০৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
একনেকে ৩ হাজার ৮৯১ কোটিতে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন বিনা জামানতে তরুণ উদ্যোক্তাদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ, স্টার্টআপে মাত্র ৪% সুদ অবকাঠামো উন্নয়নে দক্ষতা বাড়াতে সেতু কর্তৃপক্ষের তিন দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু একনেক সভায় ১০ প্রকল্পে ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকার অনুমোদন চুক্তি ব্যবস্থাপনায় বিমা জ্ঞানে সেতু কর্তৃপক্ষের তিনদিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ শুরু মস্কোয় আলোচনায় বাংলাদেশ-রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় ও জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার বাংলাদেশের ওষুধ ১৪০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিশ্ব অ্যাক্রেডিটেশন দিবসে প্রধানমন্ত্রী: টিকে থাকতে উদ্ভাবনী ও টেকসই উৎপাদন অপরিহার্য সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে আনসার-ভিডিপির ভূমিকা শক্তিশালী হয়েছে বাংলাদেশি ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে ১৪০ দেশে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এক যুগ পেরিয়ে ফের ভাইরাল ‘পাপাউতে’—বাবা হারানোর বেদনাপূর্ণ গল্প আবার আলোচনায়

২০২৬ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও সাড়া জাগিয়েছে বেলজিয়ান শিল্পী স্ট্রমে-এর (পল ভ্যান হেভেন) জনপ্রিয় গান ‘পাপাউতে’। ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই গানের ঢেউ টিকটক, ইনস্টাগ্রাম রিলসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে—নাচ ও ছন্দ দিয়ে অনেকে বিনোদন খুঁজছেন, কিন্তু গানের মর্মবাহী পটভূমিও নতুন করে নজর কাড়ছে।

গানের শিরোনামটি এসেছে ফরাসি বাক্য ‘Papa, où t’es?’ থেকে, যার অর্থ ‘বাবা, তুমি কোথায়?’। গানের প্রতিটি লাইনে বাবা না থাকার যন্ত্রণা, ত্যাগ ও অনুপস্থিতির খালি জায়গা শক্তভাবে ফুটে ওঠে। স্ট্রমে নিজে কবারো মা-বাবার অনুপস্থিতিকে সামনে এনে বলেছেন যে, এই গান তার ব্যক্তিগত ইতিহাসের এক নির্মম স্মৃতি—তার বাবা ১৯৯৪ সালের রোয়ান্ডা গণহত্যার সময় নিহত হন। তখন স্ট্রমে মাত্র নয় বছর বয়সে এমন এক অপূরণীয় শূন্যতার মুখে পড়েন।

সাক্ষাৎকার ও শিল্পী জীবনের বিভিন্ন প্রকাশে স্ট্রমে জানিয়েছেন, তার বাবা স্থপতি ছিল এবং বেলজিয়াম ও রোয়ান্ডার মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ব্যস্ততার কারণে ছেলেকে তিনি নিয়মিত সময় দিতেন না; স্ট্রমে বলছেন, কেবল বয়সিক সাক্ষাৎকগুলোই তার কাছে ছিল বাবার উপস্থিতির প্রায় একমাত্র দেখা। সেই অনুপস্থিতি ও অপ্রাপ্যতার বেদনা ‘পাপাউতে’-র কেন্দ্রবিন্দু।

গানটির মিউজিক ভিডিওয় স্ট্রমে প্রায়শই জ্যামিতিক নকশার পোশাক পরা একটি পুতুলের মতো স্থির হয়ে থাকা দৃশ্যে দেখা যায়—এটি বাবার অনুপস্থতির চিত্র হিসেবে কাজ করে। এই শৈল্পিক উপস্থাপনা, নাচ ও ছন্দ মিলিয়ে গানটি কেবল বিনোদন নয়, বরং ব্যক্তিগত শূন্যতা ও আবেগের গভীরতা ছড়িয়ে দেয়।

স্ট্রমে-এর আগে ‘Alors on danse’ (২০০৯) বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দেয় এবং তার প্রথম অ্যালবাম ‘Cheese’ ব্যাপক সাফল্য পায়। সেই প্রতিভা ও নিরিখেই ‘পাপাউতে’র পুনরুজ্জীবন প্রমাণ করে যে শক্তিশালী শিল্পকর্ম সময়ের বাধা জানে না। বর্তমানে নেটিজেনরা গানের তালে নাচছেন, তবে অনেকেই গানটির নেপথ্যে থাকা করুণ কাহিনিটিও জানতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন—বাবা হারানো সেই তীব্র অভিজ্ঞতা বহু শ্রোতার হৃদয়ে共鸣 সৃষ্টি করছে।

সব মিলিয়ে ‘পাপাউতে’ আবারও স্মরণ করিয়ে দিল যে স্ট্রমে সমসাময়িক বিশ্বসঙ্গীতে কেন একজন প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে বিবেচিত—তার গান শুধু ছন্দে নয়, মানুষের জীবনের অতল গল্পও বলে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বিনা জামানতে তরুণ উদ্যোক্তাদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ, স্টার্টআপে মাত্র ৪% সুদ

এক যুগ পেরিয়ে ফের ভাইরাল ‘পাপাউতে’—বাবা হারানোর বেদনাপূর্ণ গল্প আবার আলোচনায়

প্রকাশিতঃ ১০:৩৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

২০২৬ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও সাড়া জাগিয়েছে বেলজিয়ান শিল্পী স্ট্রমে-এর (পল ভ্যান হেভেন) জনপ্রিয় গান ‘পাপাউতে’। ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই গানের ঢেউ টিকটক, ইনস্টাগ্রাম রিলসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে—নাচ ও ছন্দ দিয়ে অনেকে বিনোদন খুঁজছেন, কিন্তু গানের মর্মবাহী পটভূমিও নতুন করে নজর কাড়ছে।

গানের শিরোনামটি এসেছে ফরাসি বাক্য ‘Papa, où t’es?’ থেকে, যার অর্থ ‘বাবা, তুমি কোথায়?’। গানের প্রতিটি লাইনে বাবা না থাকার যন্ত্রণা, ত্যাগ ও অনুপস্থিতির খালি জায়গা শক্তভাবে ফুটে ওঠে। স্ট্রমে নিজে কবারো মা-বাবার অনুপস্থিতিকে সামনে এনে বলেছেন যে, এই গান তার ব্যক্তিগত ইতিহাসের এক নির্মম স্মৃতি—তার বাবা ১৯৯৪ সালের রোয়ান্ডা গণহত্যার সময় নিহত হন। তখন স্ট্রমে মাত্র নয় বছর বয়সে এমন এক অপূরণীয় শূন্যতার মুখে পড়েন।

সাক্ষাৎকার ও শিল্পী জীবনের বিভিন্ন প্রকাশে স্ট্রমে জানিয়েছেন, তার বাবা স্থপতি ছিল এবং বেলজিয়াম ও রোয়ান্ডার মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ব্যস্ততার কারণে ছেলেকে তিনি নিয়মিত সময় দিতেন না; স্ট্রমে বলছেন, কেবল বয়সিক সাক্ষাৎকগুলোই তার কাছে ছিল বাবার উপস্থিতির প্রায় একমাত্র দেখা। সেই অনুপস্থিতি ও অপ্রাপ্যতার বেদনা ‘পাপাউতে’-র কেন্দ্রবিন্দু।

গানটির মিউজিক ভিডিওয় স্ট্রমে প্রায়শই জ্যামিতিক নকশার পোশাক পরা একটি পুতুলের মতো স্থির হয়ে থাকা দৃশ্যে দেখা যায়—এটি বাবার অনুপস্থতির চিত্র হিসেবে কাজ করে। এই শৈল্পিক উপস্থাপনা, নাচ ও ছন্দ মিলিয়ে গানটি কেবল বিনোদন নয়, বরং ব্যক্তিগত শূন্যতা ও আবেগের গভীরতা ছড়িয়ে দেয়।

স্ট্রমে-এর আগে ‘Alors on danse’ (২০০৯) বিশ্বজুড়ে পরিচিতি এনে দেয় এবং তার প্রথম অ্যালবাম ‘Cheese’ ব্যাপক সাফল্য পায়। সেই প্রতিভা ও নিরিখেই ‘পাপাউতে’র পুনরুজ্জীবন প্রমাণ করে যে শক্তিশালী শিল্পকর্ম সময়ের বাধা জানে না। বর্তমানে নেটিজেনরা গানের তালে নাচছেন, তবে অনেকেই গানটির নেপথ্যে থাকা করুণ কাহিনিটিও জানতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন—বাবা হারানো সেই তীব্র অভিজ্ঞতা বহু শ্রোতার হৃদয়ে共鸣 সৃষ্টি করছে।

সব মিলিয়ে ‘পাপাউতে’ আবারও স্মরণ করিয়ে দিল যে স্ট্রমে সমসাময়িক বিশ্বসঙ্গীতে কেন একজন প্রভাবশালী শিল্পী হিসেবে বিবেচিত—তার গান শুধু ছন্দে নয়, মানুষের জীবনের অতল গল্পও বলে।