০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

তেলের মূল্যবৃদ্ধির জেরে কর কমিয়েছে ৩৯ দেশ

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার প্রতিক্রিয়ায় ৩৯টি দেশ জ্বালানি কর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক মাসের মধ্যে এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণকারী দেশগুলোর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়া নজরকাড়া। সরকারগুলো বলছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে চাপ কমাতে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজস্বের কিছু অংশ ছেড়ে দেওয়া অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে।

ভৌগোলিকভাবে এই করহ্রাসের ধারা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ইউরোপে। ওই ৩৯টির মধ্যে ১৯টি দেশই ইউরোপীয়, যারা জ্বালানির ওপর আরোপিত শুল্ক বা ভ্যাট কমিয়ে দ্রুত বাজার স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপীয় দেশগুলো মিলিয়ে জ্বালানি খাতে প্রায় ৯৫০ কোটি ইউরো খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে; এর মধ্যে স্পেন একাই প্রায় ৩৫০ কোটি ইউরো, জার্মানি ১৬০ কোটি ইউরো এবং ইতালি সাময়িকভাবে ২০ শতাংশ করছাড় দিয়ে প্রায় ১০০ কোটি ইউরো খরচের পরিকল্পনা নিয়েছে।

মূলত ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকেই সঙ্কট তীব্র হয়। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা পড়ে কৌশলগত সরবরাহশৃঙ্খলে বড় ধাক্কা লেগেছে। যেহেতু মর্ণী নৌপথ দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় এক পঞ্চমাংশ যায়, সামান্য অস্থিরতাও সরবরাহ কমিয়ে আন্তর্জাতিক দামের উত্থান ঘটিয়েছে। বাজার সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম নিয়ন্ত্রণে কঠিন পরিস্থিতিহয়ে থাকতে পারে বলেই বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।

তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ব্যাপক করছাড়ের সিদ্ধান্তকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বারবার সতর্ক করেছে। সংস্থার পরামর্শ, এমন সহায়তা হলো সুনির্দিষ্ট, লক্ষ্যভিত্তিক এবং সাময়িক হওয়া উচিত। কারণ বহু দেশের সরকারি ঋণ ইতিমধ্যে বেশি; স্থায়ীভাবে রাজস্ব কমালে জাতীয় অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে এবং গরিব জনগোষ্ঠীর কাছে প্রকৃত সুবিধা পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

জ্বালানি খাতে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, যদি একসঙ্গে অনেক দেশ কর কমায় তাহলে আন্তর্জাতিক চাহিদা কৃত্রিমভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। তাই অনেক দেশ বিকল্পভাবে দামের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ বা বিক্রেতাদের মুনাফায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের মতো নীতি গ্রহণ করছে।

দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপীয় কমিশন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং এমন বাজারঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

তেলের মূল্যবৃদ্ধির জেরে কর কমিয়েছে ৩৯ দেশ

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার প্রতিক্রিয়ায় ৩৯টি দেশ জ্বালানি কর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক মাসের মধ্যে এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণকারী দেশগুলোর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়া নজরকাড়া। সরকারগুলো বলছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে চাপ কমাতে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজস্বের কিছু অংশ ছেড়ে দেওয়া অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে।

ভৌগোলিকভাবে এই করহ্রাসের ধারা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ইউরোপে। ওই ৩৯টির মধ্যে ১৯টি দেশই ইউরোপীয়, যারা জ্বালানির ওপর আরোপিত শুল্ক বা ভ্যাট কমিয়ে দ্রুত বাজার স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপীয় দেশগুলো মিলিয়ে জ্বালানি খাতে প্রায় ৯৫০ কোটি ইউরো খরচের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে; এর মধ্যে স্পেন একাই প্রায় ৩৫০ কোটি ইউরো, জার্মানি ১৬০ কোটি ইউরো এবং ইতালি সাময়িকভাবে ২০ শতাংশ করছাড় দিয়ে প্রায় ১০০ কোটি ইউরো খরচের পরিকল্পনা নিয়েছে।

মূলত ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকেই সঙ্কট তীব্র হয়। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা পড়ে কৌশলগত সরবরাহশৃঙ্খলে বড় ধাক্কা লেগেছে। যেহেতু মর্ণী নৌপথ দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় এক পঞ্চমাংশ যায়, সামান্য অস্থিরতাও সরবরাহ কমিয়ে আন্তর্জাতিক দামের উত্থান ঘটিয়েছে। বাজার সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম নিয়ন্ত্রণে কঠিন পরিস্থিতিহয়ে থাকতে পারে বলেই বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।

তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ব্যাপক করছাড়ের সিদ্ধান্তকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বারবার সতর্ক করেছে। সংস্থার পরামর্শ, এমন সহায়তা হলো সুনির্দিষ্ট, লক্ষ্যভিত্তিক এবং সাময়িক হওয়া উচিত। কারণ বহু দেশের সরকারি ঋণ ইতিমধ্যে বেশি; স্থায়ীভাবে রাজস্ব কমালে জাতীয় অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে এবং গরিব জনগোষ্ঠীর কাছে প্রকৃত সুবিধা পৌঁছানোও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

জ্বালানি খাতে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, যদি একসঙ্গে অনেক দেশ কর কমায় তাহলে আন্তর্জাতিক চাহিদা কৃত্রিমভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। তাই অনেক দেশ বিকল্পভাবে দামের ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ বা বিক্রেতাদের মুনাফায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের মতো নীতি গ্রহণ করছে।

দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপীয় কমিশন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং এমন বাজারঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হয়।