজভবনে গিয়ে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। পরের দিন শনিবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে—এ দিনটি রবীন্দ্র জয়ন্তীর সঙ্গে মিলায় হওয়ায় অনুষ্ঠানের বিশেষ তাৎপর্য থাকছে। সূত্রে বলা হয়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্ব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর মাঠ প্রশাসনিক দক্ষতা ও স্থানীয় প্রভাবই বিজেপির বড় জয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ২০২১ সালের নন্দীগ্রামে এবং ২০২৬ সালে ভবানীপুরে তৃণমূলের প্রধান নেত্রীকে পরাজিত করে তিনি দেশের রাজনীতি ও বঙ্গর sandে কেন্দ্রীয় মনোযোগ পেয়েছিলেন।

অমিত শাহের আগে করা মন্তব্যগুলোও এই সিদ্ধান্তকে প্রেক্ষাপট দিচ্ছে—তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীকে একজন বাঙালি, বাংলা ভাষাভাষী ও বাংলায় পড়াশোনা করা হওয়া উচিত। নীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব মানদণ্ডে শুভেন্দু অধিকারী পুরোপুরি খাঁটি প্রতিফলন করেন।

তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে আরও একটি ধাপ পেরোতে হবে—বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত হওয়া এবং রাজভবনে সরকার গঠনের দাবি জমা দেওয়া। এসব আনুষ্ঠানিকতা পাশ করলে শপথগ্রহণ ও প্রশাসনিক রূপায়ণ পরবর্তী ধাপ হিসেবে হবে।

শুভেন্দুর রাজনৈতিক সফর দীর্ঘ ও ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণ। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেয়ার আগে তিনি বিধায়ক, সাংসদ ও মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনে ভূমি উচ্ছেদ বিরোধী কমিটির নেতৃত্ব দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তিনি সুবজ্ঞাতি অর্জন করেন। ২০২০ সালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে মতবিরোধের পরে তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগ দিয়ে মমতা সরকারকে বিভিন্ন অভিযোগ এনে চ্যালেঞ্জ জানাতে শুরু করেন।

রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও শাসন ব্যবস্থায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্ব কেমন প্রভাব ফেলবে, তা আগামী কয়েকদিনের আনুষ্ঠানিকতা ও দলীয় ঘোষণা স্পষ্ট করে দেবে।